অবশেষে হদিশ মিলল সেই রহস্যময় সিন্দুকের! প্রকাশ্যে ফুল-মুরারি কাব্যের তৃতীয় খণ্ডের রহস্য? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) তারে ধরি ধরি মনে করি (Tare Dhori Dhori Mone Kori) ধারাবাহিকের গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, কুন্তলরা চলে যাওয়ার ঠিক পরেই দিতি ও গোরা পুকুরঘাটে এসে পৌঁছায়। ঘাটের তছনছ অবস্থা এবং টাটকা পায়ের ছাপ দেখে দিতি নিশ্চিত হয় যে, তাদের আসার ঠিক আগেই কেউ এখানে তল্লাশি চালিয়েছে। দিতির মনে প্রবল সন্দেহ জাগে যে, পুলস্ত্য হয়তো কাব্যের লোভে তাদের আগেই এখানে পৌঁছে গেছে। এই ভুল ধারণার বশবর্তী হয়ে সে আসল শত্রুকে চিনতে ভুল করে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও রহস্যময় করে তোলে।

ঠিক সেই মুহূর্তে কুন্তলদের কাছে এক রহস্যময় সাধকের ফোন আসে, যিনি আগে দিতিদের আটকে রেখেছিলেন। সাধক অত্যন্ত কড়া ভাষায় কুন্তলকে হুঁশিয়ারি দেন যে, দিতি বা গোরার যেন কোনো প্রকার ক্ষতি না হয়। তাদের কোনো ক্ষতি হলে এক ভয়াবহ পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে বলে তিনি সতর্ক করেন। এই অশরীরী ও আধ্যাত্মিক শক্তির সংকেত পেয়ে কুন্তল মনে মনে কুঁকড়ে যান এবং বুঝতে পারেন যে এই দুষ্প্রাপ্য কাব্যের পেছনে কোনো অতিপ্রাকৃত বড় শক্তির হাত রয়েছে।

দিতি তার এক অজানা স্বপ্নের টানে দীঘির পাড়ে গেলে হঠাৎ কুন্তল তাকে সজোরে ধাক্কা মারে। মুহূর্তের মধ্যে দিতি জলের অতলে তলিয়ে যায়। কিন্তু এই বিপদই গল্পের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। জলের নিচে অচেতন অবস্থায় দিতি এক দিব্য জগতের অভিজ্ঞতা লাভ করে, যেখানে সে ব্রজ গোপাল দাস এবং তার পোষ্য কচ্ছপ মোহনের উপস্থিতি অনুভব করে। মোহনের মাধ্যমে দিতির এই জীবন রক্ষা কেবল একটি উদ্ধারকার্য নয়, বরং তার বিশ্বাস ও ভক্তির এক অলৌকিক প্রতিফলন হিসেবে ফুটে ওঠে।

জল থেকে উদ্ধার পাওয়ার পর দিতি যখন জ্ঞান ফিরে পায়, তার কণ্ঠে এক অদ্ভুত প্রশান্তি লক্ষ্য করা যায়। সে শান্তভাবে তার অলৌকিক অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করে এবং শ্রী নারায়ণের আরাধনায় মগ্ন হয়। গোরা প্রথমে এসব কথাকে দিতির মতিভ্রম বা পাগলামি বলে উড়িয়ে দিতে চাইলেও, দিতি হাল ছাড়ে না। সে জলের ওপর মোহনের সেই কচ্ছপ রূপটিকে একইভাবে ডেকে আনে এবং সকলের সামনে নিজের দাবির অকাট্য প্রমাণ দেয়, যা উপস্থিত সকলকে স্তব্ধ করে দেয়।

আরও পড়ুনঃ স্বপ্নপূরণের রাতে হাউসফুল শো! মঞ্চে কি পারুলের মন জিততে পারবে রায়ান? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

পরদিন দিতি ও গোরা মহাপ্রভুর দেখানো সংকেত ও আধ্যাত্মিক পথ অনুসরণ করে সেই কাঙ্ক্ষিত সিন্দুকটির সন্ধান পায়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর কাব্যের তৃতীয় খণ্ড পাওয়ার আশা জাগলেও এক নতুন বাধা সামনে এসে দাঁড়ায়। শত চেষ্টা করেও তারা সেই রহস্যময় সিন্দুকটি খুলতে ব্যর্থ হয়। এক অজানা অন্ধকার শক্তির জাল আর অলৌকিক রহস্যের দোলাচলে কাব্যের ভবিষ্যৎ এখন কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে এক গভীর সংশয় ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

Back to top button