বাবার বুদ্ধিতে কুপোকাত রায়ান! তার ঈর্ষাই কি পারুলকে ভালোবাসার স্বীকৃতি দেবে? বউকে হারানোর ভয়ে ভাঙবে রায়ানের মৌনতা! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) পরিণীতা ধারাবাহিকে (Parineeta) গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, সংযুক্তার শয়তানি যেন শেষ হতেই চায় না। পারুলকে মানসিকভাবে ভেঙে দেওয়ার জন্য সে এবার রায়ানের দাদুকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে। সে এক ভয়ঙ্কর শর্ত রাখে দাদুকে যদি বাঁচাতে হয়, তবে পারুল ও রায়ানের মধ্যে একজনকে অন্যজনকে মেরে ফেলতে হবে। কিন্তু রায়ান পারুলকে এতটাই ভালোবাসে যে, সে নিজের জীবন দিতে রাজি হয়ে যায়, তবু পারুলের গায়ে আঁচড় কাটতে দেয় না। রায়ানের এই আত্মত্যাগ দেখে সবাই অবাক হয়ে যায়।

পারুল ও রায়ান সংযুক্তার এই মরণখেলার কাছে হার মানে না। তারা বুদ্ধি করে পালটা লড়াই করার পরিকল্পনা করে। প্রথমে তারা সিসিটিভি ক্যামেরা ও স্পিকার নষ্ট করে দেয়, যাতে সংযুক্তা তাদের কোনো কথা শুনতে না পায়। পারুল দাদুকে ইশারায় বলে রাখে যে, সে গুলি করার সাথে সাথে যেন দাদু চেয়ার থেকে লাফ দেন। এরপর ‘জয় বাবা ভুবনেশ্বর’ বলে পারুল দাদুর শিকল লক্ষ্য করে নিখুঁত গুলি চালায়। সংযুক্তা ওদিকে ইলেকট্রিক বোতাম টিপলেও দাদু লাফ দেওয়ায় প্রাণে বেঁচে যান।

দাদুকে নিয়ে পালানোর সময় সংযুক্তার লোকেরা তাদের ওপর আবার গুলি চালাতে শুরু করে। জীবন বাঁচাতে পারুল ও রায়ান বুদ্ধি করে একটি কাপড়ের দোকানে ঢুকে পড়ে। সেখানে থাকা মানুষের মতো দেখতে পুতুল বা মেনি-কুইনের পাশে তারা স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। খুনিরা তাদের চিনতে না পেরে পাশ দিয়ে চলে যাওয়ার সময় রায়ান তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ঠিক সেই সময়েই পুলিশ এসে পৌঁছায় এবং বিপজ্জনক অপরাধীদের হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়।

এত বড় একটা সন্ত্রাসী দলকে ধরিয়ে দেওয়ার পর চারিদিকে পারুলের জয়জয়কার পড়ে যায়। ঋক বসু নিজে পারুলদের বাড়িতে এসে তাকে অভিনন্দন জানায়। পারুলের সাহসের প্রশংসা করতে করতে ঋক তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায় এবং বলে যে পারুলের মতো এমন সাহসী মেয়ে খুব কমই দেখা যায়। ঋক যখন পারুলকে বারবার ধন্যবাদ দিচ্ছিল, তখন বাড়ির সবাই খুশি হলেও রায়ান ভেতরে ভেতরে ভীষণ রেগে যাচ্ছিল।

আরও পড়ুনঃ ‘কে সুন্দরী বলল, কে কুৎসিত বলল, তাতে আমার ঠ্যাঙা!’ ‘কাউকে ইমপ্রেস করার দায় নেই…’ জোড় গলায় কটাক্ষের কড়া জবাব! আর কিছুই মুখ বুজে সহ্য করবেন না মধুবনী গোস্বামী!

আসলে ঋক বসুর এই অতিরিক্ত প্রশংসা ছিল রায়ানের বাবার একটি সাজানো নাটক। তিনি চেয়েছিলেন রায়ানের মনে একটু হিংসে জাগিয়ে তুলতে। তিনি জানতেন, ঋক পারুলের কাছাকাছি গেলে রায়ান সেটা সহ্য করতে পারবে না এবং রাগের মাথায় হলেও পারুলের প্রতি নিজের ভালোবাসার কথা স্বীকার করে ফেলবে। বাবার এই বুদ্ধি বেশ কাজে দেয়, কারণ ঋককে পারুলের পাশে দেখে রায়ান সত্যিই তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠে। এভাবে এক রোমাঞ্চকর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে তাদের ভালোবাসা আরও গভীর হয়।

Back to top button