তমালিকার বেশে কুন্তলিনীর ম’রণকামড়! পূর্বজন্মের সাজে গোরাকে বশ করল কুন্তলিনী! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) তারে ধরি ধরি মনে করি (Tare Dhori Dhori Mone Kori) ধারাবাহিকের গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, দিতি আর গোরা যখন হাসপাতালের কাজ সেরে বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, কুন্তলিনী তখন বাড়িতে বসে এক ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্র লিপ্ত হয়। সে জানত ‘কুন্তলিনী কাব্য’ নামক সেই প্রাচীন পুঁথিতে তার গত জন্মের সমস্ত কুখ্যাত কাজের কথা লেখা আছে। তাই নিজের আসল পরিচয় গোপন রাখতে সে কাব্যটির পাতাগুলো ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে ফেলে। বিশেষ করে যেখানে তার আগের জন্মের শয়তানি আর ‘তমালিকা’ হিসেবে তার কুকীর্তির কথা ছিল, সেগুলো সে একদম ধ্বংস করে দেয়। পরে দিতি সুস্থ হয়ে যখন বইটি পড়তে যায়, সে কিছুই বুঝতে পারে না। গল্পের পাতাগুলো এলোমেলো হয়ে যাওয়ায় দিতি ঘটনার কোনো যোগসূত্র খুঁজে পায় না। আড়ালে দাঁড়িয়ে কুন্তলিনী তখন পৈশাচিক আনন্দ পাচ্ছিল এই ভেবে যে, প্রমাণ না থাকলে কেউ কোনোদিন জানতে পারবে না সে-ই ছিল সেই কুখ্যাত তমালিকা।
দিতি বুঝতে পারছিল যে তার সাথে বড় কোনো প্রতারণা করা হচ্ছে। তার কেন যেন মনে হচ্ছিল, এই সবকিছুর পেছনে কুন্তল আর পুলস্ত্যর কোনো না কোনো যোগসূত্র আছে। কিন্তু কুন্তল এত সুক্ষ্মভাবে নিজের চালগুলো চালছিল যে, দিতি তাকে সরাসরি দোষী সাব্যস্ত করতে পারছিল না। সে বুঝতে পারছিল না যে কুন্তলই আসল কুশীলব যে পর্দার আড়াল থেকে দড়াবাজির মতো সবাইকে নাচিয়ে বেড়াচ্ছে। কুন্তলিনী নিজেকে এতটাই নির্দোষ হিসেবে তুলে ধরত যে তার ওপর সন্দেহ করাটাও কঠিন ছিল, কিন্তু তলে তলে সে চক্রান্তের জাল বিছিয়েই চলেছিল।
মানুষের চোখে ধুলো দেওয়া গেলেও প্রকৃতির বিচার থেকে পালানো কঠিন। পুলস্ত্য আগে থেকেই কুন্তলিনীর গতিবিধির ওপর কড়া নজর রাখছিল। একদিন সে কুন্তলিনীর পিছু নিয়ে শহরের এক নির্জন প্রান্তে এক তান্ত্রিক সাধুর আস্তানায় গিয়ে পৌঁছায়। সেখানে গিয়ে পুলস্ত্য যা দেখল, তাতে তার রক্ত হিম হয়ে যাওয়ার জোগাড়! সে দেখল, কুন্তলিনী সেই তান্ত্রিকের কাছে পরামর্শ চাইছে যে কীভাবে গোরাকে নিজের হাতের পুতুল বানিয়ে ফেলা যায়। কুন্তলিনীর সেই মিষ্টি হাসির আড়ালে যে কত বড় এক শয়তান লুকিয়ে ছিল, তা পুলস্ত্যর প্রখর বুদ্ধির কাছে আর চাপা থাকল না। ষড়যন্ত্রের সমস্ত জাল ছিঁড়ে কুন্তলিনীর আসল রূপ সবার সামনে আসার উপক্রম হলো।
গল্পের মোড় ঘুরে যায় যখন পুলস্ত্য আর কুন্তল সেই তান্ত্রিকের মুখ থেকে তাদের পূর্বজন্মের কথা জানতে পারে। কিন্তু কথা প্রসঙ্গে বেরিয়ে আসে এক অদ্ভুত সত্য—যেই তান্ত্রিক তাদের সাহায্য করছিল, সে আসলে কোনো ভালো মানুষ নয়। সেই সাধকই ছিল আসল শয়তান, যে যুগের পর যুগ ধরে পর্দার আড়াল থেকে সব কলকাঠি নাড়ছে। সে নিজের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য কুন্তলিনীকে প্ররোচনা দিত এবং দিতি ও গোরার জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছিল। সাধুর আসল চেহারাটা সামনে আসার পর কুন্তল আর পুলস্ত্য দুজনেই বুঝতে পারে যে তারা এক গভীর বিপদের আবর্তে জড়িয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুনঃ সব ছেড়ে সন্ন্যাসীর পথ বেছে নিল রায়ান! থিয়েটারের স্ক্রিপ্ট ছিঁড়ে কোন চরম সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে সে? পারুল কি পারবে রায়ানকে সন্ন্যাস থেকে ফেরাতে? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব
এদিকে কুন্তলিনী হাল ছাড়ার পাত্রী নয়। সে গোরাকে পুরোপুরি নিজের আয়ত্তে আনার জন্য তার সেই আগের জন্মের রূপ ধারণ করে। সে এমনভাবে সাজগোজ করে যেন ঠিক সেই তমালিকা আবার ফিরে এসেছে। এই রূপ আর সাজের জাদুতে গোরা একদম দিশেহারা হয়ে যায়। কুন্তলিনীর সেই মায়াবী রূপ দেখে গোরা যেন সম্মোহিত হয়ে পড়ে এবং হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে তার পেছন পেছন চলতে থাকে। কুন্তলিনীকে সেই পুরনো রূপে দেখে সে এতটাই অবাক হয় যে, তার মনের সমস্ত সন্দেহ এক নিমেষে ধুয়ে যায়। কুন্তলিনী এভাবেই তার ছলনা আর মায়াজাল বিছিয়ে গোরাকে নিজের কবজায় নিয়ে আসতে সফল হয়।

