রাজার রাজত্বে পারুলের হুঙ্কার! বোনকে উদ্ধার করতে ভয়ংকর ঝুঁকি নিলো রায়ান পারুল! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) পরিণীতা ধারাবাহিকে (Parineeta) গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, খবর পাওয়ামাত্রই পারুল তার ক্ষিপ্র টিম নিয়ে রনির আস্তানায় অতর্কিত হানা দেয় এবং চারপাশ থেকে তাকে ঘিরে ফেলে। পালানোর পথ না পেয়ে মরিয়া রনি পারুলকে আক্রমণ করে এবং তার গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করে। রায়ানের বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও পাষণ্ড রনি পারুলকে ছাড়ছিল না, যার ফলে পারুলের জীবন চরম সংকটের মুখে পড়ে। ঠিক সেই মুহূর্তে রায়ান উপস্থিত বুদ্ধিতে একটি কাঁচি দিয়ে রনির পায়ে আঘাত করলে যন্ত্রণায় সে পারুলকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় এবং পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
রনিকে বন্দী করার পর পারুল ও রায়ান তাকে কঠোরভাবে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। প্রথমে রনি কোনোভাবেই মুখ খুলতে রাজি হচ্ছিল না এবং যাবতীয় প্রলোভন উপেক্ষা করছিল। কিন্তু পারুল যখন তাকে জীবনের চরম ঝুঁকির ভয় দেখায়, তখন রনি ভেঙে পড়ে এবং স্বীকার করে যে টগরকে রাজস্থানের এক প্রভাবশালী রাজা কিনে নিয়েছেন। শুধু টগর নয়, তার সাথে আরও ছয়জন মেয়েকে সেখানে বন্দী করে রাখা হয়েছে এই খবর শুনে পারুল প্রচণ্ড আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।

ওদিকে বাড়িতে টগরের নিখোঁজ হওয়া এবং পারুলদের বিপদের আশঙ্কায় সবাই চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে। বিশেষ করে রায়ানের ঠাকুমা পরিবারের সকলের মঙ্গলের জন্য এবং টগরের অক্ষত প্রত্যাবর্তনের কামনায় একমনে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা চালিয়ে যাচ্ছেন। বাড়ির থমথমে পরিবেশ আর অনিশ্চয়তা সবাইকে এক গভীর মানসিক চাপের মধ্যে নিমজ্জিত করে রেখেছে।
পারুল স্থানীয় থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে এক অদ্ভুত পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়। দায়িত্বরত পুলিশ জানায় যে, যে রাজার বিরুদ্ধে তারা অভিযোগ করছে, তাকে এলাকার মানুষ ভগবান মনে করে। রাজার অসীম প্রভাব ও প্রতিপত্তির ভয়ে কোনো পুলিশ সদস্যই তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে বা অভিযোগ গ্রহণ করতে সাহস পায় না। ফলে পারুল ও তার টিম এক বিশাল প্রশাসনিক বাধার মুখে পড়ে।
আরও পড়ুন: আ’ত্মহত্যার পথ বেছে নেন গায়িকার কন্যা বর্ষা! সাফল্যের আড়ালে লুকিয়ে কেবলই য’ন্ত্রণা! মা হয়ে দেখতে হয়েছে সন্তানের মৃ’ত্যু! সেই য’ন্ত্রণা কিভাবে নিজেকে সামলে ছিলেন আশা ভোঁসলে?
এই কঠিন সময়ে থানারই এক নির্ভীক অফিসার গোপনে পারুলদের সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেন। তিনি রাজপ্রাসাদের অবস্থান এবং সেখানে প্রবেশের সম্ভাব্য গোপন পথ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেন। বোনের বিপদের কথা ভেবে পারুল আরও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়ে ওঠে। সে বুক চিরে শপথ করে যে, যেকোনো মূল্যে এবং যেকোনো বিপদের মোকাবিলা করে সে টগরকে উদ্ধার করে আনবেই; তার বেঁচে থাকতে বোনের কোনো ক্ষতি কেউ করতে পারবে না।

