‘একগাদা দাগ ছাড়া নিজের পেট কবে শেষ দেখেছি মনে নেই…’ ‘১৯ বছর বয়সেই মা হওয়াটা আমার…’ অল্প বয়সেই মাতৃত্বের সিদ্ধান্ত! কি বললেন অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়?

টলিউডের (Tollywood) অন্যতম স্পষ্টবাদী ও সাহসী অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিত স্বস্তিকা মুখার্জি (Swastika Mukherjee)। সমসাময়িক বাংলা চলচ্চিত্রের শক্তিমান অভিনেতা অনির্বাণ চক্রবর্তীর সঞ্চালনায় সম্প্রতি এক অন্যরকম আড্ডায় মাতেন তিনি। গ্ল্যামার দুনিয়ার চাকচিক্য ছাপিয়ে এই দুই শিল্পীর আলোচনায় উঠে এল নারীর শরীরের এক অমোঘ বাস্তব বডি পজিটিভিটি বা নিজের শরীরকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করার গল্প। অনির্বাণ চক্রবর্তীর সাবলীল প্রশ্নের সামনে স্বস্তিকা যেভাবে নিজের ব্যক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরলেন, তা সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

নিজের জীবনের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ের স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে স্বস্তিকা মাতৃত্বকালীন শারীরিক পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে কী…আমি অনেক কম বয়সে মা হয়েছিলাম…আমার প্রেগন্যান্সির কারণে পেটে এখনও প্রচুর স্ট্রেচ মার্কস রয়েছে’। সাধারণত পর্দার অভিনেত্রীরা যেখানে তাঁদের শরীরের খুঁত ঢেকে রাখতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, সেখানে স্বস্তিকা অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে জানালেন যে, মাতৃত্বের এই স্বাভাবিক দাগগুলো তিনি কখনোই মুছে ফেলতে বা গোপন করতে চাননি। তাঁর মতে, এই দাগগুলো কোনো ত্রুটি নয়, বরং জীবনের এক নতুন অধ্যায়ের শুরু।

১৯-২০ বছর বয়সে মা হওয়ার পর থেকে তাঁর শরীর যে নতুন রূপ নিয়েছে, তাকেই তিনি আপন করে নিয়েছেন। নিজের শরীরের প্রতি অগাধ ভালোবাসা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘স্ট্রেচ মার্কস ছাড়া আমার পেটটা দেখতে কেমন ছিল তা আমার আর মনে নেই। আমি শুধু আমার এই পেটটাকেই চিনি, যেখানে প্রচুর দাগ রয়েছে’। অভিনেত্রীর এই বক্তব্যের মাধ্যমে এক গভীর জীবনদর্শন প্রকাশ পায় যেখানে সৌন্দর্য মানে কেবল নিখুঁত ত্বক নয়, বরং নিজের সমস্ত পরিবর্তনকে হাসিমুখে গ্রহণ করা। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে এই দাগগুলোকে সঙ্গে নিয়েই তিনি তাঁর সফল ক্যারিয়ার ও জীবন অতিবাহিত করছেন।

এই আড্ডার সবচেয়ে অনুপ্রেরণামূলক অংশটি ছিল যখন স্বস্তিকা একজন বন্ধুর দেওয়া বিশেষ উপমার কথা শেয়ার করেন। তিনি বলেন, তাঁকে কেউ একজন বলেছিলেন যে, ‘আমার পেটটা দেখতে অনেকটা একজন যোদ্ধার মতো’। এই কথার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে অভিনেত্রী বোঝাতে চান যে, একটি সন্তানকে জন্ম দেওয়া এবং লালন-পালনের এই দীর্ঘ প্রক্রিয়াটি কোনো যুদ্ধের চেয়ে কম নয়। একজন যোদ্ধা যেমন তাঁর গায়ের ক্ষত চিহ্নকে বীরত্বের প্রতীক হিসেবে দেখেন, স্বস্তিকার কাছেও তাঁর স্ট্রেচ মার্কসগুলো ঠিক তেমনই এক গৌরবের অলঙ্কার, যা তাঁর সহনশীলতা ও শক্তির প্রমাণ দেয়।

আরও পড়ুনঃ হানি বাফনার নতুন চমক? ‘বাবলি সুন্দরী’তে সিঙ্গল বাবার চরিত্রে হানি! মেয়ের ভূমিকায় ছোট্ট শ্রীনিকা! কবে থেকে শুরু হচ্ছে এই নতুন মেগা?

স্বস্তিকা এক জোরালো প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন সমাজের তথাকথিত সৌন্দর্যের মাপকাঠির দিকে। তিনি বলেন, ‘তাহলে এটা নিয়ে কেন লজ্জিত বোধ করব?’। এই একটি প্রশ্নের মাধ্যমে তিনি সেই সব নারীদের আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছেন, যাঁরা মাতৃত্বের পর নিজেদের শরীর নিয়ে হীনম্মন্যতায় ভোগেন। অনির্বাণ ও স্বস্তিকার এই খোলামেলা আলোচনা প্রমাণ করে দেয় যে, বডি শেমিং-এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হলে সবার আগে নিজেকে ভালোবাসতে শিখতে হবে। স্বস্তিকার এই সাহসী পদক্ষেপ আগামী দিনে অনেক নারীকে নিজের শরীর নিয়ে গর্বিত হতে অনুপ্রাণিত করবে।

Back to top button