‘আমি কোনো দলের পতাকা ধরিনি, দায় কেন নেব?’ ‘পলিটিক্যাল পার্টিগুলো আমাদের ফায়দা লুটছে…’ টলিউড ও রাজনীতি নিয়ে বিস্ফোরক লাবণী সরকার!

টলিউডের (Tollywood) জনপ্রিয় এবং প্রবীণ অভিনেত্রী লাবণী সরকার (Laboni Sarkar)। নব্বইয়ের দশকের দূরদর্শনের সিরিয়াল থেকে শুরু করে আজকের মেগা সিরিয়াল কিংবা বড় পর্দা সব মাধ্যমেই তাঁর অভিনয় দক্ষতার ছাপ স্পষ্ট। ১৯৬২ সালে কলকাতায় জন্ম নেওয়া এই অভিনেত্রীর কেরিয়ার শুরু হয়েছিল যোছন দস্তিদারের হাত ধরে সেই সময় ধারাবাহিকের মাধ্যমে। এরপর অপর্ণা সেনের সতী ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক। ‘হুইলচেয়ার’, ‘কাঁচের পৃথিবী’, ‘চরাচর’-এর মতো ছবির জন্য পর পর তিনবার বিএফজেএ পুরস্কার জয়ী এই শিল্পী নিজেকে নিয় গেছেন এক অনন্য উচ্চতায়। ব্যক্তিগত জীবনে অভিনেতা কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরণী লাবণী বরাবরই স্পষ্টবক্তা হিসেবে পরিচিত। এক সাক্ষাৎকারে টলিউড ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি যে মন্তব্য করেছেন, তা নিয়ে এখন নেটপাড়ায় জোর চর্চা চলছে।

সাক্ষাৎকারের শুরুতেই লাবণী সরকার অত্যন্ত জোরালোভাবে জানিয়েছেন যে, তিনি তাঁর দীর্ঘ কেরিয়ারে কোনোদিন কোনো রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় থাকেননি। কোনো রাজনৈতিক দলের পতাকা তিনি হাতে তুলে নেননি, আর নেওয়ার প্রয়োজনও বোধ করেননি। তাঁর কথায়, একজন শিল্পীর আসল পরিচয় তাঁর কাজে, কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক রঙে নয়। তিনি সাফ জানিয়েছেন, কোনো রাজনৈতিক দলের দলীয় অনুষ্ঠানেও তাঁকে কোনোদিন দেখা যায়নি। নিজের আদর্শে অবিচল থেকে তিনি রাজনীতি থেকে সবসময় এক হাত দূরত্ব বজায় রেখে এসেছেন।

বর্তমান সময়ে টলিউডের একঝাঁক অভিনেতা-অভিনেত্রীর রাজনীতিতে যোগদান এবং দলাদলি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। লাবণী ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “আমি যখন তাদের কোনো অনুষ্ঠানে যাইনি, কোনো সাহায্য নিইনি, তবে কেন আমি তাঁদের দায়ভার নেব?” তাঁর মতে, রাজনৈতিক দলগুলো বর্তমানে গ্ল্যামার জগতকে ব্যবহার করছে নিজেদের ফায়দা তোলার জন্য। ইন্ডাস্ট্রির মানুষজন কেন বুঝেশুনে এই ফাঁদে পা দিচ্ছেন, তা নিয়ে তিনি গভীর বিস্ময় ও বিরক্তি প্রকাশ করেছেন।

যাঁরা একই সঙ্গে শিল্পী হিসেবে সুবিধা নিতে চান আবার রাজনৈতিক ক্ষমতাও ভোগ করতে চান, তাঁদের প্রতি অভিনেত্রীর কটাক্ষ ছিল অত্যন্ত তীক্ষ্ণ। তিনি বলেন, বর্তমানে অনেকেই ‘গাছের খাব আবার তলারও কুড়োবো’ এই মানসিকতা নিয়ে চলছেন। একদিকে বলছেন তাঁরা অভিনয় জগতের সেবা করছেন, অন্যদিকে রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে ব্যক্তিগত সুযোগ-সুবিধা নিচ্ছেন। এই দ্বিমুখী আচরণ ইন্ডাস্ট্রির সামগ্রিক পরিবেশকে কলুষিত করছে বলে তিনি মনে করেন।

লাবণী সরকারের অভিযোগ, অনেক তথাকথিত সমাজসেবী নেতা বা শিল্পী মুখে মানুষের উপকারের কথা বললেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের কতটা উপকার হচ্ছে তা চোখে না পড়লেও, ওই সমস্ত ব্যক্তিদের ব্যক্তিগতভাবে যে বিপুল উন্নতি ও উপকার হচ্ছে, তা দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই তাঁর মনে জমে থাকা ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে।

আরও পড়ুনঃ ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমি শ্রদ্ধা করতাম…চিন্তা ভাবনাটা ভুল হয়ে গেল!’ শিল্পীদের দাঁড় করালেই ভোট পাওয়া যায় না! শাসকদল বদল হতেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে বিস্ফোরক রচনা ব্যানার্জি?

সাক্ষাৎকারের একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে অভিনেত্রী লাবণী সরকার সোজাসুজি জানিয়ে দিয়েছেন যে, ব্যক্তিগতভাবে তিনি এই বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে এর প্রভাবকে ঘৃণা করেন। নীতি-আদর্শহীন এই পরিবেশের সঙ্গে তিনি নিজেকে খাপ খাওয়াতে রাজি নন। তাঁর এই কঠোর কিন্তু সৎ মন্তব্য টলিউডের বর্তমান ‘পলিটিক্যাল-সার্কাস’ নিয়ে এক বড়সড় আয়না ধরল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল।

Back to top button