‘আমি ম’রে গেলে কি শান্তি পাবেন? যখন বলেছিলাম তখন তো…’ রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে নিজের ছবিতে মালা দিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন জিতু কমল! কাঠগড়ায় ক্ষমতাবান প্রোডাকশন হাউস!

টলিউড (Tollywood) অভিনেতা জিতু কামাল (Jeetu Kamal) বর্তমান প্রজন্মের অন্যতম প্রতিভাবান এবং জনপ্রিয় মুখ। ছোট পর্দা থেকে অভিনয় সফর শুরু করে আজ তিনি বড় পর্দার এক প্রতিষ্ঠিত অভিনেতা। বিশেষ করে ‘অপরাজিত’ সিনেমায় সত্যজিৎ রায়ের আদলে তাঁর অভিনয় দর্শক ও সমালোচক মহলে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। অত্যন্ত ধীরস্থির এবং মার্জিত অভিনেতা হিসেবে পরিচিত থাকলেও, সম্প্রতি তাঁর এক চরম পদক্ষেপ স্টুডিও পাড়ায় শোরগোল ফেলে দিয়েছে। মূলত পেশাদারিত্বের অভাব এবং শিল্পীদের সুরক্ষায় ফোরামের নির্লিপ্ততা তাঁকে এই প্রতিবাদের পথে হাঁটতে বাধ্য করেছে।
ঘটনার সূত্রপাত একটি প্রোডাকশন হাউসের অপেশাদার আচরণকে কেন্দ্র করে। জিতু জানান, একটি প্রজেক্টের শুটিং চলাকালীন তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন, এমনকি তাঁর শ্বাসনালিতেও সমস্যা দেখা দিয়েছিল। সুস্থ হয়ে ফেরার পর মানবিক আচরণের পরিবর্তে তাঁকে প্রবল ঝড়-বৃষ্টি ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে শুটিং করতে বাধ্য করা হয়। অভিনেতার অভিযোগ, চন্দননগরে শুটিং চলাকালীন তাঁকে নোংরা ভাষায় গালিগালাজও করা হয়। নিজের এবং সহযোগীদের সম্মান রক্ষার্থে তিনি সরব হলেও প্রোডাকশন হাউসের পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি।
এই সংকটের সময়ে শিল্পীদের অভিভাবক সংগঠন ‘আর্টিস্ট ফোরাম’-এর ভূমিকা নিয়ে সবথেকে বড় প্রশ্ন তুলেছেন জিতু। তিনি দাবি করেন, গোটা ঘটনা জানিয়ে ফোরামকে একাধিকবার ইমেইল করলেও তাঁর কোনো উত্তর দেওয়া হয়নি। তাঁর মতে, সংগঠনটি প্রভাবশালী প্রযোজনা সংস্থাগুলোর কথায় চালিত হচ্ছে এবং সাধারণ শিল্পীদের স্বার্থ সেখানে উপেক্ষিত। ফোরামের এই নীরবতা এবং অসহযোগিতার প্রতিবাদেই তিনি নিজের ছবিতে মালা পরিয়ে এক অভিনব ও মর্মান্তিক বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। তাঁর কথায়, “আমি বেঁচে থাকতে যখন কেউ কথা বলছে না, তাই নিজেই নিজের ছবিতে মালা দিলাম।”
জিতু কমল একা নন, এই প্রতিবাদের সুর মিলেছে অভিনেতা রাহুল মজুমদারের প্রতি হওয়া অন্যায়ের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনের সাথেও। ভিডিওটিতে জিতু স্পষ্ট করে বলেন যে তিনি ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, বরং ইন্ডাস্ট্রির সুন্দর পরিবেশের জন্য লড়াই করছেন। টেকনিশিয়ানদের ফেডারেশন যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছে, ফোরাম কেন সেভাবে সক্রিয় নয় তা নিয়ে তিনি ক্ষোভ উগরে দেন। রাহুল মজুমদারের ঘটনার পর থেকেই টলিপাড়ার অভ্যন্তরে যে দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হচ্ছিল, জিতুর এই পদক্ষেপ তাতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
আরও পড়ুনঃ অভিমান মুছে খুব তাড়াতাড়ি ফিরছিলেন ঘরে! তখনই সব কেড়ে নিল নিষ্ঠুর নিয়তি! অপূর্ণই রয়ে গেল রাহুল-প্রিয়াঙ্কার পুনর্মিলনের গল্প!
পরিশেষে, এই দীর্ঘ লড়াইয়ে নিজের কেরিয়ার নিয়ে বিন্দুমাত্র চিন্তিত নন বলে জানিয়েছেন জিতু কমল। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন যে ইন্ডাস্ট্রির এই নোংরা রাজনীতির কারণে যদি তাঁকে কেরিয়ার বিসর্জন দিতে হয় বা ঘরবন্দি হতে হয়, তাতেও তিনি পিছপা হবেন না। তাঁর একমাত্র লক্ষ্য হলো, আগামী দিনের উদীয়মান ও সম্ভাবনাময় শিল্পীরা যেন এমন পলিটিক্সের শিকার না হন এবং তাঁদের যেন মৃত্যুর মুখে ঠেলে না দেওয়া হয়। জিতুর এই সাহসী এবং আবেগঘন প্রতিবাদ এখন টলিউডের অন্দরে ক্ষমতার বিন্যাস ও সংগঠনগুলোর ভূমিকা নিয়ে এক বড়সড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

