কি দোষ ছিল সেই নিরাপরাধ মেয়েটার? দুশ্চরিত্র নায়ক অর্চির চরম প্রতারণার শিকার মুন! মানসিক কষ্ট পেয়ে ছাড়তে হয়েছিল পৃথিবী! মনে আছে ইষ্টি কুটুম ধারাবাহিকের মুনকে?

২০১১ সালের ২৪শে অক্টোবর স্টার জলসার (Star Jalsha) পর্দায় যাত্রা শুরু করেছিল ‘ইষ্টি কুটুম’ (Ishti Kutum)। ম্যাজিক মোমেন্টস মোশন পিকচার্সের প্রযোজনায় এই ধারাবাহিকের চিত্রনাট্য, সংলাপ ও সৃজনশীল পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন বিখ্যাত লেখিকা লীনা গঙ্গোপাধ্যায় (Leena Gangopadhyay)। ধারাবাহিকটি পরিচালনা করেন শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায় ও সুজিত পাইন। এই ধারাবাহিকের মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন ঋষি কৌশিক, রণিতা দাস এবং অঙ্কিতা চক্রবর্তী। মূলত এই তিনজনকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছিল টানটান উত্তেজনার এক ত্রিকোণ প্রেমের আখ্যান।
ধারাবাহিকের গল্প শুরু হয়েছিল সাংবাদিক অর্কিকে কেন্দ্র করে, যে পেশার তাগিদে জঙ্গলমহলের পলাশবন গ্রামে গিয়ে পরিস্থিতির চাপে পড়ে এক আদিবাসী মেয়ে বাহার সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে বাধ্য হয়। কিন্তু কলকাতায় তখন অর্কির জন্য অপেক্ষা করছিল তার সাত বছরের প্রেমিকা মুন। অর্কি কলকাতায় ফিরে এসে বাহাকে কাজের মেয়ে পরিচয় দিয়ে নিজের বাড়িতে রাখলেও, পরবর্তীকালে পরিস্থিতির ফেরে বাহার প্রতি তার ভালোবাসা জন্মায়। মুন পেশায় একজন কলেজের অধ্যাপিকা এবং আভিজাত্য ও শিক্ষায় অর্কির উপযুক্ত সঙ্গিনী হওয়া সত্ত্বেও, নিজের অজান্তেই সে এক জটিল দাম্পত্য বিবাদের অংশ হয়ে দাঁড়ায়।
মুন চরিত্রটি নিয়ে দর্শকদের সবচেয়ে বেশি আক্ষেপ ও ক্ষোভের জায়গা হলো তার নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগ। যে মানুষটার সাথে সাত বছরের সম্পর্ক ছিল, যাকে ছাড়া সে বাঁচবে না বলে একসময় আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিল, সেই মানুষটার ভালোবাসার সম্মান রাখতেই শেষ পর্যন্ত সে নিজেকে সরিয়ে নেয়। এমনকি অর্কির যাতে কোনো বদনাম না হয়, তাই সে সবার সামনে মিথ্যা বদনাম কাঁধে নিয়ে বলে বেড়ায় যে সে অন্য সম্পর্কে জড়িয়েছে। শুধু তাই নয়, নিজের ইচ্ছায় অর্কিকে ডিভোর্স দেয় যাতে অর্কি বাহাকে সামাজিক স্বীকৃতি দিতে পারে। পরবর্তীতে যখন জানা যায় বাহা আসলে মুনেরই বাবার অন্য পক্ষের সন্তান তখনও সে নিজের বোন হিসেবেই বাহাকে সম্মান দিতে কার্পণ্য করেনি।
দর্শকদের মতে, ধারাবাহিকের লেখিকা মুন চরিত্রটির ওপর বড্ড অবিচার করেছেন। একজন সুশিক্ষিত ও স্বাধীনচেতা মেয়ে হয়েও শেষ পর্যন্ত তাকে শুধু ‘পরিত্যক্তা’ হিসেবেই দেখানো হয়েছে। অনুরাগীদের মতে, সিরিয়ালের জগতে মুনের মতো ‘মহান’ চরিত্র খুব কমই দেখা যায়। অনেক ভক্তের দাবি, বাহার প্রতি সহানুভূতি দেখাতে গিয়ে চিত্রনাট্যে মুনের আবেগকে চরম অপমান করা হয়েছে। একজন দীর্ঘকালীন জীবনসঙ্গিনী হিসেবে তাঁর যে নূন্যতম অধিকার ছিল, সেটা ফিরিয়ে না দিয়ে বরং তাকে বিসর্জনের পথে ঠেলে দেওয়াটা অনেক দর্শকেরই মেনে নিতে কষ্ট হয়েছিল।
আরও পড়ুনঃ ‘এমনটা আগে কখনো দেখিনি, ভিডিওটা করতে বাধ্য হলাম!’ ভরদুপুরে শুটিং সেটে পৌঁছে অবাক অভিনেত্রী! ক্যামেরাবন্দী করে সেই দৃশ্য দেখালেন সোহিনী সান্যাল!
‘ইষ্টি কুটুম’-এর এই ধারা পরবর্তীতে আরও বহু বাংলা মেগা সিরিয়ালে দেখা গেছে, যেখানে বারবার পরকীয়া বা একাধিক বিবাহের গল্পকেই মহিমান্বিত করা হয়েছে। সমাজতাত্ত্বিকদের একাংশের মতে, এই ধরণের গল্প সমাজের কাছে নেতিবাচক বার্তা পাঠায়, যেখানে নৈতিকতা বা দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের চেয়ে আকস্মিক আবেগকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। তা সত্ত্বেও, আজ এক দশক পরেও মুনের মতো ট্র্যাজিক চরিত্রগুলোর জন্য দর্শকদের এই দীর্ঘশ্বাস প্রমাণ করে দেয় যে, খলনায়িকা নয় বরং মানুষের মনে নায়িকার আসনে আজও জায়গা করে নিয়েছেন কমলিকা ওরফে মুন।

