গোরার কপালে চিন্তার ভাঁজ! ইন্দুকে নিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর রক্তিম! বড় বিপদের মুখে দিতি-গোরা? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) তারে ধরি ধরি মনে করি (Tare Dhori Dhori Mone Kori) ধারাবাহিকের গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, কুন্তলের এই রাগের পেছনে লুকিয়ে আছে এক দীর্ঘ দীর্ঘশ্বাস। গুরুদেব যখন তাকে তার অতীতের কথা মনে করিয়ে দেন, তখন জানা যায় যে ‘ফুল মুরারী’ কাব্যটি কুন্তলের জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। গত জন্মে সে গোরাকে পাগলের মতো ভালোবেসেছিল এবং তাকে নিজের করে পেতে চেয়েছিল। কিন্তু ভাগ্যের নিষ্ঠুর পরিহাসে তার সেই ভালোবাসা অপূর্ণ থেকে যায়। সেই পুরনো কষ্ট আর না পাওয়া ইচ্ছাগুলো বুকে নিয়েই সে এই জন্মে ফিরে এসেছে, যেন কোনোভাবেই এবার তার স্বপ্ন হাতছাড়া না হয়।
বর্তমানে দিতি এবং পুলস্ত্যের মধ্যে এক দারুণ লড়াই শুরু হয়েছে। তাদের দুজনের মধ্যেই চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে যে, কে সবার আগে ওই রহস্যময় বইয়ের তিন নম্বর খণ্ডটি খুঁজে বের করতে পারবে। দিতি এবং পুলস্ত্য যখন এই নিয়ে ব্যস্ত, তখন আড়ালে থেকে কুন্তল নিজের ঘুঁটি সাজাচ্ছে। সে মনে মনে ঠিক করেছে যে, দিতি বা পুলস্ত্য কাউকেই সে এই কাজে সফল হতে দেবে না। সে চায় সবার আগে ওই বইটি নিজের কবজায় নিতে, যাতে তার জীবনের অসমাপ্ত গল্পটি সে নিজের মতো করে শেষ করতে পারে।
গল্পে এক অলৌকিক মোড় আসে যখন দিতি স্বপ্নে দেখতে পায় যে ‘ফুল মুরারী’ কাব্যের সেই নিখোঁজ তৃতীয় খণ্ডটি আসলে কোথায় আছে। ঘুম থেকে উঠে দিতি যখন উত্তেজনার সাথে গোরাকে এই স্বপ্নের কথা বলে, গোরা প্রথমে তা মোটেও বিশ্বাস করতে চায় না। গোরার কাছে এটা নিছক একটা কল্পনা মনে হয়। কিন্তু ঠিক তখনই মহাপ্রভু দিতিকে এক বিশেষ ইশারা দেন, যা দেখে দিতি নিশ্চিত হয় তার স্বপ্ন সত্যি। তবে বিপদের কথা হলো, আড়ালে লুকিয়ে থেকে কুন্তল তাদের এই সব কথা শুনে নেয় এবং সেও বইটির সন্ধানে সতর্ক হয়ে ওঠে।
দিতি দমে যাওয়ার পাত্রী নয়, সে গোরার কাকার সাহায্য নিয়ে সেই নির্দিষ্ট বাড়ির ঠিকানা খুঁজে বের করে যেখানে বইটির সন্ধান পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। এরপর দিতি আর গোরা মিলে সেই বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। একদিকে কুন্তল তাদের পিছু নিয়েছে, অন্যদিকে বইটির গুরুত্ব গোরার কাছে ক্রমেই পরিষ্কার হচ্ছে। দিতি আর গোরা যখন ওই বাড়ির দিকে এগোচ্ছে, তখন তাদের মনে যেমন জেদ কাজ করছে, ঠিক তেমনই এক অজানা ভয়ও দানা বাঁধছে যে কুন্তল হয়তো তাদের আগেই সেখানে পৌঁছে যেতে পারে।
আরও পড়ুনঃ চন্দ্রাবতীকে টেক্কা দিতে মল্লার নিয়ে এল গুপ্ত ক্যামেরা! পারুলের মোক্ষম চালে কি কুপোকাত হবে চন্দ্রাবতী সান্যাল?
সবশেষে গল্পের মোড় এক নতুন দিকে ঘোরে রক্তিমের একটি ফোন কলের মাধ্যমে। গোরার গাড়িতে যাওয়ার সময় রক্তিম দিতিকে ভিডিও কল করে জানায় যে, সে গোস্বামী বাড়িতে পৌঁছে গেছে। রক্তিমের গলায় ছিল এক কঠিন সংকল্প; সে পরিষ্কার জানিয়ে দেয় যে যেভাবেই হোক সে আজ ইন্দুকে ওই বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যাবেই। রক্তিমের এই অনমনীয় মনোভাব শুনে দিতি ভীষণ চিন্তায় পড়ে যায় এবং গোরার মধ্যেও অস্থিরতা শুরু হয়। পরিস্থিতি এখন এতটাই জটিল হয়ে উঠেছে যে সামনের দিনগুলোতে দিতি ও গোরার জন্য আরও বড় কোনো বিপদ অপেক্ষা করছে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে এক গভীর অনিশ্চয়তা।

