বাবার নিথর দেহ বাড়িতে! চোখের জল মুছতে মুছতেই দশম শ্রেণীর পরীক্ষায় বসেন পল্লবী শর্মা! প্রাণপণে বাবার শেষ ইচ্ছা পূরণ করেছিলেন অভিনেত্রী!

গ্ল্যামার জগতের ঝকঝকে পর্দার আড়ালে যে কত গভীর ব্যক্তিগত লড়াই লুকিয়ে থাকে, তার এক উজ্জ্বল উদাহরণ পেশ করলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী পল্লবী শর্মা (Pallavi Sharma)। সম্প্রতি একটি ভিডিও সাক্ষাৎকারে তিনি ভাগ করে নিয়েছেন তাঁর জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ের এক অভিজ্ঞতার কথা। জীবনের চরম সংকটেও কীভাবে কর্তব্যে অবিচল থাকতে হয়, পল্লবীর জীবনের এই কাহিনী আজ অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার পাথেয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছিল যখন পল্লবী তাঁর জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা অর্থাৎ দশম শ্রেণীর বোর্ড পরীক্ষা দিচ্ছিলেন। পল্লবী জানান, যেদিন তাঁর পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা, ঠিক সেই দিন সকালেই এক অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হন তিনি। পরীক্ষার দিন সকেলেই তাঁর বাবা পরলোকগমন করেন। মাত্র ১৬ বছর বয়সের এক কিশোরীর কাছে বাবার মৃত্যু সংবাদ যেখানে পাহাড়প্রমাণ শোক নিয়ে আসার কথা, সেখানে পল্লবীকে সামলাতে হয়েছিল জীবনের এক কঠিন পরীক্ষা।

সকাল সাতটার সময় হাসপাতাল থেকে বাবার মৃত্যুর খবর আসে, অথচ সকাল দশটা থেকেই তাঁর পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। সেই শোকাতুর মুহূর্তে তাঁর আত্মীয়-স্বজন এবং পরিচিতরা পরামর্শ দিয়েছিলেন যে, এ বছর পরীক্ষা না দিয়ে যেন তিনি নিজেকে সামলান। কিন্তু পল্লবী দমে যাননি। তিনি মনে করিয়ে দেন, আগের রাতে যখন তিনি তাঁর বাবার শয্যাপাশে ছিলেন, তখন বাবা তাঁকে বলেছিলেন নিজের পরীক্ষার দিকেই সম্পূর্ণ মনোযোগ দিতে এবং তাঁকে নিয়ে চিন্তা না করতে। বাবার সেই শেষ নির্দেশ পালন করাকেই নিজের প্রধান কর্তব্য হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন তিনি।

বাবার মরদেহ তখনো হাসপাতাল থেকে বাড়িতে এসে পৌঁছায়নি, সেই নিদারুণ পরিস্থিতির মধ্যেই চোখের জল মুছে পল্লবী পরীক্ষার হলের দিকে রওনা হন। তিনি জানান, বাবার দেহ সৎকার হওয়ার আগেই তিনি তাঁর প্রথম পরীক্ষা সম্পন্ন করেন। শোকাতুর পরিবেশ এবং মানসিক যন্ত্রণাকে একপাশে সরিয়ে রেখে তিনি তাঁর জীবনের এই বড় চ্যালেঞ্জটি গ্রহণ করেছিলেন শুধুমাত্র বাবার প্রতি শ্রদ্ধা এবং নিজের ভবিষ্যতের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে।

আরও পড়ুনঃ আরও একটি প্রাণ কেড়ে নিল অ’ভিশপ্ত ২০২৬! নীরবতায় ঢেকে গেল এক পরিচিত মুখ! না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন প্রবীণ অভিনেতা!

লড়াইটা কেবল প্রথম দিনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। পল্লবী জানান যে, পরীক্ষার পরবর্তী দিনগুলোতেও তাঁকে কঠোর নিয়মের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছিল। হিন্দু শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী তিনি টিফিন বক্সে করে নিরামিষ ‘হবিষ্যি’ খাবার নিয়ে স্কুলে যেতেন এবং পরীক্ষা দিতেন। প্রতিকূলতাকে জয় করে এভাবেই তিনি তাঁর জীবনের দশম শ্রেণীর বড় পরীক্ষাটি সম্পন্ন করেছিলেন। পল্লবীর এই কাহিনী প্রমাণ করে যে, মানসিক দৃঢ়তা থাকলে জীবনের অন্ধকারতম সময়েও লক্ষ্যের দিকে অবিচল থাকা সম্ভব।

Back to top button