‘ফাঁকফোকর ছিলই, প্রতিদিন চোখ খোলে কিন্তু কেউ দেখে না!’ বিশ্বনাথ বসুর ভয়াবহ অভিজ্ঞতা! চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল টলিউডের অন্ধকার দিক!

গত কয়েকদিন ধরেই টলিপাড়ার (Tollywood) অন্দরমহলে ক্ষোভের আগুন ধিকিধিকি জ্বলছিল, যা মঙ্গলবার এক বিশাল বিদ্রোহের রূপ নিল। অভিনেতা রাহুলের (Rahul Banerjee) অকাল প্রয়াণ যেন ইন্ডাস্ট্রির দীর্ঘদিনের অব্যবস্থা এবং শিল্পীদের নিরাপত্তার অভাবকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। সহকর্মীর এই মর্মান্তিক পরিণতিতে শোকস্তব্ধ গোটা টলিপাড়া। আর সেই শোক থেকেই এবার প্রতিবাদের ভাষা খুঁজে নিয়েছেন কলাকুশলীরা। শিল্পীদের জীবনের নিরাপত্তা এবং কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ সুনিশ্চিত করার দাবিতে মঙ্গলবার সকাল থেকেই স্টুডিওপাড়ায় কর্মবিরতির ডাক দেওয়া হয়েছে, যার জেরে থমকে গেছে একাধিক মেগা সিরিয়াল ও সিনেমার কাজ।

ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। বহু বছর ধরে কাজ চললেও শুটিং সেটে শিল্পীদের নিরাপত্তার জন্য আদতে কোনো লিখিত গাইডলাইন বা প্রোটোকল ছিল না বললেই চলে। অনেক শিল্পীই অভিযোগ করেছেন যে, এতদিন কেবল ‘ভাগ্যের জোরে’ বা সহকর্মীদের সহায়তায় তারা বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছেন। কিন্তু রাহুলের মৃত্যু প্রমাণ করে দিয়েছে যে, সেই ফাঁকফোকরগুলো কতটা ভয়ংকর হতে পারে। শুটিং ফ্লোরে পর্যাপ্ত অগ্নি-নির্বাপক ব্যবস্থা থেকে শুরু করে যান্ত্রিক গোলযোগ এড়ানোর মতো নূন্যতম পরিকাঠামো নিয়েও এখন জোরালো প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

এই উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যেই ভিডিওতে ধরা দিলেন অভিনেতা বিশ্বনাথ বসু। সাক্ষাৎকারে তার চোখেমুখে ছিল উদ্বেগ এবং সহকর্মীকে হারানোর যন্ত্রণা। শুটিং সেটের নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি তুলে ধরেন এক ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা। তিনি জানান, একবার শুটিং চলাকালীন একটি ভারী বক্স হঠাৎই তার মাথায় পড়তে যাচ্ছিল। সেই সময় অভিনেতা জিতের হেয়ার ড্রেসার তাকে কোনোমতে রক্ষা করেন। বিশ্বনাথের মতো একজন অভিজ্ঞ অভিনেতার এই বয়ান প্রমাণ করে দেয় যে, টলিপাড়ার সেটে বিপদ কতটা ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকে এবং কীভাবে এতদিন নূন্যতম সুরক্ষা ছাড়াই কাজ চালিয়ে নেওয়া হয়েছে।

রাহুলের এই মর্মান্তিক মৃত্যু কেবল একটি শোকের ঘটনা নয়, বরং এটি টলিউডের সিস্টেমের প্রতি এক বিশাল ধাক্কা। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে স্টুডিওর মেকআপ রুম—সর্বত্রই এখন একটাই আলোচনা, কেন এতদিন এই সমস্যাগুলো এড়িয়ে যাওয়া হয়েছিল? অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রীর মতে, প্রতিদিন নতুন নতুন সমস্যার সম্মুখীন হতে হলেও তা কখনো জনসমক্ষে আসেনি। কিন্তু আজকের এই ক্ষতি অপূরণীয়, যা পুরো ইন্ডাস্ট্রিকে থমকে দাঁড়াতে এবং নিজেদের ভুলগুলো নতুন করে দেখতে বাধ্য করেছে। প্রত্যেকেই এখন এক সুরে দাবি তুলছেন যে, আর কোনো ‘রাহুল’কে যেন অকালে ঝরে যেতে না হয়।

আরও পড়ুনঃ ‘এটাই আমাদের শেষ হাতিয়ার!’ চ্যানেল ও প্রযোজকদের চরম হুঁশিয়ারি অভিনেত্রী অনন্যা চ্যাটার্জির! কি করতে চলেছে টলিউড?

বর্তমানের এই পরিস্থিতির জেরে টলিপাড়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে বড়সড় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। প্রযোজক ও সংগঠনের পক্ষ থেকে আলোচনার আশ্বাস দেওয়া হলেও, শিল্পীরা এবার আর শুধু মুখে কথা শুনে শান্ত হতে রাজি নন। নিরাপত্তা বিধি কঠোর করা, কাজের নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ এবং সেটের যান্ত্রিক পরিকাঠামো নিয়মিত পরীক্ষা করার মতো দাবিগুলো পূরণ না হলে এই আন্দোলন আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বা প্রযোজক সংগঠনের ইতিবাচক সিদ্ধান্তে এই অচলাবস্থা কবে কাটে এবং টলিপাড়া আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসে কি না।

Back to top button