‘ওই ভয়ানক জায়গায় আমাকে জলে নামতে…আমাদের প্রাণের কি কোনো দাম নেই?’ মৃ’ত্যুমুখ থেকে ফিরে আসা! তিস্তার প্রবল স্রোতে দেড় ঘণ্টা আটকে ছিলেন অভিনেত্রী রূপালী ভট্টাচার্য!

বাংলা টেলিভিশনের (Bengali Television) পরিচিত মুখ অভিনেত্রী রূপালী ভট্টাচার্য (Rupali Bhattacharya) তাঁর সাবলীল অভিনয়ের জন্য দর্শকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। দীর্ঘ দিন ধরে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করার সুবাদে তিনি বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছেন। তবে পর্দার হাসিখুশি চেহারার আড়ালে একজন অভিনেত্রীকে কতটা কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হয়, সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রূপালী সেই অভিজ্ঞতাই শেয়ার করেছেন। তাঁর সাহসী কথাবার্তা ও স্পষ্টবাদিতা বর্তমান সময়ে টলিপাড়ার অনেক অজানা দিক সামনে নিয়ে এসেছে।
রূপালী ভট্টাচার্য জানান, একবার পাহাড়ি নদী তিস্তা ও রঙ্গিতের সংযোগস্থলে শুটিং করার সময় তিনি প্রায় মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছিলেন। নদীর প্রবল স্রোতের মধ্যে একটি ছোট্ট পাথরের ওপর ভর করে তাঁকে প্রায় দেড় ঘণ্টা জলের নিচে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছিল। অথচ সেই বিপদের সময় প্রোডাকশন হাউসের পক্ষ থেকে তাঁকে সাহায্য করার বা নিরাপত্তা দেওয়ার কোনো ব্যবস্থাই করা হয়নি। স্রেফ কাজের তাগিদে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে তাঁকে ওই অবস্থায় থাকতে হয়েছিল।
অভিনেত্রী আক্ষেপ করে জানান যে, কারিগরি সমস্যার কারণে ক্যামেরা আসতে দেরি হচ্ছিল, আর সেই দীর্ঘ সময় তাঁকে ওই বিপজ্জনক অবস্থায় জলের মধ্যেই দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করে কাজ করতে যাই, কিন্তু বিপদের সময় সেই ভরসা রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এই ঘটনাটি সামনে আসার পর সাধারণ মানুষের মনেও প্রশ্ন জেগেছে যে, গ্ল্যামারের জগতের আড়ালে শিল্পীদের কতটা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয়।
বর্তমানে স্টুডিও পাড়ায় যে কর্মবিরতি বা কাজ বন্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে রূপালী ভট্টাচার্য স্পষ্ট কথা বলেছেন। তিনি জানান, এই লড়াই শুধু টাকা-পয়সার জন্য নয়, বরং এটি জীবনের অধিকার রক্ষার লড়াই। সম্প্রতি একজন সহকর্মীর মৃত্যু সবাইকে নাড়িয়ে দিয়েছে। তাই এখন আর চুপ থাকা সম্ভব নয়। শিল্পীরা সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, যতক্ষণ না কাজের জায়গায় নিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছে, ততক্ষণ তাঁরা এই প্রতিবাদ চালিয়ে যাবেন।
আরও পড়ুনঃ ‘বাড়িতে বসে থাকলে মাস মাইনে পাই না, তাও আমরা…’ এতটা ক্ষতি সহ্য করেও কেন এই পদক্ষেপ? টলিউডের অচলাবস্থা নিয়ে সরব অঞ্জনা বসু!
অভিনেত্রী দাবি করেছেন যে, শুটিং সেটে নিরাপত্তার জন্য কিছু কড়া নিয়ম তৈরি করতে হবে। যেমন স্ক্রিপ্ট বা মেকআপ রুম পাওয়া একজন শিল্পীর অধিকার, ঠিক তেমনি শুটিংয়ের সময় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যবস্থাও থাকতে হবে। তিনি আশা করেন যে, খুব দ্রুত প্রযোজক ও শিল্পী সংগঠনগুলো মিলে একটি সুন্দর ও নিরাপদ কাজের পরিবেশ তৈরি করবে, যাতে আর কাউকে এমন পরিস্থিতির শিকার হতে না হয়।

