শূন্য থেকে নতুন করে ফের শূন্যেই প্রত্যাবর্তন! ‘দিন আনি দিন খাই…’ ‘হাতে কোন কাজ নেই…’ কঠিন সময়ের মধ্যে নতুন করে পথ খুঁজছেন শৈবাল ভট্টাচার্য!

২০২২ সালের এক কঠিন সময় আচমকাই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছিলেন অভিনেতা শৈবাল ভট্টাচার্য। হাতে কাজের অভাব আর আর্থিক প্রতারণার ধাক্কায় তাঁর জীবন যেন এক মুহূর্তে থমকে গিয়েছিল। প্রায় ১২ লক্ষ টাকার জালিয়াতির শিকার হয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। সেই সময় এতটাই হতাশ হয়ে পড়েছিলেন যে নিজের জীবন শেষ করে দেওয়ার মতো ভয়ংকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন অভিনেতা, যা তাঁর জীবনের সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায় হয়ে রয়েছে।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে আবার গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন শৈবাল। দীর্ঘ ৩০ বছরের অভিনয় জীবনের অভিজ্ঞতা তাঁকে বারবার ফিরে আসার শক্তি জুগিয়েছে। তিনি জানান, অভিনয়ই তাঁর সব, অন্য কোনও পেশায় নিজেকে কল্পনাও করতে পারেন না। ছোটবেলা থেকেই এই জগতের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে আজও সেই টানই তাঁকে বাঁচিয়ে রেখেছে। যদিও বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁর জীবন অনেকটাই অনিশ্চয়তার মধ্যে দিয়ে এগোচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ ‘চেয়ার ছাড়ুন, নিরপেক্ষ তদন্ত হতে দিন’! ‘মিথ্যে বলে লাভ নেই, আমার কাছে স্ক্রিপ্টটা এখনও আছে!’ সেটে নিরাপত্তায় গাফিলতি? নাকি পেশাদারিত্বের অভাব? হুশিয়ারি পরিচালক পারমিতা মুন্সীর!
২০২৫ সালে কিছু ধারাবাহিকে কাজের সুযোগ পেলেও তা স্থায়ী হয়নি। ‘শ্রীমান ভগবান দাস’ এবং ‘ফুলকি’-র মতো ধারাবাহিকে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই কাজ থেকে যে আয় হয়েছে, তা দিয়ে কোনওরকমে সংসার চালানোই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য। প্রতিদিনের খরচ, বিদ্যুতের বিল সব মিলিয়ে আর্থিক চাপ ক্রমশ বাড়ছে। তবুও স্ত্রী তাঁর পাশে থাকায় মানসিকভাবে কিছুটা শক্ত থাকতে পারছেন অভিনেতা।
বর্তমানে কাজের অভাব আরও একবার তাঁকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। ডিসেম্বরের পর থেকে তেমন কোনও কাজ হাতে নেই। ‘তারে ধরি ধরি মনে করি’ ধারাবাহিকে অভিনয়ের কথা থাকলেও এখনও পর্যন্ত তাঁর চরিত্রটি সেভাবে সামনে আসেনি। ফলে নতুন করে কাজের অপেক্ষায় দিন কাটছে তাঁর। এই অনিশ্চয়তা তাঁকে বারবার চিন্তার মধ্যে ফেলছে।
এদিকে পারিবারিক দায়িত্বও কম নয়। মেয়েও তাঁর সঙ্গে থাকেন এবং অসুস্থতার কারণে বাড়ির পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি নাতির দেখভালের দায়িত্বও তাঁর কাঁধে। সব মিলিয়ে জীবনের প্রতিটি দিন যেন নতুন লড়াই। তবুও হাল ছাড়তে নারাজ শৈবাল ভট্টাচার্য, কারণ তাঁর বিশ্বাস একদিন আবার সব ঠিক হবে, আর তিনি ফিরবেন নিজের প্রিয় মঞ্চে আরও শক্তভাবে।

