কাজের বদলে কুপ্রস্তাব! টেন্ট মিডিয়ার কর্ণধার সুশান্ত দাসের বিরুদ্ধে মানসিক ও পেশাগত হে’নস্থার অভিযোগ জনপ্রিয় অভিনেত্রীর!

টলিপাড়ার (Tollywood) অন্দরমহল আবারও উত্তাল। জাস্টিস হেমা কমিটির রিপোর্টের পর থেকে দক্ষিণ ভারতীয় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে যে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল, তার ঢেউ এবার সজোরে আছড়ে পড়েছে বাংলা সিরিয়াল ও সিনেমা জগতে। এবার সরাসরি অভিযোগের তির উঠেছে ‘টেন্ট মিডিয়া’-র (Tent Media) কর্ণধার এবং নামী প্রযোজক-পরিচালক সুশান্ত দাসের (Susanta Das) বিরুদ্ধে। একজন তরুণী অভিনেত্রী সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে মানসিক ও পেশাগত শোষণের যে বিস্ফোরক বয়ান দিয়েছেন, তা নিয়ে বর্তমানে স্টুডিও পাড়ায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
অভিযোগকারী অভিনেত্রীর দাবি অনুযায়ী, সুশান্ত দাস ইন্ডাস্ট্রিতে এক ‘বিকৃত মানসিকতার’ পরিবেশ তৈরি করে রেখেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, সিরিয়ালের মুখ্য চরিত্রে কাজ দেওয়ার নাম করে অনেক মেয়েকে নোংরা পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। যারা এই ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট’ বা অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি হয় না, তাদের কাজ কেড়ে নেওয়া হয় অথবা ইন্ডাস্ট্রি থেকে কার্যত একঘরে করে দেওয়া হয়। অভিনেত্রীর কথায়, “যারা প্রতিবাদ করে, তারা কাজ পায় না ইন্ডাস্ট্রি থেকে কার্যত বাদ পড়ে যায়।” এই ‘কাস্টিং কাউচ’ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ টলিপাড়ার পেশাদারিত্বের অন্ধকার দিকটিকে আবারও জনসমক্ষে নিয়ে এসেছে।
সুশান্ত দাসের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত স্তরে হেনস্থার অভিযোগও এনেছেন ওই অভিনেত্রী। তাঁর বয়ান অনুযায়ী, সুশান্ত দাস কেবল কর্মক্ষেত্রে নয়, অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত জীবনেও ঢুকে পড়ে অতিষ্ঠ করে তুলেছিলেন। এমনকি অভিনেত্রীর বাবার কাছে তাঁর সম্পর্কে মিথ্যা কথা বলে পারিবারিক সম্পর্ক নষ্ট করার চেষ্টাও করা হয়েছিল। একাকী শহরে থাকা একটি মেয়ের স্বপ্ন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা এবং তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে দেওয়ার এই সুপরিকল্পিত অভিযোগ বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে।
বর্তমানে টলিউডের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। আরজি কর আবহে কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে যে প্রতিবাদের সুর চড়েছে, তার মধ্যেই একের পর এক পাওয়ার হাউজ ব্যক্তিত্বদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসায় শিল্পীরা দু’দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। একদিকে যেমন ‘উইমেন ইন সিনেমা কালেক্টিভ’-এর আদলে বাংলায় সুরক্ষাবন্ধন বা বিভিন্ন ফোরাম তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে অভিযোগ উঠছে যে ইন্ডাস্ট্রিতে একটি শক্তিশালী ‘লবি’ বা ‘মাফিয়া রাজ’ কাজ করছে যারা নতুন প্রতিভা ও প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরদের দমন করে।
এই ঘটনার জল কতদূর গড়াবে, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। টেন্ট মিডিয়া বা সুশান্ত দাসের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক পালটা প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলেও, স্টুডিও পাড়ার সাধারণ কলাকুশলী থেকে শুরু করে নামী অভিনেতারাও এই বিষয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। যদি এই অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে টলিউডের প্রযোজনা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন এবং ইন্টারনাল কমপ্লেন কমিটি (ICC)-র কার্যকারিতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠবে। এখন দেখার, প্রশাসন বা আর্টিস্ট ফোরাম এই অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো কড়া পদক্ষেপ নেয় কি না।

