ভুল বুঝাবুঝির অন্তিম ধাপ, ছাদ থেকে ঝাঁপ দেওয়ার হুম’কি দিয়ে রায়ানের গোপন কথা জানতে চাইলো পারুল! ‘পরিণীতা’তে আজকের টানটান পর্ব!

জি বাংলার (Zee Bangla) পরিণীতা ধারাবাহিকে (Parineeta) গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, বড়দের কথা এবং চারপাশের পরিস্থিতির চাপে পারুলের দীর্ঘদিনের অভিমান এবার এক কঠিন জেদে রূপান্তরিত হয়। সে মনে মনে প্রশ্ন তোলে—রায়ান যদি তাকে ভালোই বাসে, তবে কেন তা সবার সামনে স্বীকার করার সাহস দেখাচ্ছে না? এই লুকোচুরির অবসান ঘটাতে পারুল একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ নেয়। সে বাড়ির সবার সামনে দৃঢ় গলায় ঘোষণা করে যে, রায়ানের এই গড়িমসি সে আর সহ্য করবে না। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এমন কিছু সে করবে, যাতে রায়ান নিজের মুখে ভালোবাসার কথা স্বীকার করতে বাধ্য হয় শুরু হয় এক সূক্ষ্ম মনস্তাত্ত্বিক খেলা।

সবাইকে চমকে দিয়ে পারুল রায়ানের কাছে গিয়ে এক অভাবনীয় প্রস্তাব রাখে। শান্ত স্বরে সে বলে, “আমাদের তো বিচ্ছেদ হয়েই যাবে, তার আগে শেষবারের মতো চল কোথাও থেকে ঘুরে আসি।” যে পারুল এতদিন রায়ানের ছায়া পর্যন্ত এড়িয়ে চলত, তার মুখে এমন কথা শুনে রায়ান বিস্মিত হয়। পারুল নিজেই পরিকল্পনা করে জানায় যে, তারা আজ দুপুরে ‘Cafe The 22’-এ একসঙ্গে লাঞ্চ করবে। রায়ান কিছুটা সন্দিহান হলেও পারুলের সান্নিধ্য পাওয়ার এই শেষ সুযোগটি হাতছাড়া করতে চায় না এবং কোনো তর্কে না গিয়ে দ্রুত তৈরি হতে চলে যায়।

বাইরে থেকে পারুলকে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী মনে হলেও, তার মনের ভেতরে তখন অনিশ্চয়তার ঝড় বইছে। সে জানে, এই পরিকল্পনাটি কেবল একটি সাধারণ আউটিং নয়, বরং রায়ানের মুখ থেকে সত্যিটা বের করে আনার এক চরম ঝুঁকি। যদি এই শেষ চেষ্টা ব্যর্থ হয়, তবে তাদের সম্পর্কের সুতো চিরতরে ছিঁড়ে যাবে। হৃদয়ে ভয় আর প্রার্থনা নিয়ে পারুল নিজেকে প্রস্তুত করে, কারণ সে জানত এই ক্যাফে যাওয়ার যাত্রাই নির্ধারণ করে দেবে তাদের ভাঙা সংসার জোড়া লাগবে নাকি এটিই হবে তাদের শেষ দেখা।

ক্যাফেতে পৌঁছে পারুল তার পরিকল্পনার চূড়ান্ত পর্যায় শুরু করে। পরিবেশ স্বাভাবিক থাকলেও পারুলের উদ্দেশ্য ছিল রায়ানের মনের গোপন সিন্দুকটি খোলা। এক পর্যায়ে সে আবেগকে হাতিয়ার করে রায়ানকে এক প্রকার ব্ল্যাকমেইল করতে শুরু করে এবং সরাসরি জানতে চায় রায়ান আসলে কাকে ভালোবাসে। রায়ান বুঝতে পারে যে সে আবারও পারুলের সাজানো এক নিপুণ ফাঁদে পা দিয়েছে। নিজের অনুভূতি আড়াল করার আপ্রাণ চেষ্টা করলেও পারুলের তীক্ষ্ণ প্রশ্নের মুখে সে ক্রমে কোণঠাসা হয়ে পড়ে।

আরও পড়ুনঃ ‘অতীতকে পেছনে ফেলেই এগোতে চাই!’ ট্রোলের বন্যা থেকে ব্যক্তিগত লড়াই সব ভুলে কিভাবে নিজের জীবনে ‘প্রত্যাবর্তন’ খুঁজছেন ইমন?

পরিস্থিতি চরমে পৌঁছালে পারুল চরম আত্মত্যাগের হুমকি দেয় এবং রেস্টুরেন্টের ছাদ থেকে ঝাঁপ দেওয়ার কথা বলে রায়ানকে বাধ্য করার চেষ্টা করে। পারুলের চোখেমুখে থাকা যন্ত্রণা দেখে রায়ান বিচলিত হয়ে পড়ে এবং তাকে বারবার বোঝানোর চেষ্টা করে। পারুল নিজেও ভেতরে ভেতরে ভেঙে পড়ছিল, কিন্তু সত্যিটা জানার তীব্র আকাঙ্ক্ষায় সে নিজের জীবনকে বাজি রাখতেও কুণ্ঠিত হয় না। এই রুদ্ধশ্বাস মুহূর্তটিই শেষ পর্যন্ত রায়ানের মনের দেয়াল ভেঙে ফেলার অন্তিম সুযোগ হয়ে দাঁড়ায়।

Back to top button