ভোট দিতে পারলেন না চিরঞ্জিত চক্রবর্তী! বুথে গিয়ে ফিরলেন খালি হাতে! কেন এমনটা ঘটলো তাঁর সঙ্গে? বিস্ফোরক বর্ষীয়ান অভিনেতা!

সাধারণ নির্বাচনের আবহে ভোট দিতে গিয়ে বিপাকে পড়লেন টলিউডের (Tollywood) বর্ষীয়ান অভিনেতা তথা তৃণমূল বিধায়ক চিরঞ্জিত চক্রবর্তী (Chiranjeet Chakraborty)। বুধবার সকালে নিজের ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে গেলেও ইভিএম মেশিনে যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে শেষ পর্যন্ত ভোট না দিয়েই বুথ ছাড়তে হয় তাঁকে। বুথ থেকে বেরিয়ে তিনি জানান, মেশিনে কারিগরি সমস্যা বা ‘ডাবল প্রেস’-এর মতো কিছু একটা হয়েছে। তবে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগে তিনি যে অবিচল, তা স্পষ্ট করে দিয়ে অভিনেতা জানান যে পরিস্থিতির উন্নতি হলে তিনি দিনের অন্য সময়ে এসে পুনরায় ভোট দিয়ে যাবেন।

মেশিন বিকল হওয়া এবং ভোটগ্রহণে বিলম্ব নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই তারকা বিধায়ক। পেশাদার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আসা চিরঞ্জিত চক্রবর্তী নিজের কারিগরি জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে বলেন যে, মক পোলিংয়ের সময় কমিশনকে আরও সতর্ক ও তৎপর হতে হবে। তাঁর মতে, ভোট শুরুর আগে যান্ত্রিক ত্রুটিগুলি সম্পূর্ণভাবে খতিয়ে দেখা উচিত ছিল যাতে সাধারণ মানুষকে বুথে এসে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে না হয়। কমিশনের কার্যকারিতা নিয়ে তাঁর এই সূক্ষ্ম সমালোচনা রাজনৈতিক মহলে বেশ চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভোটকেন্দ্রের বাইরে দাঁড়িয়ে অভিনেতা সাধারণ ভোটারদের উদ্দেশ্যে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেন। তিনি ভোটারদের হাতে থাকা বিশেষ স্লিপ বা নথিটি সযত্নে রক্ষা করার কথা বলেন। চিরঞ্জিত চক্রবর্তীর মতে, এই কাগজটি হয়তো তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে নাও লাগতে পারে, কিন্তু ভবিষ্যতের কোনো নথিপত্র সংক্রান্ত কাজে বা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি হতে পারে। ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তাঁর এই বার্তা সাধারণ মানুষের মধ্যে বেশ ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।

আরও পড়ুন:  ঠান্ডা মাথার নিখুঁত ছক! সাগরের ‘অ্যা’ক্সিডেন্ট’-এর আড়ালে লুকিয়ে কোন রহস্য? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে বারাসাত লোকসভা কেন্দ্রের জন্য প্রাণপন লড়াই করার পর এবারের নির্বাচনে চিরঞ্জিত চক্রবর্তীর ভূমিকায় কিছুটা বদল এসেছে। এবার তিনি নিজে প্রার্থী নন, ফলে তাঁর সেই চিরাচরিত ব্যস্ততা বা মানসিক চাপের ছবিটা উধাও। আগে ভোট দিয়েই তিনি তড়িঘড়ি নিজের কেন্দ্রের পরিস্থিতি তদারকি করতে ছুটে যেতেন, কিন্তু এবার সেই বাধ্যবাধকতা নেই। অভিনেতা নিজেই হাসি মুখে স্বীকার করেন যে, এবার তাঁর সেই পুরোনো ‘হেডেক’ বা চাপ নেই, যা তাঁকে মানসিকভাবে অনেকটা হালকা রেখেছে।

নিজের দলের জয় নিয়ে চিরঞ্জিত চক্রবর্তী বরাবরের মতোই অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানান যে, এবারও বাংলায় সবুজের জয়গান শোনা যাবে। বিরোধী শিবিরের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, এবারের লড়াইয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের মার্জিন আরও বাড়বে। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, সাধারণ মানুষ উন্নয়ন ও ‘বাংলা বাঁচাও’ কর্মসূচির পক্ষেই রায় দেবেন। নিজের কেন্দ্রের প্রার্থীর জয়ের ব্যাপারেও তিনি শতভাগ নিশ্চিত, যা তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ফুটে ওঠে।

Back to top button