পিসি ঠাম্মির নজর এড়িয়ে রাহিকে কলেজে পাঠানোর মাস্টারপ্ল্যান করলো রাহুল! অন্যদিকে সংসারের চরম অনটনেও শপিংয়ে মত্ত তিতলি! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

স্টার জলসার (Star Jalsha) নতুন ধারাবাহিক ‘শুধু তোমারই জন্য’ (Sudhu Tomari Jonno) নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ এখন আকাশছোঁয়া। দীর্ঘ বিরতির পর দীপান্বিতা রক্ষিতের পর্দায় প্রত্যাবর্তন এবং অভিনেতা শুভ্রজিৎ সাহার সাথে তাঁর অনবদ্য রসায়ন শুরুতেই বাজিমাত করেছে। ধারাবাহিকের গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, দত্ত পরিবারের সাজানো সংসারে হঠাৎ করেই দুর্যোগের মেঘ ঘনিয়ে আসে। তাদের ট্যুরিজম ব্যবসার একটি বাস বিকল হয়ে যাওয়ায় মাঝপথে সমস্ত ট্রিপ বাতিল করতে হয়। এর ফলে ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে গিয়ে পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়ে। টেলিভিশনে এই দুঃসংবাদ দেখে পিসি ঠাম্মি ভেঙে পড়েন এবং পরিবারের এই বিপদে সকলকে পাশে দাঁড়ানোর কথা বলেন। বাড়ির মেজো বউ রাহি মন নরম করে তার বেতনের টাকা দিয়ে পরিবারকে সাহায্য করতে চাইলে বাঁধে আসল বিপত্তি। পিসি ঠাম্মির রক্ষণশীল মনোভাবের কারণে তিনি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেন না যে বাড়ির বউ বাইরে চাকরি করবে। এই নিয়ে বাড়িতে এক চরম অস্থির পরিবেশ তৈরি হয়।
ঘটনার ধারাবাহিকতায় আজকের পর্বের শুরুতে দেখা যায়, পিসি ঠাম্মি সাফ জানিয়ে দেন যে রাহি আর কলেজে বা চাকরিতে যেতে পারবে না। বড়দের অবাধ্য হতে না পেরে রাহি কাউকে কিছু বোঝাতে না পেরে কাঁদতে কাঁদতে ঘরে চলে যায়। অন্যদিকে, রাহুল তার মা কনককে বোঝানোর চেষ্টা করে যাতে সে রাহির পাশে দাঁড়ায়। কনক চরিত্রের এক অদ্ভুত দিক উন্মোচিত হয় তিনি মাঝেমধ্যে রেগে গেলেও মূলত তার মনটা বড্ড ভালো। মা ও ছেলের এই কথোপকথনের মাধ্যমে এক দুর্দান্ত আবেগময় মুহূর্ত তৈরি হয়, যেখানে কনকের অন্তরের মাতৃত্ব ও কোমলতা ফুটে ওঠে।
অভিমানী রাহি যখন ছাদে একা বসে ছিল, রাহুল তখন খাবার নিয়ে তার কাছে যায়। রাহি খেতে অস্বীকার করলে রাহুলও না খেয়ে থাকার জেদ ধরে। ঠিক সেই মুহূর্তে সেখানে খাবার নিয়ে হাজির হন কনক। তিনি রাহুলের ওপর রাগ ভুলে পরম মমতায় দুজনকে সব খাবার শেষ করার নির্দেশ দেন। শাশুড়ি ও পুত্রবধূর মাঝখানে যে অদৃশ্য দেওয়াল ছিল, তা যেন মায়ের ভালোবাসায় মুহূর্তের জন্য মিলিয়ে যায়। এই দৃশ্যটি দর্শকদের মনে এক গভীর প্রশান্তি দেয় এবং প্রমাণ করে যে কঠিন সময়েও পরিবারের টান অটুট থাকে।
পরদিন সকালে রাহির কলেজে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা ছিল, যা মিস করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। কিন্তু পিসি ঠাম্মির কড়াকড়ি শাসনের মাঝে কীভাবে রাহি বাইরে যাবে, তা নিয়ে রাহুল, মিমো ও অনি মাঝরাতে গভীর আলোচনায় বসে। কোনো উপায় খুঁজে না পেয়ে অনি শেষমেশ হ্যারিকে ফোন করে। সকালে হ্যারি বাড়িতে এসে এক অদ্ভুত ছক কষে। সে বাড়িতে পুজোর মিথ্যে অজুহাত দিয়ে পিসি ঠাম্মিকে বোকা বানায়। পুজোর কথা শুনে ধর্মপ্রাণ পিসি ঠাম্মি উল্টে রাহিকে তাড়াতাড়ি যাওয়ার জন্য তাড়া দেন। এভাবেই রাহুল ও তার বন্ধুদের বুদ্ধিতে রাহি পরীক্ষার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হতে সফল হয়।
আরও পড়ুনঃ ‘পুরো রানু মণ্ডল!’ ‘এটা মেকআপ নাকি চুনকাম?’ ‘যাত্রাপালায় ছেলেদের মেয়ে সাজালে যেমন লাগে ঠিক তেমন…’ ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তর ছবি দেখে সমালোচনার ঝড়! একাধিক কটুক্তি ও মন্তব্যে উত্তপ্ত সমাজ মাধ্যম!
বাড়ির এই চরম অর্থকষ্টের মাঝেও তিতলির কোনো হেলদোল দেখা যায় না। সে একগাদা শপিং করে এসে উল্টে বাড়ির বড়দের কাছে দশ হাজার টাকা দাবি করে বসে। তার এই দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে বাড়ির সবাই ভীষণ রেগে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে হ্যারি তাকে ছয় হাজার টাকা দিয়ে আপাতত চুপ থাকতে বলে। এমনকি তিতলির ছোট ভাই যখন তার নিজের জমানো জমানো টাকা সাহায্যের জন্য দিতে চায়, নির্লজ্জ তিতলি সেই টাকাও কেড়ে নেয়। একদিকে রাহির আত্মসম্মান রক্ষার লড়াই আর অন্যদিকে তিতলির স্বার্থপরতা—সব মিলিয়ে দত্ত বাড়ির আগামী দিনগুলো আরও রোমাঞ্চকর হয়ে উঠেছে।

