অন্ধকারে শুরু হলো কুন্তলের আসল খেলা, জ্ঞান ফেরার পর কোন অশুভ সংকেত পেলেন দিতি?

জি বাংলার (Zee Bangla) তারে ধরি ধরি মনে করি (Tare Dhori Dhori Mone Kori) ধারাবাহিকের গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, রক্তাক্ত অবস্থায় দিতিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় গোরা ছিল দিশেহারা। আর ঠিক এই সুযোগেরই অপেক্ষায় ছিল ধূর্ত কুন্তল। আড়ালে থেকে সব দেখে সে হাসপাতালে পৌঁছে গোরার সামনে ভালো মানুষের নাটক শুরু করে। শোকে পাথর হয়ে যাওয়া গোরা বুঝতে পারেনি যে কুন্তল আসলে তাকে ঠকাচ্ছে। কুন্তলের মিথ্যে সহমর্মিতা দেখে গোরা তাকে বিশ্বাস করে ফেলে এবং নিজের প্রাণের চেয়েও প্রিয় সেই রহস্যময় কাব্যের তৃতীয় খণ্ডটি তার হাতে তুলে দেয়। কুন্তলের শয়তানি বুদ্ধি শেষ পর্যন্ত সফল হয়।
অন্যদিকে, গোরার বাড়িতে তখন তুলকালাম কাণ্ড। গোরার মা চিৎকার-চেঁচামেচি করে পুরো পাড়া মাথায় তুলছেন। তার সব রাগ গিয়ে পড়েছে গোরার কাকার ওপর। তিনি ভাবছেন, কেন কাকা তাদের এই গ্রামের ঠিকানা দিয়ে এখানে পাঠালেন? গোরার যদি বড় কোনো বিপদ হতো, তবে কী হতো এই চিন্তায় তিনি অস্থির। তবে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, দিতির এত বড় চোট লাগলেও সেদিকে তার কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই, তার সব চিন্তা শুধু নিজের ছেলেকে ঘিরেই।
তবে গোরা দমে যাওয়ার ছেলে নয়। সে ঠিকই বুঝতে পারে যে দিতির ওপর হামলার পেছনে হাত রয়েছে পুলস্ত্যর। তাই সে পুলস্ত্যকে টেনে-হিঁচড়ে বাড়িতে নিয়ে আসে এবং দড়ি দিয়ে শক্ত করে বেঁধে রাখে। পুলস্ত্যই যে গুন্ডা পাঠিয়েছিল, সে ব্যাপারে গোরা নিশ্চিত ছিল। রাগে আর ক্ষোভে সে তখন কাঁপছিল, কারণ সে জানত এই চক্রান্তের পেছনে বড় কোনো রহস্য আছে। যদিও সে তখনও জানত না যে তার সবচেয়ে বড় শত্রু কুন্তল তার সরলতার সুযোগ নিয়ে সব নিয়ে গেছে।
অপারেশনের পর যখন দিতির জ্ঞান ফেরে, সে সব কথা জানতে পেরে কান্নায় ভেঙে পড়ে। সে বুঝতে পারে যে তারা এক বিশাল ভুল করে ফেলেছে। যে অমূল্য পুঁথিটি রক্ষা করার জন্য সে নিজের জীবন বাজি ধরল, তা আজ এক অশুভ শক্তির হাতে চলে গেছে। নিজের শারীরিক যন্ত্রণার চেয়েও দিতি বেশি কষ্ট পাচ্ছিল এই ভেবে যে, এক চক্রান্তকারী এখন সেই পবিত্র কাব্যের মালিক। এই দুশ্চিন্তায় দিতি মনে মনে ব্যাকুল হয়ে ওঠে।
আরও পড়ুনঃ অভিমানী পারুলের শেষ চাল, পারুলের জালে কি ধরা দেবে রায়ানের লুকানো প্রেম?
গল্পের শেষে দেখা যায় এক রোমাঞ্চকর দৃশ্য। দিতি ও গোরার অনুপস্থিতিতে কুন্তল চুপিচুপি সেই কাব্যটি পড়তে শুরু করেছে। তার চোখে তখন জয়ের হাসি। সে জানত এই কাব্যের ভেতর এমন কিছু গোপন তথ্য আছে যা তাকে অনেক ক্ষমতা এনে দিতে পারে। একদিকে দিতি আর গোরার অসহায়ত্ব, অন্যদিকে কুন্তলের সেই শয়তানি বুদ্ধি—সব মিলিয়ে এক চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে গল্পটি এগিয়ে চলে।

