‘বেকার বসে আছি, কিভাবে সংসার চালাবো জানি না…’ ধারাবাহিক বন্ধে দিশেহারা পরিচালক! অনিশ্চয়তায় কাটছে দিন!

টেলিভিশন জগতের দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ  দিগন্ত সিংহ (Diganta Singha)। গত ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’ প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে তাঁর নিবিড় সম্পর্ক। লীনা গাঙ্গুলী (Leena Gangopadhyay) এবং শৈবাল ব্যানার্জি (Shaibal Bandyopadhyay)-এর এই সংস্থার শুরু থেকেই যুক্ত ছিলেন তিনি। ‘কেয়াপাতার নৌকো’ থেকে ‘গুড্ডি’— একের পর এক জনপ্রিয় ধারাবাহিক পরিচালনা করে তিনি নিজস্ব পরিচিতি তৈরি করেছেন। কিন্তু হঠাৎ করেই ‘চিরসখা’ ধারাবাহিক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁর জীবন এখন অনিশ্চয়তায় ঘেরা।

এই পরিস্থিতিতে শুধু দিগন্তই নন, বিপাকে পড়েছেন তাঁর সঙ্গে যুক্ত বহু কলাকুশলীও। বিশেষ করে যাঁরা সম্পাদনার কাজের সঙ্গে যুক্ত, তাঁরাও হঠাৎ কাজ হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। দিগন্তর কথায়, এতদিন ধরে একসঙ্গে কাজ করা মানুষদের এই অবস্থায় ফেলে রাখা তাঁর পক্ষে মানসিকভাবে খুব কঠিন। তিনি বুঝতে পারছেন না, কীভাবে এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসবেন এবং নিজের পাশাপাশি অন্যদের জন্যও কিছু করতে পারবেন।

দীর্ঘদিন একই সংস্থার সঙ্গে কাজ করার কারণে অন্য কোথাও কাজের সুযোগ খোঁজাও তাঁর কাছে কঠিন হয়ে উঠেছে। নিজের কথায়, এত বছর অন্য কোনও প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে কাজ না করায় নতুন করে শুরু করার পথটাও স্পষ্ট নয়। ফলে আপাতত কাজহীন অবস্থায় দিন কাটছে তাঁর। এই অনিশ্চয়তা তাঁর ব্যক্তিগত জীবনেও বড় প্রভাব ফেলেছে, যা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে প্রতিদিন।

পরিবারের দায়িত্বও কম নয় তাঁর কাঁধে। স্ত্রী, দুই সন্তান এবং বয়স্ক মাকে নিয়ে সংসার। একজন সন্তান ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করছে, অন্যজন কলেজে। দীর্ঘ কেরিয়ারের কারণে নানা খরচ এবং ঋণের চাপও রয়েছে। কাজ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেই সব দায়িত্ব সামলানো এখন আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। নিজের ভাষায়, কীভাবে সংসার চালাবেন, সেই চিন্তাই এখন সবচেয়ে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরও পড়ুনঃ রক্তিমের পরাজয়ে নতুন চক্রান্ত! ইন্দুর ওপর নেমে এলো চরম অ’ত্যাচার! অসহায় ইন্দুর কান্নায় ছুটে গেলো দিতি গোরা! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

এই জটিল পরিস্থিতির পিছনে রয়েছে আইনি সমস্যাও। Rahul Arunoday Banerjee-এর আকস্মিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া আইনি জটিলতার কারণে প্রযোজকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেও পারছেন না দিগন্ত। তবে এই পরিস্থিতিতে ‘আর্টিস্ট ফোরাম’-এর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর মতে, এত মানুষের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে রেখে এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া মোটেই যুক্তিযুক্ত নয়।

Back to top button