রুকুর ভালোবাসার লড়াই! সান্যাল পরিবারের অন্ধকার কি গ্রাস করবে রুক্মিণীর সুখ? এবার কি করবে পারুল? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) পরিণীতা ধারাবাহিকে (Parineeta) গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, শতদ্রুকে কেন্দ্র করে সান্যাল বাড়িতে যখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল, ঠিক তখনই নিচে নেমে আসেন পরিবারের কর্ত্রী চন্দ্রাবতী সান্যাল। নিজের আভিজাত্য ও ক্ষমতার দম্ভ দেখিয়ে তিনি চ্যালেঞ্জ করেন যে, তাঁর নাতিকে বাড়ির চৌকাঠ পার করার ক্ষমতা কারও নেই। কিন্তু নির্ভীক পারুল বিন্দুমাত্র বিচলিত না হয়ে এগিয়ে গিয়ে শতদ্রুকে এক সজোরে চড় মারে, যার ধাক্কায় শতদ্রু স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়ির চৌকাঠের বাইরে গিয়ে পড়ে। পারুল পুলিশকে জানিয়ে দেয় যে, অপরাধীকে সে বাড়ির বাইরে বের করে দিয়েছে, যেখানে চন্দ্রাবতীর কোনো হুকুম বা প্রভাব খাটবে না।
বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় পারুলের চোখে পড়ে দেওয়ালে ঝোলানো একটি ছবি, যা দেখে সে স্তম্ভিত হয়ে যায়। সেখানে সে ঋত্বিক সান্যালকে শতদ্রুর সাথে দেখতে পায় এবং বুঝতে পারে যে ঋত্বিক আসলে এই রহস্যময় সান্যাল পরিবারেরই বড় ছেলে। চন্দ্রাবতী সান্যালের দুই ছেলে ও তাদের সন্তানদের নিয়ে গঠিত এই পরিবারটি আপাতদৃষ্টিতে আন্ডারওয়ার্ল্ডের সাথে যুক্ত বলে মনে হয়। ঋত্বিকের মা ছাড়া পরিবারের বাকি সদস্যরা মানসিকভাবে নেতিবাচক, যা রুকুর ভবিষ্যৎ জীবনের ওপর এক গভীর অনিশ্চয়তার ছায়া ফেলে।

বসু বাড়ি ও সান্যাল বাড়ির চিরস্থায়ী শত্রুতা রুকুর জীবনের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে এটি রুকুর দ্বিতীয় বিয়ে হওয়ায় সান্যাল পরিবারের সদস্যরা তাকে কতটা সম্মানের সাথে গ্রহণ করবে, তা নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। গোপালের পরিবারে রুকু যেভাবে মানিয়ে নিয়েছিল, সান্যাল বাড়ির এই অপরাধমূলক পরিবেশে তা সম্ভব কি না এবং ঋত্বিক আদতেও গোপালের মতো রুকুকে রক্ষা করতে পারবে কি না, তা নিয়ে দর্শক মনে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে।
আগামী পর্বে দেখা যাবে ঋত্বিক ও রুকুর সম্পর্ক নিয়ে বসু বাড়িতে বিশাল তুলকালাম শুরু হয়েছে। রায়ানের মতে, সান্যাল পরিবারের কোনো ছেলে কখনোই ভালো হতে পারে না এবং তারা রুকুকে সুখী করতে পারবে না। পরিবারের সবাই যখন ঋত্বিককে তাড়িয়ে দিতে মরিয়া, তখন পারুল ঋত্বিকের ভালোবাসার পক্ষ নিয়ে দাঁড়ায়। ঠিক সেই মুহূর্তে সবার সামনে রুক্মিণী সাহসের সাথে ঘোষণা করে যে, সে কেবল ঋত্বিক বাবুর ভালোবাসা নয়, সে নিজেও তাকে গভীরভাবে ভালোবাসে।
আরও পড়ুন: ‘কে দেবে এগুলোর উত্তর? বাচ্চাটা জানতে চায়…’ ২১ দিন পরেও অমীমাংসিত রহস্য! এখনও অধরা মৃ’ত্যুর কারণ! আদৌ হচ্ছে তো অভিনেতার মৃ’ত্যুর তদন্ত? প্রশ্ন অভিনেত্রী রূপালি ভট্টাচার্যর!
রুকুর স্বীকারোক্তির পর দাদু প্রচণ্ড রেগে যান এবং ঋত্বিককে অপমান করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ঠিক সেই চরম মুহূর্তে নাটকীয়ভাবে সেখানে হাজির হন চন্দ্রাবতী সান্যাল। তিনি ঋত্বিকের হাত ধরে তাকে ধাক্কা খাওয়া থেকে আটকে দেন এবং বসু পরিবারের মুখোমুখি দাঁড়ান। চন্দ্রাবতীর এই আকস্মিক উপস্থিতি এবং বসু বাড়ির সদস্যদের বিস্ময়ভরা চাউনি গল্পের মোড়কে এক নতুন ও জটিল রহস্যের দিকে নিয়ে যায়।

