‘ওর কাছে গিয়ে বলার মতো কিছুই অবশিষ্ট ছিল না!’ রাহুলের ‘সহজ কথা’য় কেন কখনও যাননি প্রিয়াঙ্কা? দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে আসল কারণ জানালেন অভিনেত্রী!

টলিউড (Tollywood) ইন্ডাস্ট্রির সাম্প্রতিকতম এক অপূরণীয় ক্ষতি অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rahul Banerjee) অকাল প্রয়াণ। তাঁর মৃত্যুর পর থেকে ব্যক্তিগত জীবনে এক চরম কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার। দীর্ঘদিনের বন্ধু, সঙ্গী এবং তাঁদের সন্তান সহজের বাবার চলে যাওয়া প্রিয়াঙ্কার জন্য এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করেছে। শোকাতুর এই সময়ে তিনি নিজেকে জনসমক্ষ থেকে কিছুটা দূরে রেখেছিলেন, তবে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই কঠিন সময় এবং জীবনযুদ্ধ নিয়ে মন খুলে কথা বলেছেন তিনি। রাহুলের প্রয়াণের পর নিজেকে সামলে নিয়ে আবারও কর্মজীবনে ফেরার সেই লড়াই এবং মানসিক দৃঢ়তার গল্পই উঠে এসেছে তাঁর এই আলাপচারিতায়।
সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে প্রিয়াঙ্কাকে প্রশ্ন করা হয় রাহুলের জনপ্রিয় পডকাস্ট শো ‘সহজ কথা’য় তাঁকে কেন কখনও অতিথি হিসেবে দেখা যায়নি। এর উত্তরে প্রিয়াঙ্কা এক অত্যন্ত সংবেদনশীল ও বাস্তবধর্মী ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি জানান, রাহুল তাঁর কাছে শুধু একজন সহকর্মী নন, বরং তিনি ছিলেন প্রিয়াঙ্কার বন্ধু, প্রেমিক এবং স্বামী। তাঁদের মধ্যেকার বোঝাপড়া এতটাই গভীর এবং দীর্ঘদিনের যে, আলাদা করে একটি ক্যামেরার সামনে বসে একে অপরের বিষয়ে নতুন করে বলার মতো কিছু অবশিষ্ট ছিল না। প্রিয়াঙ্কার মতে, তাঁদের জীবনের গল্পগুলো কোনো নির্দিষ্ট শোর স্ক্রিপ্টে বাঁধার মতো নয়।
অভিনেত্রী আরও স্পষ্ট করে বলেন যে, ‘সহজ কথা’য় গিয়ে রাহুলের মুখোমুখি বসার বিষয়টি তাঁদের কাছে কিছুটা কৃত্রিম মনে হতে পারত। কারণ রাহুল তাঁর জীবনের প্রতিটি ধাপের সাক্ষী ছিলেন এবং প্রিয়াঙ্কাও রাহুলের সবটুকুই জানতেন। সেই দীর্ঘ বন্ধুত্বের রসায়নটা এতটাই নিবিড় যে, তাকে কোনো বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দর্শকদের সামনে তুলে ধরার প্রয়োজন তাঁরা বোধ করেননি। তিনি বিশ্বাস করেন যে, যা কিছু তাঁদের একান্ত নিজস্ব, তাকে সেভাবেই থাকতে দেওয়া উচিত। এই কারণেই মূলত তাঁকে রাহুলের এই বিশেষ পডকাস্টে কখনও দেখা যায়নি।
ব্যক্তিগত আলাপচারিতার পাশাপাশি প্রিয়াঙ্কা তাঁর অভিনয় জীবনের বর্তমান ব্যস্ততা নিয়েও কথা বলেন। পেশাগত জীবনে তিনি এখন একজন পুলিশ অফিসারের চরিত্রে অভিনয় করছেন, যা একটি থ্রিলারধর্মী কাজ। তিনি জানান যে, জীবনের কঠিনতম সময়েও কাজই তাঁকে সবথেকে বেশি মানসিক স্বস্তি দিয়েছে। শারীরিক এবং মানসিক নানা চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করার ক্ষেত্রে ‘লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশন’-এর জগতটি তাঁর কাছে এক ধরণের থেরাপির মতো কাজ করে। জঙ্গলের পরিবেশে শ্যুটিং করার অভিজ্ঞতা এবং সেই রোমাঞ্চকর মুহূর্তগুলো তাঁর সৃজনশীল সত্তাকে নতুন করে তৃপ্তি দিচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ ভিলেন নাকি ‘জোকার’? একদিকে তিতলি আর অন্যদিকে ঝুমকি! দুই খলনায়িকার ন্যাকামিতে তিতিবিরক্ত দর্শক!
সবশেষে প্রিয়াঙ্কা তাঁর জীবনদর্শন নিয়ে বলেন যে, সময়ের সাথে সাথে সব কিছুই বয়ে যায় এবং নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়। ‘ইনসাইড আউট’ সিনেমার উদাহরণ টেনে তিনি জানান যে, মানুষের উচিত নিজের রাগ, দুঃখ বা আনন্দ সব ধরণের আবেগকে মন থেকে গ্রহণ করা। তিনি বর্তমানে নিজের জন্য কিছুটা বিরতি চাইছেন এবং নিজেকে আরও সময় দিতে ইচ্ছুক। তাঁর এই স্পষ্টবক্তা মনোভাব এবং জীবনকে ইতিবাচকভাবে দেখার ধরণ আবারও প্রমাণ করল কেন তিনি টলিউডের অন্যতম প্রিয় এবং পরিণত একজন ব্যক্তিত্ব।

