সবার সামনে বাধ্য হয়ে মুখ খুলল রায়ান! অবশেষে স্বীকার করল পারুলের প্রতি নিজের ভালোবাসা! জমে ক্ষীর আজকের পর্ব!

জি বাংলার (Zee Bangla) পরিণীতা ধারাবাহিকে (Parineeta) গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, সকাল হতেই রায়ানের বাড়িতে কান্নাকাটি আর দুশ্চিন্তার পরিবেশ তৈরি হয়। দাদু, বাবা আর কাকা মিলে ঘোষণা করেন যে তাদের সাজানো ব্যবসায় হঠাৎ বিশাল বড় লোকসান হয়ে গিয়েছে। বাড়ির বড়দের মুখে চিন্তার ছাপ থাকলেও রায়ানের মনে হচ্ছিল বাবা আর দাদু মিলে কিছু একটা গোপন করছেন। এই অস্থিরতার মাঝেই বিকেলে ঋক তার পরিবারকে নিয়ে পারুলদের বাড়িতে হাজির হয় এবং সরাসরি পারুলকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে বসে। এই ঘটনায় রায়ান আর পারুল দুজনেই খুব অবাক হয়ে যায়।

রায়ানের বিশ্বাসই হচ্ছিল না যে হঠাৎ করে একটা লাভজনক ব্যবসা কীভাবে লাটে উঠতে পারে। সে পারুলকে বুঝিয়ে বলে যে এর পেছনে নিশ্চয়ই কোনো রহস্য আছে। তারা ঠিক করে আজ রাতেই লুকিয়ে দোকানে গিয়ে সব হিসাবপত্র পরীক্ষা করবে। কিন্তু তাদের এই পরিকল্পনার কথা মৈনাক আড়াল থেকে শুনে দাদুকে জানিয়ে দেয়। দাদু তখন তড়িঘড়ি করে রায়ানের কাকাকে ফোন করে সাবধান করে দেন। রায়ান বুদ্ধি খাটিয়ে রাত ১২টা পর্যন্ত অপেক্ষা না করে তার আগেই পারুলকে নিয়ে দোকানের দিকে রওনা দেয়।

Bengali serial

দোকানে পৌঁছে রায়ান আর পারুল কম্পিউটারের সব ফাইল আর খাতা চেক করতে শুরু করে। কিন্তু সেখানে দেখা যায় সত্যিই ব্যবসার অবস্থা খুব খারাপ এবং কয়েক হাজার টাকা লস হয়েছে। এটা দেখে পারুল রায়ানের ওপর খুব রেগে যায়। তার মনে হয় রায়ানের কথায় দাদুকে সন্দেহ করে সে অনেক বড় পাপ করেছে। পারুল ঠিক করে সে এখনই বাড়ি ফিরে দাদুর কাছে ক্ষমা চাইবে। রায়ান বারবার বোঝানোর চেষ্টা করলেও পারুল দাদুর অপমানে ভীষণ কষ্ট পায় এবং নিজেকে অপরাধী মনে করতে থাকে।

বাড়ি ফিরেই পারুল দাদুর কাছে গিয়ে কাঁদতে কাঁদতে ক্ষমা চায়। দাদু তখন পরিস্থিতি বুঝে দারুণ এক নাটক শুরু করেন। তিনি এমনভাবে আবেগ দিয়ে কথা বলতে থাকেন যাতে রায়ান নিজের ভুল বুঝতে পারে এবং পারুলের প্রতি তার যে টান আছে সেটা সবার সামনে বেরিয়ে আসে। বাড়ির বাকি সবাইও রায়ানের ওপর খুব চোটপাট করতে থাকে। তাদের কথা ছিল, রায়ান যেহেতু পারুলের কোনো দায়িত্ব নিতে পারছে না, তাই ঋকের সাথে পারুলের বিয়েতে বাধা দেওয়ার কোনো অধিকার তার নেই।

 

তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে দাদু চিৎকার করে রায়ানকে বলেন, “তুমি কেন ঋকের সাথে পারুলের বিয়ে দিতে চাইছ না? তুমি কি পারুলকে ভালোবাসতে পেরেছ? কোনোদিন কি ওর দায়িত্ব নেওয়ার সাহস দেখিয়েছ?” দাদুর এই বারবার করা প্রশ্নে রায়ান আর নিজেকে সামলাতে পারে না। সে রেগে গিয়ে সবার সামনে চিৎকার করে স্বীকার করে নেয় যে, হ্যাঁ সে পারুলকে ভালোবাসে। রায়ানের মুখে এই সত্যি কথা শুনে বাড়ির সবাই পাথরের মতো স্তব্ধ হয়ে যায়। এখন দেখার বিষয়, রায়ানের এই স্বীকারোক্তির পর পারুলের বিয়ে নিয়ে পরিবার কী সিদ্ধান্ত নেয়।

Back to top button