‘একজন মানুষ মারা গেছেন এই জন্য…আমাকে ব্ল্যাকলিস্ট করা হতে পারে!’ ‘আমার জায়গাটা আসলে…’ শাস্তি নাকি প্রতিহিংসা? রাহুলের প্রয়াণে হারাতে হচ্ছে কাজ! মুখ খুললেন ভিভান ঘোষ!

টলিউড (Tollywood) টেলিভিশন জগতের অত্যন্ত পরিচিত এবং জনপ্রিয় মুখ হলেন অভিনেতা ভিভান ঘোষ (Vivaan Ghosh)। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি বাংলা সিরিয়াল প্রেমীদের মনে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন। ‘সাত পাকে বাঁধা’, ‘কৃষ্ণকলি’, বা সাম্প্রতিক সময়ের ‘চিরসখা’ প্রতিটি ধারাবাহিকেই তার অভিনয় দক্ষতা দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। পেশায় অভিনেতা হলেও ভিভান আদতে একটি ব্যবসায়িক পরিবারের সন্তান এবং এই ইন্ডাস্ট্রিতে তিনি বরাবরই স্পষ্টবক্তা হিসেবে পরিচিত। কাজের প্রতি তার নিষ্ঠা এবং সহকর্মীদের প্রতি তার সহমর্মিতা তাকে সহভিনেতাদের কাছেও অত্যন্ত প্রিয় করে তুলেছে। সম্প্রতি ইন্ডাস্ট্রি যে অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, সেখানে নিজের ক্যারিয়ার বা ‘ব্ল্যাকলিস্ট’ হওয়ার তোয়াক্কা না করেই তিনি যেভাবে সাধারণ কলাকুশলীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তা তাকে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
টলিউডের এই সাম্প্রতিক ঝড়ের মূলে রয়েছে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যু। তার এই অকাল প্রয়াণ পুরো ইন্ডাস্ট্রিকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। শুটিং সেটে নিরাপত্তা এবং গাফিলতির যে প্রশ্নগুলো উঠেছে, তার ভিত্তিতে বর্তমানে পুলিশের তদন্ত চলছে। এই পরিস্থিতিতে আর্টিস্ট ফোরাম এবং ফেডারেশন সম্মিলিতভাবে কিছু কড়া সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো সংশ্লিষ্ট প্রযোজনা সংস্থার কাজ থেকে বিরত থাকা। তবে এই প্রতিবাদের আঁচ পড়েছে মূলত ম্যাজিক মোমেন্টস পরিচালিত ধারাবাহিকগুলোর ওপর। রাহুলের মৃত্যুর তদন্ত প্রক্রিয়াকে ভিভানসহ ইন্ডাস্ট্রির প্রতিটি সদস্যই পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন, কারণ সবারই দাবি কার গাফিলতিতে এমন প্রাণহানি হলো তা অবশ্যই প্রকাশ্যে আসা উচিত।
এই প্রতিবাদের জের ধরে ‘চিরসখা’ এবং ‘ভলে বাবা পার করেগা’র মতো জনপ্রিয় সিরিয়ালগুলোর কাজ থমকে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভিভান। তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন ‘ব্যান কালচার’ বা অলিখিত কর্মবিরতি নিয়ে। ভিভানের মতে, যারা মূল অভিযুক্ত তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলুক, কিন্তু তার ফলে যেন সাধারণ টেকনিশিয়ান, লাইটম্যান বা মেকআপ আর্টিস্টদের পেটে টান না পড়ে। তিনি অত্যন্ত আক্ষেপের সঙ্গে জানান যে, একটি প্রোডাকশন বন্ধ হয়ে যাওয়া মানে প্রায় ৭০-৮০ জন মানুষের সংসার অনিশ্চয়তার মুখে পড়া। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি শ্লেষ মিশিয়ে ‘বেকার ভাতা’র ফর্ম কোথায় পাওয়া যায় তা জানতে চেয়েছিলেন, যা আসলে ওই অসহায় কর্মীদের অবস্থার দিকে আঙুল তোলারই একটি নামান্তর।
ইন্ডাস্ট্রির এই প্রতিকূল পরিবেশে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে গিয়ে ভিভান জানান, তিনি কারো পক্ষ নিয়ে নয় বরং মানবতার খাতিরে কথা বলছেন। তিনি স্বীকার করেছেন যে, এই মুহূর্তে প্রযোজনা সংস্থার হয়ে বা সংগঠনের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে কথা বলায় তাকে হয়তো ‘ব্ল্যাকলিস্ট’ করা হতে পারে। তবুও তিনি স্পষ্ট জানান যে, গত কয়েকদিনে অন্য হাউস থেকে কাজের অফার আসা সত্ত্বেও তিনি নিজের পিঠ বাঁচাতে পালাননি। সংগঠনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই তিনি অনুরোধ করেছেন যেন দোষীদের শাস্তির পাশাপাশি নির্দোষ কর্মীদের কর্মসংস্থান ফেরানোর কথা ভাবা হয়। তিনি মনে করেন, তদন্তের পাশাপাশি চাকা ঘুরতে থাকা জরুরি, কারণ নিম্ন মধ্যবিত্ত কর্মীদের জন্য প্রতিদিনের রোজগার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুনঃ বছরের শুরুতেই বন্ধ হল চলতি কাজ? ‘চিরসখা’ বন্ধে ভেঙে পড়লেন রাজা ও গোস্বামী! স্ত্রীকে পাশে নিয়ে কি বললেন অভিনেতা?
‘চিরসখা’র মতো একটি সফল ধারাবাহিক এভাবে অসম্পূর্ণ অবস্থায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অভিনেতা হিসেবে ভিভান মানসিকভাবে ব্যথিত। তার অভিনীত ‘বুবলাই’ চরিত্রটি দর্শকদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় হয়ে উঠেছিল এবং এই সফরটি এভাবে শেষ হবে তা তিনি কল্পনাও করেননি। বর্তমানে কাজহীন অবস্থায় থাকলেও তিনি এখনই নতুন কোনো প্রজেক্টে যোগ দেওয়ার কথা ভাবছেন না। বরং তিনি আশাবাদী যে, খুব দ্রুত সত্যের জয় হবে এবং ইন্ডাস্ট্রির অভিভাবকরা সাধারণ কর্মীদের কথা বিবেচনা করে কোনো ইতিবাচক সমাধানে পৌঁছাবেন। রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্মৃতি আগলে রেখে টলিপাড়া যেন আবার আগের মতো স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসে, এটাই এখন তার এবং প্রতিটি কলাকুশলীর একমাত্র প্রার্থনা।

