‘রাহুল কি ড্রোনটা বগলদাবা করে নিয়ে গিয়েছিল রিল বানাবে বলে?’ অভিনেতা রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃ’ত্যুতে বিস্ফোরক রূপসা গুহ!

অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rahul Banerjee) অকাল মৃত্যুতে টলিপাড়ার শোকের আবহ এখন ক্ষোভে পরিণত হয়েছে। রাহুলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বান্ধবী ও অভিনেত্রী রূপসা গুহ (Rupsha Guha) সরাসরি প্রোডাকশন হাউসের গাফিলতি নিয়ে সরব হয়েছেন। রূপসা প্রশ্ন তুলেছেন নিরাপত্তা নিয়ে, তিনি বলেন “রাহুল কি ড্রোনটা রিল বানানোর জন্য বগলদাবা করে নিয়ে গিয়েছিল? আমাদের থেকে ডেডিকেশন এক্সপেক্ট করো, কিন্তু আমাদের সেফটি তোমরা দিও। আমরা সেফ থাকতে চাই।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, শুটিং সেটে শিল্পীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোনো সঠিক পরিকল্পনাই ছিল না। তাঁর দাবি, যদি ড্রোন শট নেওয়া হয়ে থাকে, তবে কেন সেখানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তারক্ষী বা উদ্ধারকারী দল মজুত ছিল না?
ঘটনার পর থেকে তথ্যের যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে রূপসা চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে ঘটনার ধোঁয়াশা পরিষ্কার করার দাবি জানিয়ে বলেন “একেক সময় একেকটা ভার্সন শুনছি। ফার্স্ট শুনলাম শুটিং প্যাক-আপের পর এমনি গিয়েছিল, তারপর শুনলাম স্রেফ পা ডুবিয়েছিল, এখন শুনছি ড্রোন সিন ছিল। যত দিন যাচ্ছে তথ্য ক্রমশ প্রকাশ পাচ্ছে। আমাদের ক্ল্যারিটি দরকার।” রূপসার এই কথাগুলো থেকে পরিষ্কার যে, ঘটনার প্রকৃত সত্য ধামাচাপা দেওয়ার একটা চেষ্টা চলছে। তিনি মনে করেন, প্রশাসন ও আর্টিস্ট ফোরামের সামনে প্রতিটি তথ্য স্বচ্ছভাবে আসা উচিত যাতে দোষীদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়।
পেশাগত জীবনের বাইরে রাহুলের সাথে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্কের গভীরতা প্রকাশ করতে গিয়ে রূপসা বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন। রাহুলের কাজের প্রতি নিষ্ঠার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন “রাহুলকে বলতাম সিন এমন করবি না, সর্বস্ব দিয়ে দিবি না, কিছু নিজের জন্য রেখে দিবি। ও যে সর্বস্ব দিয়ে দেবে জানতাম। কিন্তু এভাবে কেন? আমরা শুটিংয়ে হাসতে হাসতে যেতে চাই এবং হাসতে হাসতে ফিরতে চাই। আমরা কেউ ডেড বডি হয়ে ফিরতে চাই না।” একজন শিল্পীর মৃত্যু যে কেবল একটি খবর নয়, বরং একটি পরিবারের ধ্বংস সেই যন্ত্রণাই রূপসার কথায় ফুটে উঠেছে। তিনি মনে করেন, রাহুলের মতো একজন ‘হীরের টুকরো’ ছেলেকে হারানোর দায় কোনোভাবেই ইন্ডাস্ট্রি এড়াতে পারে না।
রাহুলের প্রয়াণে তাঁর পরিবারের সদস্যদের অসহায় অবস্থার কথা তুলে ধরে রূপসা আরও বলেন “একজন মা তাঁর ছেলেকে হারিয়েছে, একজন স্ত্রী তাঁর স্বামীকে হারিয়েছে, আর সহজ তার বাবাকে হারিয়েছে। আমি আমার পরম প্রিয় বন্ধুকে হারিয়েছি। এই শোক কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।” তিনি মনে করেন, একজন অভিনেতার মৃত্যু মানে কেবল পর্দায় একটি মুখ কমে যাওয়া নয়, বরং একটি সাজানো সংসারের অন্ধকার হয়ে যাওয়া। বিশেষ করে রাহুলের ছোট ছেলে সহজের ভবিষ্যৎ এবং পরিবারের এই মানসিক ভাঙন তাঁকে সবথেকে বেশি বিচলিত করেছে। এই অপূরণীয় ক্ষতির জন্য তিনি পরোক্ষভাবে অব্যবস্থাকেই দায়ী করেছেন।
আরও পড়ুনঃ ‘আমরা মূর্খ, আমাদের মূর্খামির গালে সজোরে থাপ্পড় মেরে গেল রাহুল!’ শুটিং সেটে নিরাপত্তা নিয়ে বি’স্ফোরক কৌশিক সেন!
সবশেষে রূপসা সমস্ত প্রোডাকশন হাউসের প্রতি একটি কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন যে শিল্পীরা কেবল খ্যাতির মোহময়ী হাতছানিতে কাজ করতে আসেন না। তিনি বলেন “আমরা নাম-যশ-টাকা এসব ভেবে আসিনি, আমরা শিল্পী হতে এসেছিলাম। আমাদের একটা সুন্দর পরিবেশ দাও যাতে আমরা কাজ শেষে পরিবারের কাছে ফিরতে পারি।” রূপসার এই আকুতি এখন টলিউডের প্রতিটি টেকনিশিয়ান এবং শিল্পীর কণ্ঠে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। তাঁর মতে, রাহুলের এই আত্মত্যাগ যেন বিফলে না যায় এবং ভবিষ্যতে প্রতিটি স্টুডিও বা আউটডোর লোকেশন যেন শিল্পীদের জন্য মৃত্যুফাঁদ না হয়ে ওঠে, প্রশাসনকে তা নিশ্চিত করতে হবে।

