‘ড্রোন ফুটেজ দেখলেই বোঝা যাবে ক্রু কোথায় ছিল!’ রাহুলের মৃ’ত্যু কি নিছক দুর্ঘটনা নাকি চরম গাফিলতি? উঠে এলো বিস্ফোরক তথ্য!

বাংলা টেলিভিশন জগতের অত্যন্ত পরিচিত মুখ রাহুল ব্যানার্জির (Rahul Banerjee) অকাল প্রয়াণে শোকাতুর টলিপাড়া। তবে এই শোক কেবল বিলাপের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা রূপ নিয়েছে এক বিশাল প্রতিবাদী মিছিলে। অভিনেতার মৃত্যুর সঠিক কারণ এবং শুটিং সেটের অব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাজপথে নামলেন টলিউডের প্রথম সারির অভিনেতা, অভিনেত্রী এবং টেকনিশিয়ানরা। সোমবার কলকাতার রাজপথে আয়োজিত এই পদযাত্রা থেকে সরাসরি আঙুল তোলা হয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রোডাকশন হাউসের দিকে। উপস্থিত সকলেরই এক দাবি—”জাস্টিস ফর রাহুল”, অর্থাৎ রাহুলের অকাল মৃত্যুর সঠিক বিচার এবং ইন্ডাস্ট্রির সকল কর্মীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তের এক মোহনা সংলগ্ন এলাকায় শুটিং চলাকালীন। প্রত্যক্ষদর্শী এবং সহ-শিল্পীদের একাংশের দাবি, শুটিংয়ের সময় সমুদ্রে জোয়ার বা চোরাবালির প্রবল ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও প্রোডাকশন হাউসের পক্ষ থেকে কোনো আগাম সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি। এমনকি জরুরি পরিস্থিতির মোকাবিলা করার জন্য সেটে কোনো অ্যাম্বুলেন্স বা প্রাথমিক চিকিৎসার (সিপিআর) ব্যবস্থা ছিল না। মিছিলে অংশগ্রহণকারী এক সিনিয়র টেকনিশিয়ান ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন যে, যেখানে বিপজ্জনক পরিবেশে ড্রোন শট নেওয়া হচ্ছিল, সেখানে কেন লাইফ-সেভিং গার্ড বা দক্ষ উদ্ধারকারী দল মোতায়েন ছিল না, তার জবাব প্রোডাকশন হাউসকে দিতেই হবে।

সবচেয়ে বেশি বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে রাহুলকে নিয়ে করা কিছু ‘নেতিবাচক’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ উঠেছে যে, দুর্ঘটনার দায় এড়াতে প্রোডাকশন হাউসের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে যে প্যাক-আপের পর রাহুল ব্যক্তিগত কারণে জলে নেমেছিলেন। এমনকি তার পেশাদারিত্ব নিয়ে কিছু অবমাননাকর ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে। এর প্রতিবাদে সরব হয়ে জনপ্রিয় এক অভিনেত্রী জানান, রাহুল গত ২৫ বছর ধরে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে কাজ করছেন এবং তিনি কোনোভাবেই দায়িত্বজ্ঞানহীন ছিলেন না। বরং ড্রোন ফুটেজ খতিয়ে দেখলে স্পষ্ট হবে যে শুটিং চলাকালীনই দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল এবং সেই সময় ক্রু মেম্বাররা ঠিক কোথায় ছিলেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে অভিনেতার পরিবার ও সহকর্মীরা আইনি লড়াইয়ের পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ইতোমধ্যেই স্থানীয় থানায় একটি এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে যেখানে ঘটনার পারিপার্শ্বিক অসংগতিগুলো তুলে ধরা হয়েছে। শিল্পীদের দাবি, প্রোডাকশন হাউস একেক সময় একেক রকম বয়ান দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। আসল সত্য সামনে আনতে হলে পুলিশের কঠোর তদন্ত প্রয়োজন। মৃত মানুষের নামে মিথ্যে কলঙ্ক লেপন না করে বরং কেন সেটে নিরাপত্তা বিধি (Safety Protocol) লঙ্ঘন করা হলো, সেই দিকেই এখন তদন্তের মূল ফোকাস হওয়া উচিত বলে মনে করছেন ইন্ডাস্ট্রির বিশিষ্টজনেরা।

আরও পড়ুনঃ ‘এরকম কমফোর্টজোন শুধুমাত্র…’ রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃ’ত্যু বিতর্কে ভিন্ন সুর! ম্যাজিক মোমেন্টস-এর পাশে দাঁড়ালেন ভিভান ঘোষ!

পরিশেষে, এই পদযাত্রা কেবল রাহুলের জন্য বিচার চাওয়া নয়, বরং টলিউডের কাজের পরিবেশ পরিবর্তনের এক জোরালো আহ্বান। অভিনেতা-অভিনেত্রীদের পাশাপাশি হাজার হাজার টেকনিশিয়ান যারা রোদে-জলে পুড়ে শুটিং করেন, তাদের প্রাণের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে চিন্তাভাবনার দাবি উঠেছে। ফেডারেশন এবং আর্টিস্ট ফোরামের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এরপরে একটি জরুরি মিটিং ডাকা হবে যেখানে আউটডোর শুটিংয়ের নিরাপত্তা সংক্রান্ত কঠোর নির্দেশিকা তৈরি করা হবে। রাহুলের এই ট্র্যাজিক বিদায় যেন ভবিষ্যতে আর কোনো শিল্পীর প্রাণ না কেড়ে নেয়, সেই সংকল্প নিয়েই শেষ হয় এদিনের মৌন মিছিল।

Back to top button