‘আমরা সব জেনেই ঝুঁকি নিই’! মহারাজের মন্তব্যে শোরগোল টলিপাড়ায়! রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রয়াণে কর্মপরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন পাওলি দাম!

টলিউড (Tollywood) থেকে বলিউড নিজের অভিনয় দক্ষতায় সর্বত্র ছাপ ফেলেছেন পাওলি দাম (Paoli Dam)। ২০০৪ সালে টেলিভিশন ধারাবাহিক দিয়ে কেরিয়ার শুরু করলেও গৌতম ঘোষের ‘কালবেলা’ ছবির মাধ্যমে তিনি বড় পর্দায় রাতারাতি জনপ্রিয়তা পান। এরপর ‘হেমলক সোসাইটি’, ‘মাছের ঝোল’ থেকে শুরু করে ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও তাঁর জয়যাত্রা অব্যাহত। সাহসী অভিনয় এবং স্পষ্টবাদী ব্যক্তিত্বের জন্য পরিচিত পাওলি এবার শ্যুটিং সেটের পরিকাঠামো এবং শিল্পীদের ঝুঁকি নিয়ে মুখ খুললেন।

সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে পাওলি নাম না করে এক প্রভাবশালী ব্যক্তির মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন। প্রসঙ্গত, শ্যুটিং চলাকালীন অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল মৃত্যুর পর চারদিকে প্রশ্ন উঠেছিল কেন অত ঝুঁকি নিয়ে জলে নামা হয়েছিল? এই ‘কেন’র উত্তরে পাওলি জানান, শিল্পীরা সবসময়ই ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন। হোক সে হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় বরফের মধ্যে সিফন শাড়ি পরে অভিনয় অথবা ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে শট দেওয়া তাঁরা সব জেনেশুনেই করেন।

পাওলি অত্যন্ত আক্ষেপের সঙ্গে জানান যে, একজন অভিনেতা যখন ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান, তখন তাঁর মাথায় থাকে শুধুমাত্র নিজের সেরাটা দেওয়ার তাগিদ। যাকে তিনি ‘প্যাশনেট শট’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অভিনেতা বা অভিনেত্রীরা নিজের স্বাস্থ্যের কথা না ভেবে কেবল চরিত্রের প্রয়োজনেই সেই ঝুঁকিগুলো নেন। কিন্তু সেই মুহূর্তগুলোকে নিরাপদ রাখা বা কোনও বড় বিপদ থেকে শিল্পীকে রক্ষা করা শুধুমাত্র সেই ব্যক্তির একার দায়িত্ব হতে পারে না। অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর শোনা গিয়েছিল যে, সৌরভ প্রশ্ন তুলেছিলেন কেন অত ঝুঁকি নিয়ে অভিনেতা জলে নেমেছিলেন? এই প্রশ্নের জবাবে পাওলি অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে জানান যে, একজন প্রকৃত শিল্পী বা ‘প্যাশনেট’ অভিনেতা সবসময় তাঁর কাজের প্রতি দায়বদ্ধ থাকেন এবং চরিত্রের প্রয়োজনে হাড়কাঁপানো ঠান্ডা বা তুষারপাতের মধ্যেও নামমাত্র ‘সিফন শাড়ি’ পরে শ্যুটিং করতে পিছপা হন না।

পাওলির মতে, অভিনেতারা নিজেদের প্রাণের মায়া ত্যাগ করে শুধুমাত্র একটি ‘পারফেক্ট শট’ দেওয়ার জন্যই এমন ঝুঁকি নেন। এই প্রসঙ্গে পাওলি ‘টিমওয়ার্ক’ বা সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। তাঁর মতে, একটি সিনেমা বা ধারাবাহিক তৈরি করা মানেই হলো একটি বড় টিমের কাজ। সেখানে শুধু পরিচালক বা চিত্রগ্রাহক থাকলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। শ্যুটিং স্পটে অভিনেতা যখন কোনও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কাজ করেন, তখন যাতে সেই ঝুঁকি কোনোভাবেই দুর্ঘটনার রূপ না নেয়, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব প্রোডাকশন এবং ইউনিটের প্রতিটি সদস্যের।

আরও পড়ুন: ‘জয়েন্টের খাতায় লিখেছিলাম আসছে বছর আবার হবে’, ‘জানিনা জীবন আমাকে দ্বিতীয় সুযোগ দেবে কিনা…’ না, জীবনে দ্বিতীয় সুযোগ দেয়নি! বিপদ জানা সত্ত্বেও নিরাপত্তাহীনতার মাঝে ফেলে কিছুটা মে’রেই ফেলা হলো অভিনেতা রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়কে!

পরিশেষে, পাওলির এই বক্তব্য টলিউড ইন্ডাস্ট্রির এক গভীর ক্ষতকে সামনে এনে দিয়েছে। অভিনেতা রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক প্রয়াণ যে নিছকই একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং পেশাদারী ক্ষেত্রে নিরাপত্তার অভাবের এক করুণ পরিণতি সেটাই যেন মনে করিয়ে দিলেন তিনি। পাওলির মতে, শিল্পীদের আবেগ এবং পরিশ্রমের সম্মান দিতে হলে শ্যুটিং সেটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে, যাতে আগামীতে আর কোনও প্রতিভাকে অকালে হারিয়ে যেতে না হয়।

Back to top button