আ’ত্মহত্যার পথ বেছে নেন গায়িকার কন্যা বর্ষা! সাফল্যের আড়ালে লুকিয়ে কেবলই য’ন্ত্রণা! মা হয়ে দেখতে হয়েছে সন্তানের মৃ’ত্যু! সেই য’ন্ত্রণা কিভাবে নিজেকে সামলে ছিলেন আশা ভোঁসলে?

কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোঁসলে (Asha Bhosle)-র জীবনের গল্প শুধু সাফল্য আর খ্যাতির নয়, তার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে গভীর ব্যক্তিগত বেদনার অধ্যায়। জীবনে দু’বার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন তিনি। প্রথম স্বামী ছিলেন Ganpatrao Bhosle এবং দ্বিতীয় স্বামী Rahul Dev Burman। প্রথম পক্ষের সংসার থেকেই তাঁর তিন সন্তান—হেমন্ত, বর্ষা এবং আনন্দ। তবে দ্বিতীয় বিয়ের পর এক সময় সন্তানদের সঙ্গে সাময়িক দূরত্ব তৈরি হলেও, পরে তা আবার মিটে যায় ভালোবাসার বন্ধনে।

আশার জীবনের সবচেয়ে বড় আঘাতগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল তাঁর সন্তানদের নিয়ে দুঃখজনক ঘটনা। বড় ছেলে হেমন্ত ভোঁসলের মৃত্যু হয় ক্যানসারের কারণে, যা মায়ের জীবনে গভীর শোকের ছাপ ফেলে। তার কিছুদিন পরই আরও এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে, যা যেন তাঁকে ভেঙে দেয় ভিতর থেকে। তাঁর মেয়ে বর্ষা ভোঁসলের অকালমৃত্যু পুরো পরিবারকে নাড়িয়ে দেয়।

আরও পড়ুনঃ ‘অনেক কিছু ঘটে গিয়েছে, জন্মদিনের পরেই হঠাৎ…’ ‘স্কুলে পাঠানোর আগেই দেখলাম খুব কাশি হচ্ছে!’ কি হয়েছে ছোট্ট কেশবের? জানালেন অভিনেত্রী মধুবনী গোস্বামী!

যে সময় এই ঘটনা ঘটে, তখন আশা ভোঁসলে সিঙ্গাপুরে একটি অনুষ্ঠানে ছিলেন। সেই সময়েই নিজের বাড়িতে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে আত্মহত্যা করেন বর্ষা। বাড়ির কর্মচারী প্রথম তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। খবর পৌঁছতেই ভেঙে পড়েন আশা, দ্রুত মুম্বই ফিরে আসেন তিনি। এক মায়ের জন্য এর চেয়ে বড় দুঃখ আর কিছুই হতে পারে না, যা তাঁর জীবনকে চিরতরে বদলে দেয়।

জানা যায়, ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন এবং মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন বর্ষা। সেই কঠিন সময় থেকেই তিনি এই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এই ঘটনার প্রভাব পড়ে গোটা মঙ্গেশকর পরিবারে। বিশেষ করে Lata Mangeshkar দীর্ঘদিন ধরে এই শোক সামলে উঠতে পারেননি এবং পরিবারের মধ্যে এক গভীর বিষাদের আবহ তৈরি হয়।

তবুও সময়ের সঙ্গে নিজেকে সামলে নিয়েছিলেন আশা ভোঁসলে। এক সাক্ষাৎকারে তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেছিলেন, তিনি বিশ্বাস করেন একদিন আবার মেয়ের সঙ্গে তাঁর দেখা হবে। এই বিশ্বাসই হয়তো তাঁকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল জীবনের কঠিনতম সময়গুলো পেরিয়ে। তাঁর জীবন তাই শুধু সুরের নয়, এক অসীম সাহস এবং সহ্যশক্তিরও গল্প।

Back to top button