‘জীবন মানেই তো দুঃখের মাঝে আনন্দ খোঁজা!’ পর্দার লড়াই এবার বাস্তবের দর্পণে! বাস্তব সমাজ নিয়ে উদ্বেগে অভিনেত্রী কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়!

টলিউড (Tollywood) ইন্ডাস্ট্রির অত্যন্ত পরিচিত এবং শক্তিশালী অভিনেত্রী কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায় (Koneenica Banerjee)। ‘এক আকাশের নিচে’ থেকে শুরু করে বড় পর্দা এবং ওটিটি প্রতিটি মাধ্যমেই তাঁর সাবলীল অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে অভিনয় জগতের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও কনীনিকা সবসময়ই গ্ল্যামারের চাকচিক্য এড়িয়ে মাটির কাছাকাছি থাকতেই ভালোবাসেন। সম্প্রতি তাঁর নতুন কাজের ঘোষণার পাশাপাশি ব্যক্তিজীবনের এক শান্ত ও পরিণত মানসিকতার কথা ভাগ করে নিলেন এই অভিনেত্রী, যা বর্তমান সময়ের অস্থির জীবনযাত্রায় এক ইতিবাচক বার্তা দেয়।

কনীনিকা জানান, গ্ল্যামার দুনিয়ার ইঁদুর দৌড় বা না-পাওয়ার আক্ষেপ এখন আর তাঁকে বিচলিত করে না। তিনি মনে করেন, আজকের যুগে মানুষ এক অন্তহীন প্রতিযোগিতায় নাম লিখিয়েছে, যেখানে লক্ষ্য পূরণ না হলেই মানুষ ভেঙে পড়ে। তাঁর মতে, যখন এই দৌড় মানুষকে ক্লান্ত করে, তখন সবথেকে বড় আশ্রয় হলো নিজের ঘর এবং আপন মানুষেরা। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, মানুষ যদি তার শিকড় বা ‘রুট’ ভুলে গিয়ে অন্য কোথাও নিজেকে বদলে ফেলার চেষ্টা করে, তবে ফিরে আসার পথটা খুব কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি আজীবন নিজের শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পেরেছেন বলেই নিজেকে সার্থক মনে করেন।

আরও পড়ুন: ভোট দিতে পারলেন না চিরঞ্জিত চক্রবর্তী! বুথে গিয়ে ফিরলেন খালি হাতে! কেন এমনটা ঘটলো তাঁর সঙ্গে? বিস্ফোরক বর্ষীয়ান অভিনেতা!

বর্তমান প্রজন্মের জীবনধারা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে অভিনেত্রী বলেন, আগের তুলনায় আমাদের জীবন এখন অনেক বেশি ব্যয়বহুল ও জটিল হয়ে গেছে। আগেকার মায়েদের মতো বর্তমান মায়েরা ঘরে থাকছেন না, তাঁদেরও জীবিকার তাগিদে বাইরে ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে। এর পাশাপাশি ক্রেডিট কার্ডের সংস্কৃতি, মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার এবং আকাশচুম্বী চাহিদা মানুষের পারিবারিক শান্তিকে বিঘ্নিত করছে। তিনি মনে করেন, এই নতুন চ্যালেঞ্জগুলোর সঙ্গে মানিয়ে নিতে গিয়ে বাবা-মায়েরা এক কঠিন যুদ্ধের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, যা অনেক সময় সন্তান ও অভিভাবকের মধ্যে মানসিক দূরত্ব তৈরি করছে।

অভিনয় জীবনের ব্যস্ততার বাইরে তাঁর জগত এখন আবর্তিত হয় পরিবার ও সন্তানদের ঘিরে। কনীনিকা জানান, বর্তমানে তাঁর দিন কাটে তাঁর মেয়ে এবং ছেলের (পোষ্য) সঙ্গে। এমনকি সাধারণ গৃহবধূর মতো বাড়িতে রান্না করার মধ্যেও তিনি এক ধরণের অনাবিল আনন্দ খুঁজে পান। তাঁর জীবনদর্শনের মূল মন্ত্র হলো অল্পতে খুশি থাকা। তিনি বিশ্বাস করেন, দুঃখের মুহূর্ত তো সবার জীবনেই থাকে, কিন্তু সেই বিষাদের মাঝেও যারা আনন্দের উপলক্ষ খুঁজে নিতে পারে, তারাই জীবনের আসল মর্ম বুঝতে পেরেছে।

খুব শীঘ্রই বড় পর্দায় এক নতুন রূপে ধরা দিতে চলেছেন কনীনিকা। আগামী একটি প্রজেক্টে তাঁকে একজন স্কুল প্রিন্সিপালের চরিত্রে দেখা যাবে, যা তাঁর আগের করা চরিত্রগুলোর থেকে অনেকটাই আলাদা এবং গম্ভীর। এই নতুন কাজটিতে আধুনিক প্রজন্মের সন্তান এবং বাবা-মায়ের মধ্যকার টানাপোড়েন ও লড়াইয়ের গল্প ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। দীর্ঘ ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ কনীনিকা এই চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে যেমন নতুনত্ব দিতে চেয়েছেন, তেমনই তাঁর জীবনদর্শনের ছোঁয়ায় দর্শকদের এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতেও সচেষ্ট হয়েছেন।

Back to top button