‘ একবার ঘর ছাড়া হয়েছি…’ ‘দ্বিতীয়বার উদ্বাস্তু হতে চাই না!’ ‘যে কারণে দেশভাগ হলো…’ নিজের রাজনৈতিক আদর্শ ও হিন্দুত্ব নিয়ে অকপটে অভিনেতা সুমন ব্যানার্জি!

বাংলার বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ সুমন ব্যানার্জি (Suman Banerjee) সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের রাজনৈতিক দর্শন এবং ব্যক্তিগত জীবনবোধ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। তাঁর এই কথোপকথনে বারবার উঠে এসেছে দেশভাগ, শিকড়ের টান এবং সমসাময়িক বাংলার থমথমে রাজনৈতিক পরিবেশের কথা। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁর বর্তমান কর্মকাণ্ডের পেছনে যেমন রয়েছে অতীতের দহন, তেমনি রয়েছে আগামী প্রজন্মের জন্য এক সুন্দর ও সুরক্ষিত বাংলা গড়ার স্বপ্ন।

নিজের পারিবারিক ইতিহাস তুলে ধরে সুমন জানান, তাঁদের আদি নিবাস ছিল বাংলাদেশের ফরিদপুরে। দেশভাগের যন্ত্রণাদায়ক পরিস্থিতিতে তাঁদের পরিবারকে একবার উদ্বাস্তু হতে হয়েছিল এবং সেই অভিজ্ঞতাই তাঁর জীবনের অনেক বড় সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে। তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন যে, যে কারণে একদিন দেশভাগ হয়েছিল, সেই একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি তিনি আর দেখতে চান না। নিজের জন্ম এই বাংলায় হলেও পূর্বপুরুষের সেই ফেলে আসা ভিটেমাটির স্মৃতি এবং বাস্তুচ্যুত হওয়ার আতঙ্ক তাঁকে আজও তাড়িয়ে বেড়ায়।

বর্তমান নির্বাচন প্রসঙ্গে অভিনেতার পর্যবেক্ষণ বেশ গভীর এবং কিছুটা সতর্কতামূলক। তিনি মনে করেন, বাংলার বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত থমথমে এবং এটি তাঁকে ২০১১ সালের ঐতিহাসিক পরিবর্তনের আগের পরিবেশের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। তাঁর মতে, কোনো রাজনৈতিক দলের হয়ে সংখ্যার বিচারে বড়াই করার চেয়ে মানুষের পাল্লা কোন দিকে ভারী, তা বোঝা বেশি জরুরি। দুর্নীতি এবং সামাজিক অস্থিরতা থেকে মুক্তি পেতে সাধারণ ভোটাররা এবার বড় কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।

নিজের রাজনৈতিক আদর্শ নিয়ে কোনো লুকোছাপা না করেই সুমন জানান, তিনি বরাবরই দক্ষিণপন্থী মতাদর্শে বিশ্বাসী। তবে সময়ের সাথে সাথে অনেক মানুষের পরিবর্তন তাঁকে ব্যথিত করেছে। নরেন্দ্র মোদির উত্থান এবং তাঁর কাজ সুমনকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া তিনি নিজেকে একজন ধর্মপ্রাণ মানুষ হিসেবে পরিচয় দেন এবং জানান যে তাঁর মধ্যে একটি সহজাত ‘হিন্দুত্ব’ বোধ কাজ করে, যা তাঁর চারিত্রিক দৃঢ়তার অন্যতম ভিত্তি।

আরও পড়ুনঃ ‘রাহুলের মৃ’ত্যুর পর প্রিয়াঙ্কা…’ ‘না দেখলে বিশ্বাস হয় না, ও এমনভাবে…’ ব্যক্তিগত শোক ভুলে কাজে ফেরা! প্রিয়াঙ্কার পেশাদারিত্বে মুগ্ধ বিক্রম! সহ অভিনেত্রীকে নিয়ে কি বললেন অভিনেতা?

সবশেষে অভিনেতা তাঁর বর্তমান গবেষণা বা রিসার্চ সম্পর্কে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য শেয়ার করেছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ১৯৪৬ সালের নোয়াখালীর দাঙ্গা এবং ‘ক্যালকাটা কিলিং’ নিয়ে নিবিড় পড়াশোনা করছেন। এই ঐতিহাসিক বিষয়গুলো নিয়ে তাঁর গভীর আগ্রহের মূল কারণ হলো ইতিহাসের সত্যকে তুলে ধরা। নিজের কোনো ভবিষ্যৎ চলচ্চিত্র নির্মাণের স্বপ্ন থেকেই সম্ভবত তিনি এই গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর এই কাজ আগামী দিনে বাংলার ইতিহাসের এক অন্ধকার অধ্যায়কে নতুনভাবে দর্শকদের সামনে তুলে ধরতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Back to top button