‘আসল ছুরি দিয়ে শুটিং, সেদিন মৃ’ত্যু পর্যন্ত হতে পারতো আমার!’ ‘রোজ মদ খেয়ে প্রোডিউসার…’ জনপ্রিয় প্রোডাকশন হাউসের গাফিলতি! মৃ’ত্যুর মুখ থেকে ফেরা! ভয়ংকর অভিজ্ঞতা শেয়ার করলেন অভিনেত্রী নিকিতা দাস!

বাংলা টেলিভিশনের (Bengali Television) অত্যন্ত পরিচিত ও জনপ্রিয় মুখ হলেন অভিনেত্রী নিকিতা দাস (Nikita Das)। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি নিজের অভিনয় দক্ষতা দিয়ে দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছেন। জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘জড়োয়ার ঝুমকো’-তে তার অভিনয় আজও দর্শকদের মনে গেঁথে আছে। এছাড়া ‘যমুনা ঢাকি’-র মতো হিট মেগা সিরিয়ালেও তাকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা গিয়েছে। বহুমুখী চরিত্রে অভিনয় করে নিজেকে টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে প্রতিষ্ঠিত করলেও, অভিনেত্রীর কেরিয়ারের শুরুর দিনগুলো মোটেও মসৃণ ছিল না। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের কাজের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনের নানা মুহূর্ত ভাগ করে নিলেও, সম্প্রতি তিনি যে তথ্য সামনে এনেছেন তা কার্যত নাড়িয়ে দিয়েছে গোটা ইন্ডাস্ট্রিকে।
বর্তমানে বাংলা টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রিতে প্রোডাকশন হাউসের গাফিলতি এবং কলাকুশলীদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম বিতর্ক চলছে। অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল প্রয়াণের পর থেকেই ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে চাপা ক্ষোভ আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়েছে। স্টুডিও পাড়ায় নিয়ম করে সভা হচ্ছে, চলছে প্রতিবাদ। ঠিক এই আবহেই অভিনেত্রী নিকিতা দাস মুখ খুলেছেন তার জীবনের এক বিভীষিকাময় অধ্যায় নিয়ে। গ্রাস রুট প্রোডাকশন হাউসের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে তিনি অভিযোগ করেছেন, কীভাবে দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কারণে শুটিং সেটে তাকে মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয়েছিল। অভিনেত্রীর এই বয়ান বর্তমান অস্থির পরিস্থিতিতে আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়েছে।
নিকিতা জানান, ঘটনার সূত্রপাত ২০১৬ সালে, যখন তিনি কালার্স বাংলা চ্যানেলের ‘মীরা’ ধারাবাহিকে অভিনয় করছিলেন। সেই সময়কার কাজের পরিবেশ নিয়ে একগুচ্ছ অভিযোগ তুলে ধরেছেন তিনি। অভিনেত্রীর দাবি, কালার্স বাংলার মতো বড় চ্যানেলের কাজ হলেও শুটিং সেটে ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা ছিল না। জুন মাসের অসহ্য গরমেও তাদের কোনও এসি রুম দেওয়া হতো না, ছোট একটি নন-এসি রুমেই মেকআপ থেকে শুরু করে সমস্ত কাজ করতে হতো। কিন্তু এই প্রতিকূল পরিস্থিতির চেয়েও ভয়ঙ্কর ছিল প্রোডাকশন হাউসের নিরাপত্তার অভাব, যা অভিনেত্রীকে আজীবন বয়ে বেড়ানোর মতো এক গভীর ক্ষত উপহার দিয়েছে।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগটি উঠে এসেছে একটি অ্যাকশন দৃশ্যের শুটিংকে কেন্দ্র করে। একটি দৃশ্যে ছুরির ব্যবহার ছিল, যেখানে নিয়ম অনুযায়ী নকল ছুরি বা ডামি ব্যবহার করার কথা। কিন্তু প্রোডাকশন হাউসের পক্ষ থেকে আসল ছুরি দিয়েই শুট করতে বাধ্য করা হয়। নিকিতা জানান, সেই দৃশ্যের জন্য কোনও আলাদা নিরাপত্তা বা সেফটি মেজার্স ছিল না। জুন মাসের ভ্যাপসা গরমে শুটিং চলার সময় ঘামে হাত পিছলে যায় এবং সেই ধারালো আসল ছুরিটি সরাসরি অভিনেত্রীর গলায় গিয়ে লাগে। সামান্য এদিক-ওদিক হলেই প্রাণ সংশয় হতে পারত নিকিতার। গলায় সেই গভীর কাটা দাগ আজও সেই গাফিলতির সাক্ষ্য দিচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ ‘ওই ভয়ানক জায়গায় আমাকে জলে নামতে…আমাদের প্রাণের কি কোনো দাম নেই?’ মৃ’ত্যুমুখ থেকে ফিরে আসা! তিস্তার প্রবল স্রোতে দেড় ঘণ্টা আটকে ছিলেন অভিনেত্রী রূপালী ভট্টাচার্য!
অভিনেত্রী নিজের সোশ্যাল মিডিয়া ভিডিওর মাধ্যমে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন যে, প্রোডাকশন হাউসের সামান্য গাফিলতি কীভাবে একজন শিল্পীর জীবন কেড়ে নিতে পারে। বর্তমানে রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে যখন গোটা টলিউড উত্তাল, তখন নিকিতার এই পর্দাফাঁস নতুন করে বিতর্ক উসকে দিল। প্রোডাকশন হাউসগুলোর কেবল লাভের চিন্তা না করে শিল্পীদের নিরাপত্তা এবং কাজের পরিবেশের দিকে নজর দেওয়া যে কতটা জরুরি, তা নিকিতা দাসের এই যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতা আবারও প্রমাণ করে দিল। ইন্ডাস্ট্রি জুড়ে এখন একটাই প্রশ্ন আর কতজন শিল্পীকে এভাবে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হবে?

