যমের দুয়ার থেকে গোরাকে ফেরালো কুন্তল! ফুল মুরারী কাব্যের সন্ধানে পুলস্ত্যের ঘরে দিত! ধরা পড়ার মুখে কি ফাঁস হলো বড় কোনো রহস্য? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) তারে ধরি ধরি মনে করি (Tare Dhori Dhori Mone Kori) ধারাবাহিকের গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, রক্তিমের পরাজয় এবং পুলস্ত্যের কুটিল ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে গল্পের এক নতুন ও ভয়ংকর অধ্যায় শুরু হয়েছে। মানসিকভাবে ভেঙে পড়া রক্তিমকে নিজের হাতের পুতুল বানিয়ে ফেলে পুলস্ত্য। সে রক্তিমের মনে ‘অদৃশ্য শক্তি’ ও ‘মহাপ্রভুর ছায়া’-র মতো নানা কুসংস্কার ঢুকিয়ে দেয়। প্রতিশোধের নেশায় পাগল রক্তিম শেষ পর্যন্ত এক রহস্যময় গুরুজীর আশ্রয়ে যায়। এখান থেকেই গল্পটি বাস্তবতার গণ্ডি পেরিয়ে এক অতিপ্রাকৃত ও তান্ত্রিক মোড় নেয়, যেখানে যুক্তিবাদী গোরার বিরুদ্ধে শুরু হয় অশুভ শক্তির এক মরণকামড়।
যুক্তিবাদী গোরা এবং দিতি ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেনি যে তাদের জন্য এত বড় বিপদ অপেক্ষা করছে। গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন অবস্থায় গোরার ওপর এক প্রাণঘাতী কালো শক্তির প্রয়োগ করা হয়। দিতি পাশে থেকেও এই অদৃশ্য ষড়যন্ত্রের আঁচটুকু করতে পারেনি। গোরার জীবন যখন প্রদীপ নেভার মতো অবস্থায় পৌঁছে গিয়েছিল, ঠিক তখনই দৃশ্যপটে আবির্ভাব ঘটে রহস্যময়ী কুন্তলিনীর। সে সাধারণ কোনো মেয়ে নয়, তার শক্তির উৎসও বেশ গভীর এবং সম্ভবত তা অশুভ কোনো প্রভাবের সাথে যুক্ত।
আজকের পর্বে কুন্তলই হয়ে ওঠে গোরার রক্ষাকর্তা। যদিও সে অনেক অন্যায় করেছে এবং তার চরিত্র নিয়ে অনেক রহস্য আছে, কিন্তু গোরার প্রতি তার ভালোবাসাটা ছিল একদমই খাঁটি। কুন্তল সঠিক সময়ে উপস্থিত না হলে গোরাকে হয়তো আর বাঁচানো সম্ভব হতো না। কুন্তলের এই ভালোবাসা আর গোরার সাথে তার পূর্বজন্মের কোনো যোগসূত্র যেমন ফুল মুরারীর কাহিনীর কোনো সম্পর্ক গল্পকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।
গোরার শারীরিক অবস্থা কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর মহাপ্রভু দিতিকে সাবধান করে দেন। তিনি জানান যে শত্রুরা যে কোনো মুহূর্তে গোরার চরম ক্ষতি করতে পারে। এই বিপদের হাত থেকে বাঁচতে দিতি মরিয়া হয়ে ‘ফুল মুরারী’ কাব্যের সেই হারিয়ে যাওয়া দ্বিতীয় খণ্ডটি খুঁজতে শুরু করে। কারণ ওই বইটির মধ্যেই লুকিয়ে আছে এই বিপদ থেকে মুক্তি পাওয়ার আসল চাবিকাঠি। মহাপ্রভুর ইশারা অনুসারেই দিতি শেষ পর্যন্ত পুলস্ত্যের গোপন কক্ষে গিয়ে পৌঁছায়।
আরও পড়ুনঃ অশুভ শক্তির আধার কুন্তলিনী? সামনে এলো পূর্বজন্মের সেই অজানা রহস্যের চাবিকাঠি! কে এই কুন্তলিনী? আগের জন্মে কি ছিল তার পরিচয়? অহনা দত্তকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিল সমাজ মাধ্যম!
গল্পের উত্তেজনা চরমে পৌঁছায় যখন দিতি পুলস্ত্যের ঘর থেকে সেই কাঙ্ক্ষিত দ্বিতীয় খণ্ডটি খুঁজে পায়। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তেই ঘটে এক অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনা। দিতির অসতর্কতায় হঠাৎ হিয়ার ঘুম ভেঙে যায়। একদিকে হাতে গোপন বই, অন্যদিকে ধরা পড়ে যাওয়ার চরম ভয় দিতি কি পারবে সবার নজর এড়িয়ে গোরার প্রাণ বাঁচাতে? নাকি শত্রু শিবিরের কাছে সে ধরা পড়ে গিয়ে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে, এটাই এখন দেখার বিষয়।

