‘মা হতে না পারা আজও মহিলাদের কাছে লজ্জার…’ ‘সন্তান নেই বলে মারধর…’ ব্যক্তিগত জীবনে মা হওয়া নিয়ে কী বললেন অপরাজিতা আঢ্য?

বাংলা বিনোদন জগতের (Tollywood) অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র অপরাজিতা আঢ্য (Aparajita Auddy)। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তার সাবলীল অভিনয় এবং প্রাণবন্ত হাসিতে তিনি জয় করে নিয়েছেন আপামর বাঙালির মন। ছোট পর্দা হোক বা বড় পর্দা, যেকোনো চরিত্রকে জীবন্ত করে তোলার এক অদ্ভুত ক্ষমতা রয়েছে তার মধ্যে। তবে অভিনয়ের বাইরেও অপরাজিতা একজন অত্যন্ত স্পষ্টবাদী এবং পরিবারকেন্দ্রিক মানুষ হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার জীবনের অগ্রাধিকার এবং বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে সম্পর্কের জটিলতা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন। তার এই ব্যক্তিত্বের প্রতিফলনই যেন দেখা যেতে চলেছে তার নতুন ছবি ‘প্রত্যাবর্তন’-এ, যেখানে তিনি একজন মধ্যবিত্ত পরিবারের আদর্শ মা ও কর্ত্রীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন।

ব্যক্তিগত জীবন ও ক্যারিয়ারের ইঁদুর দৌড় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অপরাজিতা জানিয়েছেন যে, তার কাছে তার পরিবারই হলো জীবনের সবথেকে বড় পুরস্কার। তিনি বিশ্বাস করেন, অভিনয় বা খ্যাতি সাময়িক হতে পারে, কিন্তু পরিবারের ভালোবাসা চিরস্থায়ী। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে অস্কার পাওয়া মানে হলো আমার পরিবার এবং আমার বিয়ে।’ এমনকি ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে মুম্বাই থেকে কাজের বড় বড় সুযোগ এলেও, পরিবারের টানে এবং বিশেষ করে তার শাশুড়ি মায়ের প্রতি ভালোবাসার কারণে তিনি কলকাতা ছাড়েননি। বাইরের জগতের কোনো জটিলতা বা পেশাগত চাপ তিনি কখনোই তার অন্দরমহলে প্রবেশ করতে দেন না, যা তাকে মানসিকভাবে শান্ত থাকতে সাহায্য করে।

সমর্পণ সেনগুপ্ত পরিচালিত ‘প্রত্যাবর্তন’ ছবিটি নিয়ে অপরাজিতা বিশদ আলোচনা করেছেন। এটি মূলত একটি সচ্ছল এবং সংস্কৃতিবান পরিবারের গল্প হলেও এর পরতে পরতে লুকিয়ে আছে বর্তমান সময়ের সম্পর্কের টানাপোড়েন। ছবিতে তিন প্রজন্মের এক অদ্ভুত মেলবন্ধন ও সংঘাত দেখানো হয়েছে যেখানে দাদু-ঠাকুমা, মা-বাবা এবং সন্তানের মধ্যে মানসিক দূরত্ব গড়ে উঠছে। অপরাজিতা জানান, আজকাল সমাজ অনেক বেশি আধুনিক হলেও পরিবারের ভেতরকার যোগাযোগ বা কমিউনিকেশন কমে যাচ্ছে। মানুষ পরিস্থিতির কাছে কীভাবে হেরে যায় এবং সেই পরিস্থিতি কীভাবে সুন্দর একটি পরিবারকে অগোছালো করে দেয়, এই ছবিটি সেই বাস্তবচিত্রই তুলে ধরবে।

সাক্ষাৎকারের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল সন্তান না হওয়া এবং মহিলাদের সামাজিক অবস্থান নিয়ে আলোচনা। অপরাজিতা আঢ্য অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে জানান যে, আজও আমাদের সমাজে মা হতে না পারাটা মহিলাদের জন্য এক চরম লজ্জার বিষয় হিসেবে গণ্য করা হয়। শহর কলকাতায় শিক্ষিত সমাজের মধ্যে এই ধারণা কিছুটা বদলালেও গ্রামগঞ্জে বা মফস্বলে আজও সন্তান না হওয়ার কারণে মহিলাদের অত্যাচার সহ্য করতে হয়, এমনকি বাড়ি থেকেও তাড়িয়ে দেওয়া হয়। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন যে, সন্তান হওয়াটা কোনো মেয়ের একমাত্র পরিচয় হতে পারে না। একজন নারী হিসেবে তার নিজের একটি আলাদা অস্তিত্ব আছে। সমাজ আজও এই ‘ট্যাবু’ বা কুসংস্কার থেকে পুরোপুরি মুক্ত হতে পারেনি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

আরও পড়ুনঃ এক ধাক্কায় সব শেষ! মাঝ রাস্তায় উল্টে গেলো পরমব্রতর গাড়ি! র’ক্তে ভিজে গেল শরীর! ধারাবাহিকের শুরুতেই শেষ নায়কের যাত্রা? চোখে জল ভক্তদের!

বর্তমান সময়ের ডিজিটাল যুগে বাবা-মা ও সন্তানদের মধ্যকার দূরত্ব নিয়েও অপরাজিতা তার সুচিন্তিত মতামত দিয়েছেন। তিনি লক্ষ্য করেছেন যে, এখনকার ছেলেমেয়েরা প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে, যার ফলে তারা একাকীত্ব ও ডিপ্রেশনে ভুগছে। মা-বাবার সময় না দেওয়া বা সন্তানদের ইচ্ছেকে গুরুত্ব না দেওয়া থেকেই এই সমস্যার সৃষ্টি। অভিনেত্রী মনে করেন, এখনকার সন্তানদের শাসন করা কঠিন, কারণ তারা নিজেদের স্পেস নিয়ে অনেক বেশি সচেতন। ছবিতেও দেখা যাবে কীভাবে একটি শিক্ষিত পরিবারের সন্তান সামাজিক পরিস্থিতির শিকার হয়ে বিপথে চলে যাচ্ছে। এই জটিলতা থেকে উত্তরণের উপায় হিসেবে তিনি একে অপরের সাথে সময় কাটানো এবং প্রকৃত মানবিক মূল্যবোধে ফিরে আসার ওপর জোর দিয়েছেন।

Back to top button