‘সোনা দিয়ে মুড়িয়ে দেবো…’ ‘টালিগঞ্জকে শুধু ট্রেড নয়, পূর্ণাঙ্গ ইন্ডাস্ট্রি বানিয়ে ছাড়ব!’ সিনেমার পাশাপাশি যাত্রা-থিয়েটারেও সুদিন ফিরবে? সোনার টালিগঞ্জ গড়ার লক্ষ্য পাপিয়া অধিকারীর!

টালিগঞ্জের (Tollywood) জনপ্রিয় অভিনেত্রী তথা ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে টালিগঞ্জ কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী পাপিয়া অধিকারী (Papiya AdShikari) আবারও সংবাদ শিরোনামে। ১৯৮৫ সালে ‘সোনার সংসার’ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় পা রাখা এই অভিনেত্রী দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলা চলচ্চিত্র, টেলিভিশন এবং যাত্রা জগতে নিজের আধিপত্য বজায় রেখেছেন। ‘শ্মশানে কাঁদছে লক্ষ্মী’ নাটকে তাঁর কালজয়ী অভিনয়ের জন্য রাজ্য সরকারের শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর সম্মান অর্জন করেছিলেন তিনি। রুপোলি পর্দার গ্ল্যামার হোক বা যাত্রার কঠিন লড়াই পাপিয়া অধিকারী মানেই এক অদম্য জেদ, যা তিনি বর্তমান রাজনৈতিক ময়দানেও বজায় রেখেছেন।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী টালিগঞ্জের বর্তমান কর্মপরিবেশ নিয়ে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, স্টুডিও পাড়ায় বর্তমানে এক দমবন্ধ করা ‘ব্যান কালচার’ বা নিষিদ্ধকরণের রাজনীতি চলছে। অনেক শিল্পী ও কলাকুশলী স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন না। পাপিয়ার মতে, এই সংস্কৃতি টলিউডকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে আরও পিছিয়ে দিচ্ছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ৪ঠা মে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর এই ধরনের সমস্ত ‘ফোর্থ ক্লাস’ সংস্কৃতি এবং বয়কটের রাজনীতি চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে।

অভিনয় জগতের পর এবার রাজনীতির ময়দানেও পাপিয়া নিজেকে একজন ‘রিয়েল ফাইটার’ বা সত্যিকারের যোদ্ধা হিসেবে পেশ করেছেন। তিনি জানান যে, যাত্রার ময়দান হোক বা রাজনীতির যুদ্ধক্ষেত্র তিনি সবসময় যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে প্রস্তুত। বর্তমান শাসকদলের প্রতিপক্ষকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, টালিগঞ্জে চলা তথাকথিত ‘ফ্যাসিবাদ’ আর টিকবে না। তিনি মনে করেন, শিল্পীদের নিরাপত্তা আজ তলানিতে ঠেকেছে এবং এই অনিরাপদ পরিবেশ থেকে তাঁদের মুক্তি দেওয়াই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।

টালিগঞ্জ কেন্দ্র নিয়ে তাঁর বিশেষ পরিকল্পনার কথা বলতে গিয়ে অভিনেত্রী জানান, তিনি এই এলাকাকে একটি আদর্শ ‘সোনার টালিগঞ্জ’ হিসেবে গড়ে তুলতে চান। তাঁর আক্ষেপ, এত বছর পরেও টালিগঞ্জ একটি পূর্ণাঙ্গ ইন্ডাস্ট্রির মর্যাদা পায়নি। তিনি শুধুমাত্র সিনেমার কথা ভাবছেন না, বরং যাত্রা, থিয়েটার এবং সাধারণ মানুষের জীবিকা নিয়েও সরব হয়েছেন। পাপিয়ার দাবি, বর্তমান বিধায়কের আমলে টালিগঞ্জ যেন এক ‘বৃদ্ধাশ্রমে’ পরিণত হয়েছে, যেখানে নতুনদের জন্য কর্মসংস্থান বা শিল্পের যথাযথ পরিকাঠামো নেই।

আরও পড়ুন: ‘আমার সাথে প্রসেনজিতের রসায়ন ঋতুপর্ণার চেয়েও বেশি সফল ছিল!’ ‘অন্যদাতা সিনেমা দেখুন, উত্তর পেয়ে যাবেন!’ ‘ঋতুপর্ণার চেয়ে প্রসেনজিৎ-শ্রীলেখা জুটিকেই বেশি পছন্দ করতেন দর্শক,’ প্রসেনজিৎ-ঋতুপর্ণা জুটিকে চ্যালেঞ্জ শ্রীলেখা মিত্রের!

পরিশেষে, অভিনেত্রী তাঁর অনুগামীদের আশ্বস্ত করেছেন যে, তিনি কোনো নির্দিষ্ট পদ বা ক্ষমতার জন্য লড়াই করছেন না, বরং টালিগঞ্জের সামগ্রিক সংস্কারই তাঁর মূল উদ্দেশ্য। যাত্রা জগত থেকে উঠে আসা এই দাপুটে নেত্রী মনে করেন, রাজনীতির ময়দানেও তিনি তাঁর সেই ‘মিলিটারি ফুটওয়ার্ক’ বজায় রেখে বিজয় ছিনিয়ে আনবেন। ৪ঠা মের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে এখন গোটা ইন্ডাস্ট্রি, কারণ পাপিয়ার এই বড় প্রতিশ্রুতিগুলো আগামী দিনে টলিউডের চেহারাই বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।

Back to top button