‘ভুলটা ঠিক কার ছিল?’ ‘রাহুলের মৃ’ত্যু দুর্ঘটনা নয়!’ শিল্পী ফোরামের কড়া হুঁশিয়ারি! শ্যুটিং সেটের চরম গাফিলতি! বিস্ফোরক সব্যসাচী চক্রবর্তী!

টলিউডের (Tollywood) অত্যন্ত প্রতিভাবান ও জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rahul Banerjee) অকাল প্রয়াণে শোকস্তব্ধ গোটা বিনোদন জগৎ। সম্প্রতি তাঁর স্মরণে আয়োজিত একটি শোক সভায় ইন্ডাস্ট্রির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত হয়ে তাঁদের প্রিয় অভিনেতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তবে এই সভা কেবল স্মৃতিচারণাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি বরং শ্যুটিং সেটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা নিয়ে একগুচ্ছ কঠিন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। শোকে মূহ্যমান সহকর্মীদের কণ্ঠে যেমন ছিল প্রিয় বন্ধুকে হারানোর যন্ত্রণা, তেমনই ছিল কর্মক্ষেত্রের অব্যবস্থা নিয়ে চরম ক্ষোভ।
বর্ষীয়ান অভিনেতা সব্যসাচী চক্রবর্তী এই সভায় অত্যন্ত কড়া ভাষায় শ্যুটিং সেটের পরিকাঠামো নিয়ে তোপ দেগেছেন। তিনি রাহুলের মৃত্যুকে নিছক দুর্ঘটনা হিসেবে মেনে নিতে অস্বীকার করে একে ‘গাফিলতি’ বলে চিহ্নিত করেছেন। তাঁর মতে, শ্যুটিং চলাকালীন যারা দায়িত্বে ছিলেন, তাঁরা সুরক্ষা ও নিরাপত্তার বিষয়ে আপস করেছিলেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন যে, এই ধরণের আপসের ফলেই আমরা একজন গুণী শিল্পীকে হারালাম, যা কোনোভাবেই কাম্য ছিল না। রাহুলের মায়ের শোকের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন যে, একজন মায়ের সামনে সন্তানের এই ধরণের চলে যাওয়া দেখা অসম্ভব যন্ত্রণার।
রাহুলের চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছেন না তাঁর দীর্ঘদিনের বন্ধু ও সহকর্মী গৌরব চট্টোপাধ্যায়। শোকাতুর কণ্ঠে তিনি রাহুলের সাথে কাটানো অসংখ্য মুহূর্তের স্মৃতিচারণা করেন। বিশেষ করে তাঁদের একটি গোয়া ভ্রমণের মজার ঘটনা উল্লেখ করে তিনি জানান, রাহুল ছিলেন আদ্যোপান্ত প্রাণবন্ত একজন মানুষ। গৌরব বলেন যে, রাহুল কেবল দুঃখ দিয়ে নয়, বরং তাঁর অফুরন্ত হাসিখুশি স্বভাব এবং মেধার জন্য আজীবন মানুষের মনে বেঁচে থাকবেন। তাঁর মতে, রাহুলকে কেবল শোকের আবহ দিয়ে নয়, বরং তাঁর জীবনের বর্ণময় দিকগুলো দিয়েই উদযাপন করা উচিত।
এই মর্মান্তিক ঘটনার বিচার চেয়ে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে সরব হয়েছে শিল্পী মহল। শ্রমজীবী ক্যান্টিনের উদ্যোগে ‘জাস্টিস ফর রাহুল’ শীর্ষক এই কর্মসূচিতে উপস্থিত শিল্পীরা সাফ জানিয়েছেন যে, এই ঘটনার পেছনে যাদের গাফিলতি রয়েছে, তাদের শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। ইতিমধ্যেই আর্টিস্ট ফোরাম এবং ফেডারেশনের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, অভিযুক্তদের সাথে আপাতত কাজ করবেন না কোনো শিল্পী। শিল্পীদের এই একজোট হওয়া বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, টলিউড এবার কর্মক্ষেত্রের সুরক্ষা নিয়ে আর কোনো আপস করতে রাজি নয়।
আরও পড়ুনঃ প্রচারের ভিড়েই হঠাৎ অসুস্থ সোহেল দত্ত! প্রচন্ড য’ন্ত্রণা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি অভিনেতা! এখন কেমন আছেন তিনি?
রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় শুধুমাত্র একজন অভিনেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন অত্যন্ত পড়াশোনা জানা এবং রুচিবান একজন ব্যক্তিত্ব। তাঁর এই শূন্যতা পূরণ হওয়া কঠিন। টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্র জগতে তিনি যে অবদান রেখে গিয়েছেন, তা অমলিন। তবে তাঁর এই মৃত্যু বাংলা বিনোদন দুনিয়ার সামনে এক বড় আয়না ধরে দিল, যেখানে শ্যুটিং সেটের পরিকাঠামো এবং টেকনিশিয়ান ও শিল্পীদের জীবনের নিরাপত্তার বিষয়টি নতুন করে ভাবনার দাবি রাখে। রাহুলের জন্য বিচার চাওয়া এখন গোটা টলিউডের অঙ্গীকার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

