‘বিপ্লবদা শুধু শিল্পী ছিলেন না, আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ছিলেন!’ ‘ওঁর থেকেই শিখেছি কীভাবে…’ বিপ্লব দাশগুপ্তর প্রয়াণে আবেগপ্রবণ ইমন চক্রবর্তী!

বাংলা নাট্যজগত ও চলচ্চিত্র জগতের (Tollywood) এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের পতন হলো। গত ২৪শে এপ্রিল, শুক্রবার দক্ষিণ কলকাতার নিজ বাসভবনে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন প্রবীণ অভিনেতা বিপ্লব দাশগুপ্ত (Biplab Dasgupta)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। তাঁর প্রয়াণে টলিপাড়ায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দীর্ঘ অভিনয় জীবনে মঞ্চ, ছোট পর্দা এবং সিনেমা সব মাধ্যমেই তিনি নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে বাংলা বিনোদন জগতের অপূরণীয় ক্ষতি হলো বলে মনে করছেন শিল্পী মহলের বিশিষ্টরা।

বিপ্লব দাশগুপ্তের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত গায়িকা ইমন চক্রবর্তী। তাঁর কাছে ‘বিডিজি’ কেবল একজন সহকর্মী ছিলেন না, ছিলেন এক পরম শ্রদ্ধার শিক্ষক এবং অভিভাবক। ইমন অত্যন্ত আবেগঘন কণ্ঠে জানান যে, তাঁর কর্মজীবনের একদম শুরুতে বিপ্লব দাশগুপ্তের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। ২০১২-১৩ সালে কলকাতা শহরে ইমনের প্রথম অনুষ্ঠানের সূচনায় অন্যতম প্রধান অনুপ্রেরণা ছিলেন তিনি।পেশাগত সম্পর্কের ঊর্ধ্বে উঠে বিপ্লব দাশগুপ্ত হয়ে উঠেছিলেন ইমনের সেই বিশ্বস্ত বন্ধু, যাকে ফোন করে তিনি নির্দ্বিধায় নিজের মনের কথা বা মন খারাপের গল্প বলতে পারতেন।

অভিনেতার শেষ দিনগুলোতেও তাঁর পাশে ছিলেন ইমন। তিনি জানান, বিপ্লব দাশগুপ্ত কেবল শিল্পের শিক্ষাই দেননি, শিখিয়েছেন জীবনের গভীর দর্শন। অভিনেতা অসুস্থ থাকাকালীনও ইমনকে সবসময় ইতিবাচক থাকার এবং জীবনে আনন্দ খুঁজে নেওয়ার পরামর্শ দিতেন। গায়িকার মতে, তিনি যা যা ‘লাইফ লেসন’ বা জীবনশিক্ষা পেয়েছেন, তা এই বর্ষীয়ান অভিনেতার কাছ থেকেই। অভিনেতার প্রয়াণে তাঁর স্ত্রী রুমার পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছেন ইমন। তিনি বলেন, বিডিজি যেভাবে তাঁকে স্নেহ করতেন, তাতে মনে হচ্ছে সত্যিই তাঁর খুব আপন কেউ চলে গেলেন।

বিপ্লব দাশগুপ্তের অভিনয় জীবনের দিকে তাকালে দেখা যায় এক বর্ণময় ক্যারিয়ার। বহুরূপী থিয়েটার গ্রুপের মাধ্যমে সত্তর দশকে শম্ভু মিত্রের হাত ধরে তাঁর অভিনয়ের শুরু। পরবর্তীতে অঞ্জন দত্তের হাত ধরে তিনি টেলিভিশন ও টেলিফিল্মের জগতে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘বাইশে শ্রাবণ’, ‘গুমনামী’, ‘৮৯’, ‘ময়ূরাক্ষী’ এবং ‘কণ্ঠ’। এছাড়াও শ্রীজিত মুখোপাধ্যায়ের ছবিতে তাঁর চরিত্রগুলো দর্শকের মনে গভীর রেখাপাত করেছে। শুধু বাংলা নয়, ২০০৪ সালে ‘শ্যাডোস অফ টাইম’-এর মতো আন্তর্জাতিক প্রজেক্টেও তিনি অভিনয় করেছিলেন। মঞ্চে তাঁর পরিচালিত ও অভিনীত ‘ম্যাকবেথ’ নাটকটি আজও বিদগ্ধ মহলে সমাদৃত।

আরও পড়ুনঃ ‘একগাদা দাগ ছাড়া নিজের পেট কবে শেষ দেখেছি মনে নেই…’ ‘১৯ বছর বয়সেই মা হওয়াটা আমার…’ অল্প বয়সেই মাতৃত্বের সিদ্ধান্ত! কি বললেন অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়?

মঞ্চ ও ক্যামেরার বাইরে বিপ্লব দাশগুপ্ত ছিলেন একজন বিদগ্ধ মানুষ এবং দূরদর্শনের একসময়কার জনপ্রিয় সংবাদ পাঠক। তাঁর বাচনভঙ্গি এবং কণ্ঠস্বর দর্শকদের মুগ্ধ করত। থিয়েটার, সিনেমা এবং অডিও নাটকের প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি যে বুদ্ধদীপ্ত অভিনয় ও পরিশীলিত বোধের পরিচয় দিয়ে গেছেন, তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে উদাহরণ হয়ে থাকবে। তাঁর প্রয়াণে টলিউড কেবল একজন অভিনেতাকে হারালো না, হারালো এক নিঃস্বার্থ মেন্টর এবং শিল্পের সাধককে। তাঁর এই অকাল বিদায়ে শোক প্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের বহু বিশিষ্ট নাট্যকার ও অভিনেতা।

Back to top button