‘বাড়িতে বসে থাকলে মাস মাইনে পাই না, তাও আমরা…’ এতটা ক্ষতি সহ্য করেও কেন এই পদক্ষেপ? টলিউডের অচলাবস্থা নিয়ে সরব অঞ্জনা বসু!

টলিউড (Tollywood) ইন্ডাস্ট্রির জনপ্রিয় এবং অভিজ্ঞ অভিনেত্রী অঞ্জনা বসু (Anjana Basu) সম্প্রতি স্টুডিও পাড়ার উত্তাল পরিস্থিতি নিয়ে নিজের স্পষ্ট অভিমত ব্যক্ত করেছেন। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে অভিনয়ের সাথে যুক্ত থাকা অঞ্জনা বরাবরই সোজা সাপটা কথা বলতে পছন্দ করেন। বর্তমানে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বাংলা টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রিতে যে প্রতিবাদের আগুন জ্বলছে, সেই প্রেক্ষিতেই তিনি কলাকুশলীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। শিল্পী ও টেকনিশিয়ানদের স্বার্থ রক্ষায় কেন এই কর্মবিরতি অপরিহার্য হয়ে উঠেছে, তা নিয়েই তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলেছেন।

অভিনেত্রীর কথায় উঠে এসেছে ইন্ডাস্ট্রির এক রূঢ় বাস্তব। তিনি বলেছেন, “একজন মানুষের মৃত্যু সহজ নয়। আমরা এতজন আর্টিস্ট, কলাকুশলী—আমাদের জীবনও এত সহজ নয়।” অঞ্জনা বসুর এই মন্তব্যের গভীরতা অনেক। এখানে তিনি কেবল রাহুলের মৃত্যুর কথাই বলছেন না, বরং পর্দার পেছনের মানুষগুলোর প্রতিদিনের হাড়ভাঙা খাটুনি এবং নিরাপত্তাহীনতার কথা বুঝিয়েছেন। তাঁর মতে, যখন একজন সহকর্মীর প্রাণের দাম দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়, তখন কেবল অভিনয় চালিয়ে যাওয়া কোনো পেশাদারিত্ব হতে পারে না; বরং সেটি অমানবিকতা।

ইন্ডাস্ট্রির আর্থিক কাঠামোর দিকে আঙুল তুলে তিনি একটি বড় সত্য সামনে এনেছেন। অঞ্জনা জানিয়েছেন, “আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে আমরা কাজ করলে তবে আমাদের রোজগার হয়। আমরা বাড়িতে বসে থাকলে মাস মাইনে হয় না।” এই কথাটির মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, শুটিং বন্ধ থাকা মানে তাঁদের প্রতিটি দিনের আয় বন্ধ হওয়া। কোনো ফিক্সড স্যালারি বা কর্পোরেট সুযোগ-সুবিধা না থাকা সত্ত্বেও কেন তাঁরা স্বেচ্ছায় এই ক্ষতি মেনে নিচ্ছেন, সেই প্রশ্নটিই তিনি সমাজের কাছে ছুঁড়ে দিয়েছেন। এর বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করার চেয়ে সম্মানের লড়াই আজ তাঁদের কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নিজের বক্তব্যে তিনি আরও যোগ করেন, “এতটা ক্ষতি সহ্য করেও আমরা এরকম একটা পদক্ষেপ নিচ্ছি, মানে সেরকমই একটা কোনো স্ট্রং কিছু ভবিষ্যতেও হতে চলেছে।” অঞ্জনার এই বিশ্লেষণ ইঙ্গিত দেয় যে, এই আন্দোলন কেবল সাময়িক ক্ষোভ নয়, বরং দীর্ঘদিনের জমে থাকা বঞ্চনার বহিঃপ্রকাশ। প্রযোজনা সংস্থাগুলোর একাধিপত্য এবং শিল্পী-কলাকুশলীদের কাজের পরিবেশের মানোন্নয়নই এখন তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। তিনি বিশ্বাস করেন, আজকের এই ছোট ক্ষতিটুকু মেনে না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় বিপদের সম্মুখীন হতে হবে গোটা টলিউড পরিবারকে।

আরও পড়ুনঃ ষ’ড়যন্ত্রের জালে গোরা! গোরার মুখে কালি মাখাতে গিয়ে ব্যর্থ রক্তিম! ঢাল হয়ে সামনে দাঁড়িয়ে কড়া জবাব দিল দিতি! দুর্ধর্ষ আজকের আর

অঞ্জনা বসুর এই বার্তা সমগ্র শিল্পী মহলের ঐক্যের প্রতীক। যেখানে নিজের পকেটের কথা না ভেবে টেকনিশিয়ান থেকে শুরু করে জুনিয়র আর্টিস্ট সকলের প্রাণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি বদ্ধপরিকর। টলিউডের এই অচলাবস্থা কতদিন চলবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও, অঞ্জনার মতো অভিজ্ঞ শিল্পীদের এই দৃঢ় অবস্থান সাধারণ মানুষের কাছেও ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের অন্ধকার দিকগুলো স্পষ্ট করে দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, প্রোডিউসার গিল্ড এবং স্টেকহোল্ডাররা এই ‘স্ট্রং’ পদক্ষেপের পর কাজের পরিবেশে কী ধরণের ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসেন।

Back to top button