‘কেমন হলো নয়, এখন সবাই জানতে চায় কত হলো,’ ‘ভীষণ কষ্টের মধ্যে দিয়ে এই কথাগুলো বলছি!’ দীর্ঘ বিরতি শেষে ছোটপর্দায় পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়! ছোটপর্দার টিআরপি যুদ্ধ নিয়ে সরব অভিনেতা!

প্রবীণ অভিনেতা পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ( Paran Bandopadhyay) মানেই বাঙালির ড্রয়িং রুমে এক পশলা টাটকা বাতাস। দীর্ঘ কয়েক বছরের বিরতি ভেঙে তিনি আবারও ছোটপর্দায় ফিরেছেন স্টার জলসার নতুন ধারাবাহিক ‘সংসারের সংকীর্তন’-এর মাধ্যমে। ৮৪ বছর বয়সেও তার অভিনয়ের প্রতি অদম্য উৎসাহ এবং প্রাণশক্তি নতুন প্রজন্মের কাছে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সম্প্রতি ‘সিটি সিনেমা’-কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি তার এই প্রত্যাবর্তন এবং বর্তমান টেলিভিশন জগত নিয়ে নিজের গভীর জীবনবোধ ও অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নিয়েছেন।

সাক্ষাৎকারের শুরুতেই তিনি বর্তমানে মেগা ধারাবাহিকের গুণমান এবং নির্মাণের ধরণ নিয়ে কিছুটা আক্ষেপ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, আগেকার দিনে শুটিংয়ের শেষে সহকর্মীরা একে অপরকে জিজ্ঞাসা করতেন “দৃশ্যটি কেমন হলো”, কিন্তু এখনকার বাণিজ্যিক যুগে সেই জায়গা দখল করেছে “কত হলো” অর্থাৎ টিআরপি বা উৎপাদনের পরিমাণ। তার মতে, শিল্প যখন কেবল সংখ্যাতত্ত্বের মাপকাঠিতে বিচার করা হয়, তখন শিল্পের আসল আনন্দ ব্যাহত হয়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন যে, সৃজনশীল কাজে যদি বাইরের ‘মাতব্বরি’ বা অপ্রয়োজনীয় খবরদারি বৃদ্ধি পায়, তবে স্রষ্টা এবং সৃষ্টি উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

নতুন এই ধারাবাহিকের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভাশীষ মুখোপাধ্যায়ের অনবদ্য রসায়ন। অনেক বছর পর এই দুই বর্শিয়ান অভিনেতাকে একসাথে পর্দায় দেখতে পাওয়া দর্শকদের জন্য একটি বড় পাওনা। ধারাবাহিকে তাদের ‘শ্বশুর-জামাই’ সম্পর্কের অম্ল-মধুর কেমিস্ট্রি এবং হাস্যরসের মাধ্যমেই গল্পের বুনন তৈরি হয়েছে। এই প্রসঙ্গে অভিনেতা জানান যে, শুভাশীষের সাথে কাজ করা সবসময়ই উপভোগ্য এবং স্ক্রিপ্ট যত উন্নত হবে, তাদের অভিনয়ের মানও তত বেশি ফুটে উঠবে।

বাঙালি সংস্কৃতির চিরকালীন ‘বাঙাল বনাম ঘটি’ লড়াই এই ধারাবাহিকের মূল ভিত্তি। ব্যক্তিগত জীবনে নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এক মজার ও দার্শনিক ব্যাখ্যা দেন। দেশভাগের অনেক আগেই তিনি কলকাতায় চলে এসেছিলেন এবং সেখানেই তার বড় হওয়া, যদিও তার পৈতৃক শিকড় ছিল যশোরে। তিনি মনে করেন, এই ভৌগোলিক বিভাজন আসলে মানুষের তৈরি; প্রকৃত অর্থে আমরা সবাই বাঙালি। ধারাবাহিকেও এই ঘটি-বাঙাল তরজা এবং দুই পরিবারের সংস্কারের সংঘর্ষকে একটি ‘জগাখিচুড়ি’ ঘরানার বিনোদন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ হঠাৎ চিৎকার করে উঠেছিলেন গায়িকা! প্রয়াণের আগের দিনও মঞ্চে উঠেছিলেন আশা ভোঁসলে! শেষ মুহূর্তের স্মৃতি জানালেন নাতি চিন্টু!

পরিশেষে, জীবনের সায়াহ্নে দাঁড়িয়েও কাজের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত ইতিবাচক। বার্ধক্যজনিত সীমাবদ্ধতাকে মেনে নিয়ে তিনি বলেন, “কাজ ছাড়া চলব কী করে?” সময়ের গুরুত্ব এবং প্রকৃতির দানকে সম্মান জানিয়ে তিনি প্রতিদিন রাত ১০টায় দর্শকদের স্টার জলসার পর্দায় চোখ রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন। তার মতে, এই নতুন গল্পটি কেবল হাসির খোরাক নয়, বরং এর মধ্যে দিয়ে মানুষের চিরন্তন আবেগ এবং সম্পর্কের টানাপড়েনগুলোও সুন্দরভাবে ফুটে উঠবে।

Back to top button