‘গাড়ি-বাড়ি বিক্রি করতে হয়েছে, তবুও মাথা নত করিনি’! টলিউডের ‘ব্যান কালচার’ নিয়ে রুদ্রনীলের বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি!

টলিউডের (Tollywood) অন্দরে বহুকাল ধরেই রাজনীতির প্রভাব নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলেছে। তবে সম্প্রতি এক একান্ত সাক্ষাৎকারে টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা ও বিজেপি নেতা রুদ্রনীল ঘোষ (Rudranil Ghosh) যে মন্তব্য করেছেন, তা যেন ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান পরিস্থিতির কঙ্কালসার চেহারাটাই সামনে এনে দিয়েছে। দীর্ঘ দেড় মাস পর নিজের বাড়িতে ফিরে রুদ্রনীল তুলে ধরেছেন তার লড়াই, অপমান এবং বর্তমান টলিউডে কাজের পরিবেশ নিয়ে তার সুচিন্তিত মত। তার কথায়, “রাজনীতি থাকবে, কিন্তু তার জন্য যোগ্য শিল্পীকে কাজ থেকে বঞ্চিত করা কাম্য নয়।”

রুদ্রনীলের দীর্ঘ লড়াইয়ের বর্ণনা দিতে গিয়ে উঠে আসে এক মর্মান্তিক আর্থিক সংকটের কথা। তিনি জানান যে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খোলায় তাকে প্রশাসনিক ও ইন্ডাস্ট্রির পক্ষ থেকে নানা বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। একসময় পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে তাকে নিজের পরিশ্রমের উপার্জনে কেনা গাড়ি এমনকি বাড়ি পর্যন্ত বিক্রি করে দিতে হয়েছে। তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, প্রার্থী থাকাকালীন যখন তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মাত্র ১১,০০০ টাকা অবশিষ্ট ছিল, তা দেখে পশ্চিমবঙ্গের অনেক মানুষের চোখ ভিজে এসেছিল। তার দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই তাকে কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যা একজন শিল্পীর জন্য সবচেয়ে বড় শাস্তি।

ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান ‘ব্যান কালচার’ বা অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা নিয়ে রুদ্রনীল অত্যন্ত কঠোর ভাষায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তার মতে, গত কয়েক বছরে টলিউডে একধরনের দমবন্ধ করা পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যেখানে যোগ্যতার চেয়ে ‘দালালি’ বেশি গুরুত্ব পায়। তৃণমূল সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, যে ইন্ডাস্ট্রিতে আগে বছরে ১৩০-১৪০টি সিনেমা হতো, তা এখন কমে ৩০-৩৫টিতে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে প্রায় ৮০ শতাংশ টেকনিশিয়ান ও শিল্পী কাজ হারিয়েছেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, বিজেপি নেতৃত্বে টলিউডে এমন এক পরিবেশ তৈরি হবে যেখানে অযোগ্যকে যোগ্য প্রমাণ করার চেষ্টা হবে না এবং শিল্পীরা স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করতে পারবেন।

রাজনৈতিক তিক্ততা থাকলেও পেশাদার ক্ষেত্রে রুদ্রনীল যে সৌজন্য বজায় রাখতে চান, তার প্রমাণও পাওয়া গেছে এই সাক্ষাৎকারে। তিনি জানান, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, যীশু সেনগুপ্ত, কাঞ্চন মল্লিক এবং কৌশিক গাঙ্গুলীর মতো শিল্পীরা তাকে বিজয়ের পর শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এমনকি পরমব্রতর সাথে তার ছবির রিলিজ নিয়েও কথা হয়েছে। তিনি মনে করেন, অনেকেই পেটের দায়ে বা পরিবারের নিরাপত্তার খাতিরে বিশেষ একটি রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় থাকার অভিনয় করেন। তাদের প্রতি তার কোনো ব্যক্তিগত ক্ষোভ নেই, কারণ নেপথ্যের করুণ গল্পগুলো অনেকেরই অজানা।

আরও পড়ুনঃ মৃ’ত্যুর মুখোমুখি দিতি! পাগল হাতির সামনে অসহায় অদ্বিতীয়া! পুলস্ত্যর পৈশাচিক ষড়যন্ত্রে কি তবে শেষ হতে চলেছে দিতির জীবন? প্রকাশ্যে দুর্ধর্ষ প্রোমো

পরিশেষে, রুদ্রনীল ঘোষের এই সাক্ষাৎকারটি কেবল একটি রাজনৈতিক বয়ান নয়, বরং এটি বাংলার চলচ্চিত্র জগতের হাজার হাজার কর্মীর ভবিষ্যতের প্রতিচ্ছবি। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আগামী দিনে টলিউডকে ‘ব্যান কালচার’ থেকে মুক্ত করা এবং যোগ্য শিল্পীদের জন্য মুক্ত কাজের পরিবেশ তৈরি করাই হবে তার প্রধান লক্ষ্য। দেশের স্বার্থে এবং শিল্পের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “দমবন্ধ করা পরিবেশটাই ব্যান হোক, উন্মুক্ত পরিবেশ আসুক।” এখন দেখার বিষয়, তার এই আহ্বানে টলিউডের অন্দরে কতটা পরিবর্তন আসে।

Back to top button