স্বপ্নপূরণের রাতে হাউসফুল শো! মঞ্চে কি পারুলের মন জিততে পারবে রায়ান? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) পরিণীতা ধারাবাহিকে (Parineeta) গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, পারুল যখন গভীর অভিমানে রায়ানের ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যেতে উদ্যত হয়, তখন রায়ান তার পথ আটকে দাঁড়ায়। পারুলের মনে তখন ক্ষোভের আগুন; সে সোজাসুজি জানিয়ে দেয় যে তাকে আটকানোর কোনো অধিকার রায়ানের নেই। তাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্কে যে ফাটল ধরেছে, পারুল তা আর জোড়া লাগাতে চায় না। কিন্তু রায়ান অত্যন্ত শান্তভাবে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করে এবং শেষবারের মতো পারুলকে অনুরোধ করে যাতে সে রায়ানের কালকের সোলো পারফরম্যান্সটি দেখতে আসে। পারুল শেষ পর্যন্ত মন খারাপ নিয়েই রায়ানের এই শেষ অনুরোধটুকু রাখতে রাজি হয়।

পারুল রাজি হয়ে চলে যাওয়ার পর রায়ানের মনে এক নতুন জেদ চেপে বসে। সে মনে মনে ঠিক করে, কালকের এই স্টেজ পারফরম্যান্স শুধু তার ক্যারিয়ারের জন্য নয়, বরং পারুলকে তার জীবনে ফিরে পাওয়ার শেষ সুযোগ। রায়ান নিজেকে মনে মনে বলে যে, এই শো-তে তাকে নিজের সেরাটা দিতেই হবে। নিজেকে যোগ্য প্রমাণ করে তবেই সে পারুলকে তার মনের না বলা কথাটি জানাবে। রায়ানের এই আত্মবিশ্বাস আর পারুলের পাহাড়সম অভিমান—এই দুইয়ের মাঝে কালকের পারফরম্যান্সই এখন ভাগ্য নির্ধারণের প্রধান চাবিকাঠি।

অবশেষে রায়ানের বহু প্রতীক্ষিত সেই শো-এর দিনটি আসে। সবকিছু আগে থেকেই নিখুঁতভাবে গোছানো ছিল। পারুল এবং পিসিমনি রায়ানের আমন্ত্রণে সেখানে উপস্থিত হয়। রায়ান নিজে উদ্যোগী হয়ে তাদের দুজনকে একেবারে সামনের সারিতে বসিয়ে দেয়। সে পারুলকে মৃদু হেসে জানায় যে, এটিই পুরো অডিটোরিয়ামের সেরা আসন। এখান থেকে সে পারুলের প্রতিটি অভিব্যক্তি সরাসরি দেখতে পাবে। পারুলের মতামত যে রায়ানের কাছে পৃথিবীর সবকিছুর চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, তা সে আকারে-ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দেয়।

পারুলকে বসিয়ে দিয়ে রায়ান স্টেজের পেছনে গিয়ে মল্লার এবং ঋত্বিক বাবুর কাছ থেকে টিকিট বিক্রির খবর নেয়। যখন সে জানতে পারে যে শো পুরোপুরি ‘হাউসফুল’, তখন তার চোখেমুখে সাফল্যের আভা ফুটে ওঠে। সে মনে মনে আনন্দিত হয় কারণ এটাই ছিল তার ‘ড্রিম প্রজেক্ট’-এর সাফল্যের প্রথম শর্ত। দর্শকদের এই ভিড় আর উন্মাদনা রায়ানের আত্মবিশ্বাসকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। সে বুঝতে পারে যে মঞ্চ প্রস্তুত, এখন শুধু তার জাদু দেখানোর অপেক্ষা।

আরও পড়ুনঃ ‘মা হতে না পারা আজও মহিলাদের কাছে লজ্জার…’ ‘সন্তান নেই বলে মারধর…’ ব্যক্তিগত জীবনে মা হওয়া নিয়ে কী বললেন অপরাজিতা আঢ্য?

শো শুরু হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে পারুল রায়ানকে শুভকামনা জানায় এবং বলে যে সে যেন তার পারফরম্যান্স দিয়ে সবার মন জয় করে নেয়। পারুলের এই উৎসাহটুকুই ছিল রায়ানের কাছে টনিকের মতো। রায়ান তখন মনে মনে এক দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করে—সে কেবল দর্শকদের মন জয় করতে নয়, বরং পারুলকে তার জীবনে ধরে রাখার জন্য আজ নিজের সবটুকু উজাড় করে দেবে। রায়ান জানে, আজ জানপ্রাণ লাগিয়ে পারফর্ম না করলে হয়তো স্বপ্নের মানুষকে হারানো ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। তাই এক বুক আশা নিয়ে সে মঞ্চের দিকে পা বাড়ায়।

Back to top button