শুটিংয়ের আড়ালে চরম দুর্নীতি! ‘ফালতু প্রোডাকশন, একটা মানুষের প্রাণ চলে গেল!’ ‘এখনই ওনার সমস্ত ধারাবাহিক বন্ধ করা হোক…’ লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের ধারাবাহিক বয়কটের দাবি দর্শকদের!

টলিউড (Tollywood) অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rahul Banerjee) অকাল প্রয়াণ কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না তাঁর অগণিত ভক্ত ও সাধারণ দর্শকরা। ওড়িশার তালসারি সমুদ্র সৈকতে ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং চলাকালীন জলে ডুবে তাঁর এই মৃত্যুকে নেহাত ‘দুর্ঘটনা’ হিসেবে মানতে নারাজ নেটিজেনদের একাংশ। সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিবাদের ভাষা। দর্শকদের দাবি, যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই কেন সমুদ্রের মতো বিপজ্জনক জায়গায় শুটিংয়ের ঝুঁকি নেওয়া হয়েছিল? এই গাফিলতির দায় কার, তা নিয়ে এখন উত্তাল ফেসবুক-এক্স হ্যান্ডেলগুলো।
অভিযোগের তির সরাসরি গিয়ে লেগেছে বাংলা ধারাবাহিকের জনপ্রিয় চিত্রনাট্যকার ও প্রযোজক লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের দিকে। নেটিজেনদের দাবি, একের পর এক অবাস্তব ও কুরুচিকর গল্পের গরু গাছে তুলে দর্শক টানার চেষ্টা করা হলেও শিল্পীদের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে বিন্দুমাত্র সচেতন নয় প্রযোজনা সংস্থা। সাধারণ মানুষের মতে, লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের তৈরি “চিরসখা” বা “কনে দেখা আলো”-র মতো ধারাবাহিকগুলো সমাজকে কোনো ইতিবাচক বার্তা তো দেয়ই না, বরং পরকীয়া ও উগ্র ড্রামায় ভরপুর থাকে। এই আক্রোশ থেকেই এখন দাবি উঠেছে, শুধুমাত্র শুটিং বন্ধ রাখলে চলবে না, বরং এই ধরনের ‘জঘন্য’ মানের সিরিয়ালগুলো পাকাপাকিভাবে বন্ধ করতে হবে।
সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন গ্রুপে দর্শকদের ক্ষোভের সুর অত্যন্ত চড়া। অনেকে লিখছেন, “রোমান্টিক সিনের নামে যা দেখানো হয় তা অত্যন্ত নিম্নমানের। এগুলো দেখে একদল মানুষ হয়তো আনন্দ পায়, কিন্তু সুস্থ রুচির মানুষের কাছে তা অসহ্য।” রাহুলের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এই পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এখন লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের সমস্ত ধারাবাহিক বয়কটের আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। দর্শকদের স্পষ্ট কথা—যে ইন্ডাস্ট্রি বা যে প্রযোজনা সংস্থা একজন দক্ষ অভিনেতাকে নিরাপত্তা দিতে পারে না, তাদের তৈরি কন্টেন্ট বর্জন করাই শ্রেয়।
এই ঘটনার পেছনে গভীর দুর্নীতির গন্ধও পাচ্ছেন অনেকে। শুটিংয়ের জন্য পুলিশের অনুমতি ছিল কি না, কিংবা সেফটি প্রোটোকল মানা হয়েছিল কি না তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। নেটিজেনদের দাবি, এর পেছনে হয়তো প্রভাবশালী একাধিক ব্যক্তি যুক্ত রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই অব্যবস্থা ও স্বজনপোষণের রাজনীতির কারণেই আজ একজন প্রতিভাবান অভিনেতাকে অকালে চলে যেতে হলো। প্রতিবাদীদের বক্তব্য, যতক্ষণ না সত্য সামনে আসছে এবং দোষীরা শাস্তি পাচ্ছে, ততক্ষণ এই আন্দোলন থামবে না।
আরও পড়ুনঃ সম্পত্তি বিলিয়ে দেওয়ায় বাবার ওপর চড়াও রক্তিম! বাবার অপমানের যোগ্য জবাব দিল অদ্বিতীয়া! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব
পরিশেষে, রাহুলের মৃত্যুর সঠিক বিচার এবং বাংলা ধারাবাহিকের মানের আমূল পরিবর্তন চাইছে আমজনতা। টলিউড আর্টিস্ট ফোরাম থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ—সবাই এখন একজোট হয়ে সরব হয়েছেন। লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রযোজনা সংস্থা ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’-এর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ এবং আর্থিক ক্ষতিপূরণের দাবিও উঠেছে। দর্শকদের একটাই আর্জি, বিনোদনের নামে যেন আর কোনো প্রাণ অকালে ঝরে না যায় এবং ভবিষ্যতে সুস্থ ও সুরক্ষিত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা হয়।

