‘পরিচালকের হাতে ক্ষমতা নেই, সব চালাচ্ছে চ্যানেল!’, ‘৮০ বছর বয়স পর্যন্ত আমায় কে খাওয়াবে?’ টলিউডে শিল্পীদের নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে মুখ খুললেন রজত গাঙ্গুলী!

বাংলা বিনোদন (Bengali Television) জগতের একজন অত্যন্ত পরিচিত এবং সম্মানীয় মুখ হলেন অভিনেতা রজত গাঙ্গুলী (Rajat Ganguly)। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তিনি নিজের অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের মুগ্ধ করে রেখেছেন। মূলত থিয়েটার বা নাটকের মঞ্চ থেকে তার যাত্রা শুরু হলেও পরবর্তীকালে টেলিভিশন এবং বড় পর্দায় তিনি এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠেন। ‘বহুরূপী’র মতো ঐতিহ্যবাহী নাট্যদলের সঙ্গে দীর্ঘকাল যুক্ত থাকা এই শিল্পী পেশাদার জীবনে একজন ব্যাঙ্ক কর্মী ছিলেন। তবে সৃজনশীলতার টানে ২০০৩ সালে নিরাপদ সরকারি চাকরি ছেড়ে তিনি অভিনয়ের অনিশ্চিত পথে পা বাড়ান এবং নিজের প্রতিভা দিয়ে এক অনন্য জায়গা করে নেন।

সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে রজত গাঙ্গুলী বর্তমান বাংলা সিনেমার মান নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, বর্তমানে সিনেমা তৈরি অনেকটা ‘ফ্যাক্টরি’র যান্ত্রিক কাজের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগেকার দিনে যেখানে একটি সিনেমা অত্যন্ত যত্ন নিয়ে ৩৫ থেকে ৪০ দিন ধরে শুটিং করা হতো, এখন তা মাত্র ১১-১২ দিনে শেষ করে ফেলা হচ্ছে। একে তিনি ‘অন্তঃসারশূন্য’ প্রক্রিয়া বলে অভিহিত করেছেন। তার আশঙ্কা, সৃজনশীলতার চেয়ে যান্ত্রিকতা প্রাধান্য পাওয়ায় ছবির গুণগত মান হ্রাস পাচ্ছে এবং দর্শকরাও হলবিমুখ হচ্ছেন।

টেলিভিশন বা মেগা সিরিয়ালের পরিবর্তন নিয়েও তিনি খোলামেলা আলোচনা করেছেন। তার প্রথম মেগা সিরিয়াল ছিল ‘কুয়াশা যখন’। প্রবীণ এই অভিনেতার মতে, আগে ডিরেক্টর বা পরিচালকের হাতে অনেক বেশি ক্ষমতা থাকত, কিন্তু এখন নিয়ন্ত্রণ চলে গিয়েছে চ্যানেলের হাতে। একই ধাঁচের গল্প এবং সাহিত্যের অভাবের কারণে সিরিয়ালগুলো এখন আর আগের মতো মানুষকে আকর্ষণ করতে পারছে না। দীর্ঘমেয়াদী সিরিয়ালের ক্লান্তি থেকে বাঁচতে তিনি বর্তমানে ছোট এবং গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয়ের দিকেই বেশি আগ্রহী।

ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান বাণিজ্যিক সংকট সম্পর্কে তিনি বলেন যে, প্রযোজকরা যদি লগ্নি করা অর্থ ফেরত না পান, তবে ভালো সিনেমা তৈরি হওয়া কঠিন। এছাড়া ডিস্ট্রিবিউশন বা হলের সমস্যার কারণে অনেক ভালো ছবি দর্শকদের কাছে পৌঁছাতে পারছে না। তিনি মনে করেন, মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের হাতে হলের নিয়ন্ত্রণ থাকা ইন্ডাস্ট্রির জন্য সুস্থ লক্ষণ নয়। এই সংকটের মধ্যেও কিছু তরুণ পরিচালক ভালো কাজ করার চেষ্টা করছেন ঠিকই, কিন্তু পরিকাঠামোগত বাধার কারণে তারা পূর্ণ স্বাধীনতা পাচ্ছেন না।

ব্যক্তিগত জীবন ও পরবর্তী প্রজন্মের প্রসঙ্গে রজত গাঙ্গুলী জানান যে, তার ছেলে একজন সফল সিনেমাটোগ্রাফার এবং তাদের পরিবারে অভিনয়ের প্রতি সবসময়ই সমর্থন ছিল। বর্তমানে তিনি অনেকটা বেছে বেছে কাজ করেন এবং অবসরে বই পড়া ও বিশ্বমানের সিনেমা দেখে সময় কাটান। দর্শকদের উদ্দেশ্যে তার স্পষ্ট বার্তা শিল্পী বা কলাকুশলীরা যদি ভালো কাজ করেন তবেই যেন দর্শক তাদের সমর্থন করেন, আর কাজ খারাপ হলে তা সরাসরি বর্জন বা রিজেক্ট করার সাহস যেন দর্শকরা দেখান। এভাবেই বাংলা চলচ্চিত্রের মান উন্নয়ন সম্ভব বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

Back to top button