‘মানুষ রাজনীতিতে আসে নিজের সেবা করতে, লোকের জন্য তারা ভাবে না…’ রাজনীতি আমার জন্য নয়…’ ছোটবেলার ভোটের স্মৃতি থেকে বর্তমানে দুর্নীতি! সব নিয়ে অকপটে শুভাশীষ মুখার্জী!

বাংলা বিনোদন জগতের একজন অন্যতম জনপ্রিয় মুখ শুভাশীষ মুখার্জী। রাজনীতি নিয়ে তার চিন্তাভাবনা একেবারেই অন্যরকম। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানালেন, তিনি উত্তর কলকাতার ছেলে এবং সেখানকার পুরনো পাড়ার পরিবেশ আজও তাঁর মনে গেঁথে আছে। দর্জিপাড়ার ছিদাম মুদি লেনে বড় হওয়া অভিনেতার কথায়, ছোটবেলায় ভোট মানে ছিল এক আলাদা উৎসবের আবহ। তখন রাজনীতি পুরো বুঝতেন না, কিন্তু চারপাশের পরিবেশ তাঁকে টানত।
তিনি বলেন, সেই সময় ভোট এলেই পাড়াজুড়ে দেওয়াল লিখন, পোস্টার লাগানো আর প্রচারের ব্যস্ততা শুরু হয়ে যেত। কংগ্রেস ও সিপিএমের প্রভাব ছিল চোখে পড়ার মতো। মতভেদ থাকলেও মানুষের মধ্যে তেমন শত্রুতা ছিল না। রাজনৈতিক বিরোধিতা সত্ত্বেও সবাই একসঙ্গে মিশতেন, বন্ধুত্ব বজায় থাকত।
শুভাশীষ জানান, ছোটবেলায় তিনিও মাঝে মাঝে বড়দের সঙ্গে পোস্টারে আঠা লাগানোর কাজে যোগ দিতেন। কোন দল কী, তা বুঝতেন না, কিন্তু সেই কাজে ভীষণ আনন্দ পেতেন। হাতে আঠা মেখে ঘুরে বেড়ানোর স্মৃতি এখনও তাঁর কাছে খুব প্রিয়। ভোটের সেই আনন্দঘন পরিবেশ এখন আর চোখে পড়ে না বলেও জানান অভিনেতা।
কলেজ জীবন কাটিয়েছেন জয়পুরিয়া কলেজে, যেখানে ছাত্ররাজনীতি যথেষ্ট সক্রিয় ছিল। তবুও তিনি সবসময় এই ক্ষেত্র থেকে দূরেই থেকেছেন। তাঁর মতে, যেটা তিনি বোঝেন না, সেটা নিয়ে কথা বলা ঠিক নয়। একই সঙ্গে বিনোদন জগতের মানুষদের রাজনীতিতে যোগ দেওয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ ‘আমি কালো ছিলাম তাই আমাকে…’ বাবা-মা থাকতেন আন্ডারগ্রাউন্ডে! অভিনেতা চন্দন সেনের বড় হয়ে ওঠার আড়ালে লুকিয়ে কোন অজানা ইতিহাস?
অভিনেতার কথায়, অভিনয়ের মাধ্যমে মানুষকে আনন্দ দেওয়াও এক ধরনের সেবা। তাই শুধু মানুষের সেবা করার কথা বলে রাজনীতিতে যাওয়ার যুক্তি তিনি মানতে পারেন না। তাঁর মতে, পুরনো দিনের রাজনীতি ও বর্তমান পরিস্থিতির মধ্যে বড় ফারাক তৈরি হয়েছে। তাই আজকের রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য না করে ছোটবেলার স্মৃতিগুলোকেই আগলে রাখতে চান তিনি।

