অন্যায় আবদারের বিরুদ্ধে পল্লবীর গর্জন, মিঠিকে কেড়ে নিতে পারল না সুপর্ণা! শত্রুর মুখে ছাই দিয়ে মিঠির দায়িত্ব নিল পল্লবী!

জি বাংলার (Zee Bangla) পর্দায় পথচলা শুরু করেছে নতুন ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’ (Kamala Nibas )। গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, হাসপাতালের করিডোরে তখন মৃত্যুর নিস্তব্ধতা। সাগরের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক, প্রচুর রক্তক্ষরণে সে তখন জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। কোনো দোষ না থাকলেও মানুষের সীমাহীন লোভ আর নিষ্ঠুরতার বলি হতে হলো তাকে। পর্দার ওপর সাগরের সেই ছটফটানি আর বাঁচার শেষ আকুতি দেখে দর্শকদের বুক ফেটে যায়। একজন মুমূর্ষু মানুষের যন্ত্রণা অভিনেতা এতটাই নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন যে তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে।
বিয়ের আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে পরিণত হলো। বিয়ের দিনই বরের মৃত্যু একটি মেয়ের জীবনে এর চেয়ে বড় শোক আর কিছু হতে পারে না। কিন্তু মানুষের নিষ্ঠুরতা সেখানেই থেমে থাকেনি। শোকাতুর পল্লবীকে সান্ত্বনা দেওয়ার বদলে সুপর্ণার বর সুকৌশলে সব দোষ তার ওপর চাপিয়ে দেয় এবং একে ‘কুষ্ঠির দোষ’ বলে রটিয়ে দেয়। এমনকি পাড়া-পড়শিরাও এই নিয়ে আড়ালে সমালোচনা শুরু করে। নিজের ব্যক্তিগত শোক সামলানোর আগেই সমাজ যেভাবে আঙুল তুলল, তা ছিল অত্যন্ত বেদনাদায়ক।
এই চরম সংকটের মুহূর্তে আদিত্যর মানবিক রূপটি সবার নজর কেড়েছে। সে তার বাবার ষড়যন্ত্র বা বারণ কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে হাসপাতালে নিজের রক্ত দিয়ে মিঠিকে নতুন জীবন দান করে। অন্যদিকে, মৃত্যুর আগে সাগরের মা ছোট্ট মিঠিকে পল্লবীর হাতে সঁপে দিয়ে যান। পল্লবীও অশ্রুসজল চোখে কথা দেয় যে, সে মিঠিকে নিজের মেয়ের মতো আগলে রাখবে। এখান থেকেই শুরু হয় এক অসম লড়াইয়ের নতুন অধ্যায়।
সুপর্ণা এবং তার স্বামী পল্লবীকে কোনোভাবেই মিঠির দায়িত্ব নিতে দিতে চায় না। তারা চায় মিঠিকে নিজেদের কাছে নিয়ে যেতে, কিন্তু এবার পল্লবী গর্জে ওঠে। এই প্রথমবার সে অন্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ গড়ে তোলে এবং জানিয়ে দেয় মিঠি তার কাছেই থাকবে। দুর্ঘটনায় মিঠির প্রাণ বাঁচলেও তার পায়ে গুরুতর চোট লাগে, যার ফলে সে বর্তমানে পঙ্গু। ডাক্তার জানিয়েছেন একমাত্র দীর্ঘমেয়াদী ফিজিওথেরাপিই তাকে সুস্থ করতে পারে, তবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। তবুও সব বাধা উপেক্ষা করে পল্লবী মিঠিকে নিজের সাথে নিয়ে আসে।
আরও পড়ুনঃ নিজের পূর্বজন্মের পরিচয় লুকাতে কাব্যের পাতা ছিঁড়ে নিল কুন্তল, আবারো বিপাকে পড়ল গোরা-দিতি!
নিজের বাড়িতে মিঠিকে নিয়ে আসার পর পল্লবীকে আবারও বাধার সম্মুখীন হতে হয়। পরিবারের লোকজন আপত্তি করলেও সে তার সিদ্ধান্তে অটল থাকে। একমাত্র মেয়ের হাসি মুখ হারিয়ে যেতে দেখে পল্লবীর বাবা-মা ভীষণ চিন্তিত হয়ে পড়েন। তবে এই অন্ধকারের মাঝেও পল্লবীর মা বিশ্বাস হারাননি। তিনি মনে করেন, হয়তো ভবিষ্যতে বড় কোনো মঙ্গল হওয়ার জন্যই বিধাতা আজ পল্লবীর জীবনে এত বড় পরীক্ষা নিচ্ছেন। এই বিশ্বাসের ওপর ভর করেই পল্লবী ও মিঠির আগামীর পথচলা শুরু হয়।

