“মর’লে একসাথেই মর’ব!” সংযুক্তার অমানবিক শর্তকে বুড়ো আঙুল দেখালো রায়ান-পারুল! দাদুকে বাঁচাতে নিল কঠিন সিদ্ধান্ত! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) পরিণীতা ধারাবাহিকে (Parineeta) গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, বাড়িতে অনিরুদ্ধ, ঠাকুমা এবং রুক্মিণী চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন। রায়ান ও পারুলের ফোন সুইচড অফ থাকায় তাদের ভয় আরও ঘনীভূত হয়। ঠিক সেই মুহূর্তে একটি অজানা প্রাইভেট নম্বর থেকে অনিরুদ্ধর কাছে ফোন আসে। ওপাশ থেকে জানানো হয় যে পরিবারের সবাইকে কিডন্যাপ করা হয়েছে এবং তাদের নিস্তার পাওয়ার কোনো পথ নেই। এই খবর বাড়িতে থাকা সদস্যদের ওপর আকাশ ভেঙে পড়ার মতো আঘাত হানে।

আস্তানায় জ্ঞান ফেরার পর পারুল ও রায়ান নিজেদের বন্দি অবস্থায় আবিষ্কার করে। ঠিক তখনই তাদের সামনে এসে দাঁড়ায় স্বয়ং সংযুক্তা। তাকে জীবিত দেখে পরিবারের সবাই স্তম্ভিত হয়ে যায়। তারা বুঝতে পারে যে, এক বিশাল ষড়যন্ত্রের জালে তারা ফেঁসে গেছে। বিপদের এই মুহূর্তে ভেঙে না পড়ে বসু পরিবারের সদস্যরা একে অপরের হাত শক্ত করে ধরে এবং ঐক্যবদ্ধভাবে মুক্তির পথ খুঁজতে শুরু করে। কিন্তু শিরিন ও সংযুক্তার নিষ্ঠুর পরিকল্পনা তাদের চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে।

Parineeta, Zee Bangla, Bengali Serial, Bengali Television, Ishani Chatterjee, Uday Pratap Singh, Parineeta New Episode, Parineeta Today's Episode 1 April, Today's Episode, পরিণীতা, জি বাংলা, বাংলা সিরিয়াল, বাংলা টেলিভিশন, পরিণীতা আজকের পর্ব, ঈশানি চ্যাটার্জী, উদয় প্রতাপ সিং, পরিণীতা ১ এপ্রিল আজকের পর্ব

শুরুতে পারুল ও রায়ান বুঝতেই পারেনি যে এই নৃশংসতার পেছনে সংযুক্তা ও শিরিন রয়েছে। বন্দি অবস্থায় তাদের খাবার কিংবা জল—কিছুই দেওয়া হচ্ছিল না। সংযুক্তা পরিকল্পনা করেছিল তাদের তিলে তিলে শেষ করে দেওয়ার। প্রতিহিংসার আগুনে অন্ধ হয়ে সে একের পর এক কঠিন বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছিল পুরো পরিবারকে। রায়ানের বাবা-মাকে একটি খাঁচায় বন্দি করে সে এক চরম নিষ্ঠুরতার পরিচয় দেয়।

সংযুক্তা পারুলদের সামনে দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ হিসেবে এক অমানবিক শর্ত রাখে। সে জানায়, রায়ানের বাবা-মাকে বাঁচাতে হলে পারুলকে জ্বলন্ত কাঠকয়লার ভেতর থেকে খালি হাতে চাবি খুঁজে বের করে খাঁচার তালা খুলতে হবে। নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করে পারুল সেই অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখায়। সে জ্বলন্ত কয়লা থেকে চাবি উদ্ধার করে সবাইকে রক্ষা করে। কথা অনুযায়ী, রায়ানের বাবা-মাকে অজ্ঞান অবস্থায় বসু বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং সেখানে পৌঁছে রায়ানের মা সবার মঙ্গলের জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা শুরু করেন।

আরও পড়ুনঃ অভিশপ্ত মার্চ ২০২৬! এবার মৃ’ত্যুর কাছে হার মানলেন এক “মা”! রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃ’ত্যু শোকের মাঝেই টলিউডে ফের দুঃসংবাদ! না ফেরার দেশে অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তীর মা!

এক বিপদ কাটতে না কাটতেই সংযুক্তা তার পরবর্তী টার্গেট স্থির করে। এবার রায়ানের দাদা ও বৌদিকে একটি উঁচু বিল্ডিংয়ের ওপর বেঁধে রেখে পারুলদের সামনে নতুন টাস্ক বা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের জীবন এখন সুতোয় ঝুলছে। প্রতিকূল এই পরিস্থিতিতে পারুল ও রায়ান কীভাবে তাদের উপস্থিত বুদ্ধি ও সাহসের জোরে দাদা-বৌদিকে উদ্ধার করে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

ওদিকে পারুলকে মানসিকভাবে ভেঙে চুরমার করে দিতে সংযুক্তা এক ভয়াবহ ষড়যন্ত্রের জাল বোনে। দাদুর জীবনকে বিপন্ন করে সে পারুল আর রায়ানের সামনে এক অমানুষিক শর্ত রাখে। দাদুকে বাঁচাতে হলে তাদের একজনকে অন্যজনকে মারতে হবে। এই কঠিন মুহূর্তে রায়ান তার ভালোবাসার চূড়ান্ত প্রমাণ দেয় সে পরিষ্কার জানিয়ে দেয় যে, পারুলকে আঘাত করার চেয়ে সে নিজে মরে যেতে রাজি। কিন্তু পারুল আর রায়ান দুজনেই এই নিষ্ঠুর খেলার কাছে হার না মেনে এক সাহসী সিদ্ধান্ত নেয়। তারা একে অপরকে শেষ না করে বরং একসাথে বাঁচার আর লড়াই করার পথ বেছে নেয়, যা প্রমাণ করে দেয় যে কোনো পরিস্থিতির চেয়ে তাদের সম্পর্কের বাঁধন অনেক বেশি শক্তিশালী।

Back to top button