পারিবারিক টানাপোড়েনের মাঝে ঝিনুকের জীবনে এল মনের মানুষ! বিষাদের মাঝে কি শুরু হবে এক নতুন প্রেমকাহিনি?

জি বাংলার (Zee Bangla) পর্দায় পথচলা শুরু করেছে নতুন ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’ (Kamala Nibas )। গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, প্রলয় বাবু আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন দুর্ঘটনার খবরটা ধামাচাপা দিতে, কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। সংবাদপত্রের পাতায় সেই দুঃসংবাদ প্রকাশিত হতেই তাঁর পায়ের তলার মাটি সরে যায়। তিনি যখন জানতে পারেন যে তাঁর নিজের ছেলের গাড়ির আঘাতেই প্রাণ হারিয়েছেন তাঁর মেয়ের হবু দেওর এবং হবু শাশুড়ি, তখন তিনি স্তব্ধ হয়ে যান।
ভাগ্যের এমন নিষ্ঠুর পরিহাস তিনি কল্পনাও করতে পারেননি। একদিকে মেয়ের শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ, আর অন্যদিকে নিজের ছেলের অপরাধ এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে তিনি দিশেহারা। অথচ আদিত্য এখনো অন্ধকারেই রয়ে গেছে; সে জানেনা কী ভয়ঙ্কর এক সত্য তার সাজানো পৃথিবীকে ওলটপালট করার জন্য অপেক্ষা করছে।
ওদিকে আদিত্যর কপালটাই যেন খারাপ, কারণ ভালো করতে গিয়েও সে বারবার খলনায়ক হয়ে যাচ্ছে। কলেজের ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থে যখন সে বাস ড্রাইভার এবং কন্ডাক্টরের অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠে, তখন দূর থেকে পল্লবী বিষয়টি ভুল বোঝে। পরিস্থিতি দেখে পল্লবীর মনে হয় আদিত্য আবারও পুরনো মেজাজে মারপিট আর গুন্ডামি শুরু করেছে। ফলে আদিত্যর প্রতি তার মনে যে সামান্য সহমর্মিতা তৈরি হচ্ছিল, তা নিমিষেই মিলিয়ে যায়। পল্লবীর চোখে আদিত্য সেই চিরচেনা মারকুটে গুন্ডা হয়েই থেকে গেল, যার ফলে তাদের সম্পর্কের তিক্ততা আরও এক ধাপ বেড়ে গেল।
আদিত্যর গাড়ির সাথে সাগরের গাড়ির দুর্ঘটনার যে একটি গোপন যোগসূত্র রয়েছে, তা প্রলয় বাবু জানতেন। এই ঘটনা নিয়ে ভবিষ্যতে আইনি বা সামাজিক জলঘোলা হতে পারে ভেবে তিনি আগাম সতর্ক হন। নিজের স্বার্থরক্ষার তাগিদেই তিনি পল্লবীদের বাড়ির সাথে হঠাত সখ্যতা গড়তে উদ্যোগী হন। উল্লেখ্য যে, পল্লবীর ছোট দাদার সাথে প্রলয় বাবুর মেয়ের পালিয়ে বিয়ের কারণে দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিনের তিক্ততা ও দূরত্ব ছিল। কিন্তু বর্তমান বিপদে নিজের পিঠ বাঁচাতে প্রলয় বাবু সেই পুরনো শত্রুতা ভুলে মেয়ের শ্বশুরবাড়ির দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন, যা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
আরও পড়ুনঃ ‘বাংলার রাজনীতি ছেড়ে দিলাম…’ রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা! সমাজ মাধ্যমে বিস্ফোরক অভিনেত্রী রূপাঞ্জনা মিত্র!
অন্যদিকে, পারিবারিক আর্থিক অনটন এবং ঝিনুকের আত্মত্যাগের বিষয়টি পল্লবীর নজরে আসে। ঝিনুক নিজের ক্যারিয়ার বা কম্পিটিশন বিসর্জন দিতে চলেছে জেনে পল্লবী তার ছোট বোনের ওপর ভীষণ অভিমান করে। সে চায় না তার জন্য বা বর্তমান পরিস্থিতির চাপে ঝিনুকের স্বপ্নগুলো নষ্ট হয়ে যাক। তবে এই মেঘাচ্ছন্ন পরিস্থিতির মধ্যেই রূপোলি রেখা দেখা দেয় পরের দিন। কলেজে প্রথমবার মুখোমুখি হয় ঝিনুক এবং তার মনের মানুষ যাকে সে স্বপ্নে দেখেছে এতদিন। প্রতিকূলতার মাঝে এই নতুন প্রেমের পদধ্বনি কাহিনীর মোড় কোন দিকে ঘোরায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

