‘বাসে উঠলেই পুরুষরা যৌ’নাঙ্গ ঠেকায়!’ ‘দূর থেকেই ভালো, কাছে এলেই মোহভঙ্গ’! গণপরিবহনে শ্লী’লতাহানি নিয়ে মুখ খুললেন স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়!

স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় (Swastika Mukherjee) এবং অনির্বাণ চক্রবর্তী (Anirban Chakraborty) টলিউডের দুই অত্যন্ত শক্তিশালী অভিনেতা, যারা তাদের পর্দার রসায়ন ছাড়িয়েও ব্যক্তিগত আলাপচারিতার সততার জন্য দর্শকদের কাছে প্রিয়। সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত বিবি পায়রা-তে এই জুটিকে একসাথে দেখা গেছে, যেখানে তাদের অভিনয় দর্শক মহলে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। এর আগে তারা ‘চালচিত্র: দ্য ফ্রেম ফ্যাটাল’ ছবিতেও একসাথে কাজ করেছেন। অনির্বাণ চক্রবর্তী যেখানে তার শান্ত ও মাপা অভিনয়ের জন্য পরিচিত, সেখানে স্বস্তিকা তার ঠোঁটকাটা স্বভাব এবং নির্ভীক ব্যক্তিত্বের জন্য সব সময় সংবাদ শিরোনামে থাকেন।

সম্প্রতি একটি পডকাস্টের বিশেষ পর্বে এই দুই তারকার উপস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই ভক্তদের মধ্যে উন্মাদনা তৈরি করেছে। তবে আলোচনার বিষয়বস্তু কেবল তাদের অভিনয় বা নতুন ছবি-তেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। বরং স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের এমন কিছু মন্তব্য উঠে এসেছে যা সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। বিশেষ করে গণপরিবহনে নারীদের নিরাপত্তা এবং শ্লীলতাহানি নিয়ে তার বিস্ফোরক মন্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বাসে যাতায়াতের সময় কুরুচিকর আচরণের যে বর্ণনা দিয়েছেন, তা বর্তমান সময়ের এক নগ্ন বাস্তবকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।

ভিডিওটির শুরুতেই স্বস্তিকা জানান, সাধারণ মানুষের মতো চলাফেরা করতে গিয়ে তিনি অসংখ্যবার হেনস্থার শিকার হয়েছেন। তিনি সরাসরি বলেন যে, বাসে ওঠার পর কোনো না কোনো পুরুষ তাদের কনুই দিয়ে খোঁচা মারে কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করার চেষ্টা করে। স্বস্তিকার কথায়, ‘বাসে উঠে কেউ ওনাদের কনুই মারবে, কেউ তাদের যৌনাঙ্গ ঠেকাবে’ এই স্পষ্ট ও সাহসী উচ্চারণ যেমন এক দিকে প্রশংসিত হচ্ছে, অন্যদিকে রক্ষণশীল সমাজের এক বড় অংশ এতে অস্বস্তি বোধ করতে পারে। অভিনেত্রীর এই অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করা আসলে টলিউড বা গ্ল্যামার দুনিয়ার বাইরের এক রূঢ় সত্যকে তুলে ধরেছে।

বিতর্কের আরেকটি জায়গা হতে পারে স্বস্তিকার ‘আইডল’ বা আদর্শ ব্যক্তিদের নিয়ে করা মন্তব্য। তিনি জানান যে, দূর থেকে যাদের খুব পছন্দ করতেন বা আদর্শ মানতেন, তাদের সাথে ব্যক্তিগতভাবে কাজ করতে গিয়ে তার অভিজ্ঞতা ভয়াবহ বা ‘বিভীষিকাময়’ হয়েছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “যাদের আইডিলাইজ করতাম, তাদের সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা এতটাই খারাপ যে এখন তাদের নতুন কোনো কাজ দেখলে আমি আর অবজেক্টিভলি দেখতে পাই না।” তার এই মন্তব্যের পর টলিপাড়ার ভেতরে গুঞ্জন শুরু হয়েছে যে, স্বস্তিকা পরোক্ষভাবে ইন্ডাস্ট্রির কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব বা সহকর্মীর দিকেই কি ইঙ্গিত করলেন? এই রহস্যময় বক্তব্য নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ ১৪ ঘণ্টা শ্যুটিং সামলে মাধ্যমিকে অকল্পনীয় নাম্বার! কুসুম ওরফে তানিষ্কার দুর্দান্ত রেজাল্টে চমকে গেল দর্শক! জানেন কত শতাংশ নাম্বার পেয়েছে অভিনেত্রী?

এই পডকাস্টটি কেবল বিনোদনমূলক আড্ডা হিসেবে থাকেনি, বরং এটি হয়ে উঠেছে সামাজিক আয়না। স্বস্তিকার ঘরের কাজ যেমন বাসন মাজা বা রান্না করার প্রতি ভালোবাসা একদিকে যেমন তার সাধারণ জীবনযাত্রার পরিচয় দেয়, অন্যদিকে অনির্বাণের সাথে তার গভীর বন্ধুত্ব এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এক ইতিবাচক বার্তা দেয়। তবে শ্লীলতাহানি এবং ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের ‘অন্ধকার’ দিক নিয়ে তাদের খোলামেলা আলোচনা নিঃসন্দেহে দীর্ঘস্থায়ী আলোচনার জন্ম দেবে। এই সাহসী আলাপচারিতা একদিকে যেমন অভিনেত্রীর প্রতি ভক্তদের শ্রদ্ধা বাড়িয়েছে, তেমনি রক্ষণশীলদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

Back to top button