জীবন বাজি রেখেও শেষ রক্ষা হলো না! চক্রান্তের জালে দিতি গোরা হারাল ফুল মুরারি কাব্যের তৃতীয় খণ্ড! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) তারে ধরি ধরি মনে করি (Tare Dhori Dhori Mone Kori) ধারাবাহিকের গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, মহাপ্রভুর দেওয়া সংকেত মেনে দিতি আর গোরা অবশেষে সেই রহস্যময় সিন্দুকটি খুঁজে পায়। তাদের অনেক দিনের স্বপ্ন ছিল ‘ফুল মুরারি’ কাব্যের হারানো তৃতীয় খণ্ডটি উদ্ধার করা। কিন্তু সিন্দুকটি খুঁজে পেলেও তা খোলার কোনো চাবিকাঠি তাদের কাছে ছিল না। অনেক চেষ্টার পর দিতি যখন কোনো উপায় না দেখে ভক্তিভরে মহাপ্রভুর নাম জপ করতে শুরু করে, তখনই সিন্দুকটি ভেঙে যায়। ভেতর থেকে সেই প্রাচীন পুঁথিটি উদ্ধার করে তারা খুশিতে আত্মহারা হয়ে ওঠে।
নিজেদের এই খুশির খবর দিতি যখন ফোন করে বাড়িতে জানায়, তখন সে জানত না যে তাদের সব কথা আড়াল থেকে শত্রু পক্ষ শুনে ফেলছে। খলনায়ক পুলস্ত্য খবরটি পাওয়া মাত্রই হিংসায় জ্বলে ওঠে। সে দিতি ও গোরাকে চিরতরে শেষ করে দেওয়ার জন্য একদল সশস্ত্র গুন্ডা পাঠায়। মুহূর্তের মধ্যে একদল লোক তাদের চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে আক্রমণ শুরু করে। গোরা একা হাতে লড়ে তাদের আটকানোর চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি খুব খারাপ হয়ে পড়ে।
গুন্ডাদের সাথে লড়াই চলাকালীন হঠাৎ একজন গোরাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গোরাকে বাঁচাতে দিতি এক মুহূর্তও চিন্তা না করে নিজের বুক পেতে দেয়। গুলির শব্দে চারপাশ স্তব্ধ হয়ে যায় এবং বুলেটটি সরাসরি দিতির বুকে লাগে। প্রিয় মানুষকে বাঁচাতে গিয়ে দিতি নিজের জীবনের পরোয়া না করে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। চারদিকের খুশির পরিবেশ নিমেষেই গভীর শোকে ঢেকে যায়।
রক্তাক্ত দিতিকে নিয়ে গোরা দ্রুত হাসপাতালে ছুটে যায়। এই সুযোগের অপেক্ষাতেই ছিল কুন্তল। সে আড়াল থেকে সব কিছু দেখে নতুন এক চাল চালে। সেও হাসপাতালে পৌঁছে গোরার সামনে মিথ্যে সহমর্মিতা আর ভালো মানুষের নাটক শুরু করে। শোকে কাতর গোরা কুন্তলকে বিশ্বাস করে ফেলে এবং প্রাণের চেয়েও প্রিয় সেই কাব্যের তৃতীয় খণ্ডটি তার হাতে তুলে দেয়। কুন্তল এটাই চেয়েছিল, তার শয়তানি বুদ্ধি শেষ পর্যন্ত সফল হয়।
আরও পড়ুনঃ কেন ঘটলো সুদীপ্তা চক্রবর্তী ও রাজেশ শর্মার বিচ্ছেদ? ভালোবেসেই একে অপরের সঙ্গে শুরু করেছিলেন নতুন জীবন! ঠিক কী হয়েছিলো তাঁদের সাজানো সংসারে?
অপারেশনের পর দিতির জ্ঞান ফিরলে সে সব কথা জানতে পারে। দিতি বুঝতে পারে যে বড় কোনো ভুল হয়ে গেছে এবং অমূল্য সেই পুঁথিটি কোনো অশুভ শক্তির হাতে চলে গেছে। যে কাব্য রক্ষার জন্য সে নিজের জীবন বাজি ধরল, তা আজ এক চক্রান্তকারীর কব্জায়। সুস্থ হওয়ার আনন্দের চেয়েও সেই মূল্যবান সম্পদ হারানোর ভয় আর দুশ্চিন্তা দিতিকে ব্যাকুল করে তোলে।

