‘সিনিয়র পরিচালক গায়ে হাত দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন’, অভিনয় জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানালেন অভিনেত্রী বৈশাখী মার্জিত

দীর্ঘদিন বাদে আবার ছোটপর্দায় ফিরেছেন অভিনেত্রী বৈশাখী মার্জিত। সম্ভবত ছোটপর্দায় তার অভিনীত শেষ ধারাবাহিক ছিল ‘সাত পাকে বাঁধা’। তারপর আর তাকে কোনও ধারাবাহিকে দেখা যায়নি। যদিও অনেক ছবি করেছেন এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী। প্রায় ১২ বছর পর আবারও জি-বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিকের হাত ধরে কামব্যাক করেছেন এই অভিনেত্রী।
এই দিন এক সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে খোলামেলা আড্ডায় নিজের জীবনের অনেক কিছুই অবলীলায় ভাগ করে নিলেন দর্শকদের সাথে। তিনি জানান বর্তমানে তার কাজ করার বিশেষ ইচ্ছে নেই। তার সব থেকে বরণ কারন হচ্ছে টিআরপি। টিআরপির উপর নির্ভর করে স্ক্রিপ্ট চেঞ্জ করা হয়। আগে স্ক্রিপ্ট না দেখে কাজের অফার গ্রহণ করতেন না তিনি কিন্তু বর্তমানে যেহেতু টিআরপিই সব তাই অনিচ্ছা সত্ত্বেও কাজ করতে হয় তাকে। মেগা সিরিয়াল করার তেমন ইচ্ছা নেই তার। মিঠাইতে ঢোকার আগে তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছিলেন তিনি এক মাসের জন্য কাজ করবেন তার বেশি নয়।
তিনি বলেন এই যে তিনি বলতে পারেন তার কাজ করার ইচ্ছা নেই, আর কাজ এলে সেটাকে ফিরিয়ে দিতে পারেন সেটা একটা কারণে। কারণটা হলো তার টাকায় সংসার চলে না। যদি সংসার চালাতে তাকেও টাকা দিতে হতো তাহলে হয়তো তিনি এত সহজে কথাটা বলতে পারতেন না। তবে তিনি কেবলমাত্র যে অভিনেত্রী তা নয় তিনি একজন অসাধারণ গায়িকা তাই গান নিয়েও তার উন্মাদনা যথেষ্ট।
জীবনে কোন কাজ ফিরিয়ে দেওয়ায় পড়ে কি আফসোস করেছেন তিনি এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, করেছেন। ঋতুপর্ণ ঘোষের একটি কাজ তিনি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তার কারণ হিসেবে তিনি পরিষ্কার জানান যে অর্থ তাকে দেওয়া হচ্ছিল সেই পারিশ্রমিকে তিনি সন্তুষ্ট ছিলেন না। তিনি আরো অনেক বেশি ডিজার্ভ করতেন। তিনি আরো জানান কিছু কিছু প্রোডাকশন হাউস তাদের সাথে কাজ করতে পারলে অভিনেতা অভিনেত্রীদের পরবর্তীকালে সুবিধা হবে এইটা জানায় বিষয়টার বেশ ফায়দা নিতেন। যেটা তিনি মোটেই পছন্দ করতেন না।
এত বছর কাজ করেছেন তিনি, চলচ্চিত্র ধারাবাহিক এসবের পাশাপাশি থিয়েটারেও জমিয়ে কাজ করেছেন এই অভিনেত্রী। এসবের মাঝে কি কোন তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে? এর উত্তরে অভিনেত্রী বলেন একটি অভিজ্ঞতা এমন হয়েছিল। “এক পরিচালক মিশনই নামকরা একজন ব্যক্তি, খুবই শিক্ষিত মাঝেমধ্যে আমার স্বামীর সঙ্গে আড্ডাও দিতে আসতেন, তিনি একবার ভিড় গাড়িতে প্রথমে পায়ে পা এবং পরবর্তীতে ঘাড়ে স্ক্র্যাচ করার চেষ্টা করেছিলেন। এখন হলে হয়তো ঠাস করে একটা চড় দিয়ে দিতে পারতাম, কিন্তু তখন বয়স অনেকটাই ছোট আর তিনি অনেক সম্মানীয় আর বড় একজন মানুষ তাই কিছু বলতে পারিনি।” পরবর্তীতে ওই পরিচালক আর কোন কিছুতেই কাজ করেননি অভিনেত্রীকে এটাও জানান তিনি।
কাজ নিয়ে কি কোন আক্ষেপ করেন তিনি? উত্তরে তিনি বলেন, তার কোন আক্ষেপ নেই হলে ভালো না হলেও কোন সমস্যা নেই। কারণ তিনি এই মুহূর্তে যে নাম সুখ্যাতি অর্জন করেছেন এতটাও তার পাওয়ার কথা ছিল না তাই তিনি যা পেয়েছেন তাতেই খুশি। একজন নামকরা ডিরেক্টর তাকে বলেছিলেন বৈশাখী কিছু পেতে চায় না তাই কিছু দিতে পারেনা এই কথাটার সম্পূর্ণ সমর্থন করেছেন অভিনেত্রী।

