‘বিপদের দিনে আমায় কোনও সাহায্য করেনি…’ ‘আমি তো আর ম’রে যেতে পারবো না আর্টিস্ট ফোরামের চোখ খোলার জন্য!’ ইন্ডাস্ট্রির মাথা হয়েও বিপদের দিনে পাশে থাকেনি আর্টিস্ট ফোরাম! মুখ খুললেন স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়!

টলিউডের (Tollywood) অন্যতম ঠোঁটকাটা এবং স্পষ্টভাষী অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিত স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় (Swastika Mukherjee)। অভিনয়ের দক্ষতার পাশাপাশি সমসাময়িক বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাগত ইস্যু নিয়ে সোজাসাপ্টা কথা বলতে তিনি কখনোই দ্বিধাবোধ করেন না। দীর্ঘ কেরিয়ারে তিনি যেমন বাণিজ্যিক ছবিতে কাজ করেছেন, তেমনই সমান্তরাল ছবিতেও তাঁর অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। তবে সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে তিনি অভিনয় জগতের শিল্পীদের সংগঠন ‘আর্টিস্ট ফোরাম’ সম্পর্কে এমন কিছু মন্তব্য করেছেন, যা টলিপাড়ায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

আর্টিস্ট ফোরামের সদস্যপদ না থাকা প্রসঙ্গে স্বস্তিকা তাঁর দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, দুই-তিন বছর আগে এক ভয়াবহ বিপদের সময় তিনি সংগঠনটির দ্বারস্থ হয়েছিলেন, কিন্তু সেখান থেকে কোনো সাড়া পাননি। তাঁর অভিযোগ, সেই সময়কার করা মেইলের উত্তর তিনি আজও পাননি। তিনি যখন আইনি লড়াই লড়ছিলেন, তখন ফোরামের উচ্চপদস্থ কেউ বা সাধারণ সদস্য কারোর পক্ষ থেকেই একফোটা সমবেদনা বা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয়নি।

অভিনেত্রী সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘না আমি তো আর্টিস্ট ফোরামের মেম্বার নই। মেম্বার নই কারণ আমি চূড়ান্ত বিপদের সময়ও আর্টিস্ট ফোরামকে যোগাযোগ করে কোনো রকম কোনো হেল্প পাইনি। মানে তিন বছরের আগে বা দু বছরের আগে করা একটা মেইলের উত্তর আমি এখনো পাইনি আর্টিস্ট ফোরাম থেকে। আজ অব্দি আমাকে কেউ ফোন করে একবারও জিজ্ঞেস করেনি যে কী হয়েছিল বা কোন হেল্প চাই কিনা। আমি নিজেই লয়ার ঠিক করেছি, আমি নিজেই থানা পুলিশ করেছি, আমি নিজে যা যা আমার করতে হতো সেগুলো আমি সব নিজেই করেছিলাম।’

অভিনেত্রী আরও বলেন, ‘আমাকে পরে বলা হয়েছিল ছ-সাত মাস পরে কেউ একজন ফোন করে বলেছিল যে মেইল চেক করার নাকি কেউ নেই। তো কাগজ-কাগজে তো বেরচ্ছে, প্রত্যেকটা কাগজে বেরিয়েছিল, আমি এটা নিয়ে সবার সঙ্গে কথা বলেছিলাম, সোশ্যাল মিডিয়াতে এটা নিয়ে লেখালেখি হয়েছিল। তো মানুষ তো অন্ধ নয়, চোখে তো পড়ছে। কেউ আমাকে ফোন করে একটা কথাও জিজ্ঞেস করেনি ওই সময় যে কী হয়েছে বা তোর কী কোনো হেল্প লাগবে বা কিছু কী দরকার। কেউ না—মাথারাও না, মাথার পরে যারা আছে তারাও না, নো ওয়ান। তো আমি মনে করি না যে আমি মেম্বার হয়ে কী করব? আমি মেম্বারশিপের টাকাও দিই না, মেম্বার নই, আর মেম্বার হবও না। আমি তো আর মরে যেতে পারব না আর্টিস্ট ফোরামের ঘুম ভাঙানোর জন্য। তাহলে তো আমাকে মরে যেতে হবে তাহলে সবাই একত্রিত হব। তা আমার তাতে লাভটা কী হবে? আমি তো থাকব না দেখার জন্য যে আমি যখন নেই তখন লোকেরা কী করছে আর না করছে।’

স্বস্তিকার এই বক্তব্যের বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, তিনি মূলত সংগঠনের দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। যখন একজন শিল্পী প্রডিউসার বা অন্য কোনো পক্ষের সাথে বিবাদে জড়ান, তখন সংগঠনের নৈতিক দায়িত্ব থাকে তাঁর পাশে দাঁড়ানো। কিন্তু স্বস্তিকার ক্ষেত্রে ফোরামের ‘মেইল চেক করার লোক নেই’ এই অজুহাতটিকে তিনি চরম অপেশাদারিত্ব হিসেবে গণ্য করেছেন। বিশেষ করে যখন বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছিল, তখন সংগঠনের এই নীরবতা তাঁকে মানসিকভাবে আঘাত করেছে।

আরও পড়ুনঃ ‘শ্বেতা কি বলির পাঁঠা!’ ‘ও এমন একটা মানুষ যাকে…’ ‘দয়া করে ওকে একটু ভালো থাকতে দিন!’ রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃ’ত্যুতে অভিনেত্রীর দিকে কটাক্ষের ঝড়! শ্বেতার পাশে দাঁড়িয়ে মুখ খুললেন তিতিক্ষা দাস!

স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় এটি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে শুধুমাত্র নামমাত্র সদস্যপদ বজায় রাখার কোনো অর্থ তাঁর কাছে নেই। তিনি মনে করেন, বিপদে পাশে না থাকলে সেই সংগঠনের সাথে যুক্ত থাকার কোনো সার্থকতা থাকে না। তাঁর এই মন্তব্যের মাধ্যমে টলিউডের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং শিল্পী সংগঠনের কার্যকারিতা নিয়ে পুনরায় নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, যা আগামী দিনে আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে।

Back to top button