পুলস্ত্যের মর’ণজালে দিতি-গোরার সাজানো সংসার! গুরুজীর কালো ছায়ায় বিপন্ন হবে গোরার জীবন! দিতি কি পারবে আসন্ন বিপদ থেকে তাকে বাঁচাতে?

জি বাংলার (Zee Bangla) তারে ধরি ধরি মনে করি (Tare Dhori Dhori Mone Kori) ধারাবাহিকের গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, মধু উদ্ধার হওয়ার পর দিতি সিদ্ধান্ত নেয় রক্তিমকে এমন এক শিক্ষা দেওয়ার, যা সে কল্পনাও করতে পারেনি। সে রক্তিমকে ভিডিও কল করে সরাসরি দেখায় যে তারা মধুর কাছে পৌঁছে গেছে এবং ভয় দেখানোর জন্য মধুর মাথায় বন্দুক ঠেকায়। রক্তিম প্রথমে ভেবেছিল দিতি কেবলই তাকে ভয় দেখাচ্ছে এবং শেষ পর্যন্ত গুলি করার সাহস সে সঞ্চয় করতে পারবে না। কিন্তু নিজের পরিবারকে রক্ষা করার তাগিদে দিতি যে কোনো চরম পর্যায়ে যেতে প্রস্তুত ছিল, যা রক্তিম বুঝতে সম্পূর্ণ ভুল করেছিল।
সবাইকে স্তম্ভিত করে দিয়ে দিতি হঠাৎ করেই গুলি চালিয়ে দেয়। রক্তিম ভাবতেও পারেনি যে দিতি সত্যিই এতটা কঠোর হতে পারবে। গুলির সেই শব্দে চারদিকে এক হুলস্থুল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং রক্তিম বুঝতে পারে তার পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যাচ্ছে। দিতির এই দুঃসাহসী পদক্ষেপ রক্তিমকে কেবল মানসিকভাবে বিধ্বস্তই করেনি, বরং তাকে এক চরম পরাজয়ের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়।
দিতি এবং গোরা মিলে যখন রক্তিমের মুখোশ খুলে দেওয়ার চেষ্টা করছিল, তখন ইন্দুকে ঘিরে তৈরি হওয়া ভুল বোঝাবুঝি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। ইন্দু শুরুতে দিতি ও গোরার বিপক্ষে অবস্থান নিলেও, দিতির বুদ্ধিমত্তা ও সঠিক কৌশলের কাছে সে হার মানতে বাধ্য হয়। শেষ পর্যন্ত ইন্দু গোস্বামী বাড়িতে ফিরে আসে, যা দিতি ও গোরার হাতকে আরও শক্তিশালী করে এবং রক্তিমের পরাজয়কে সুনিশ্চিত করে।
এই পরাজয় রক্তিমকে মানসিকভাবে পুরোপুরি ভেঙে দেয়। ঠিক সেই দুর্বল মুহূর্তেই পুলস্ত্য আবার তার জীবনে প্রবেশ করে এবং তাকে এক অন্ধকার পথে ঠেলে দেয়। পুলস্ত্য রক্তিমের মনে ‘অদৃশ্য শক্তি’ এবং ‘মহাপ্রভুর ছায়া’-র মতো কুসংস্কারাচ্ছন্ন ধারণা গেঁথে দেয়। প্রতিশোধের নেশায় অন্ধ রক্তিম ও পুলস্ত্য এক রহস্যময় গুরুজীর শরণাপন্ন হয়, যেখানে গল্পের মোড় বাস্তবতা ছাড়িয়ে এক ভয়ংকর ও অতিপ্রাকৃত স্তরে পৌঁছে যায়।
আরও পড়ুনঃ রুকুর ভালোবাসার লড়াই! সান্যাল পরিবারের অন্ধকার কি গ্রাস করবে রুক্মিণীর সুখ? এবার কি করবে পারুল? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব
গুরুজীর আশ্রয়ে বসে গোরার বিরুদ্ধে শুরু হয় কুসংস্কার এবং তথাকথিত কালো শক্তির প্রয়োগ। যুক্তিবাদী গোরা এবং তার সঙ্গিনী দিতি ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি যে তাদের জন্য কী ভয়াবহ বিপদ অপেক্ষা করছে। গল্পের সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি আসে তখন, যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকা অবস্থায় গোরা এক প্রাণঘাতী বিপদের মুখে পড়ে যায়। নিজের চোখের সামনে ঘটতে থাকা এই অশুভ ষড়যন্ত্রের আঁচটুকুও দিতি তখন করতে পারেনি, যা পুরো পরিস্থিতিকে এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেয়।

